মেহেরপুরের দুই ভাষাসৈনিক জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

প্রকাশিত:শনিবার, ১৬ ফেব্রু ২০১৯ ০৬:০২

মেহেরপুরের দুই ভাষাসৈনিক জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

 

মেহেরপুরের ভাষা সৈনিক নজির হোসেন বিশ্বাস (৮৩) ও ইসমাইল হোসেন (৮০) আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দু‘জনেই বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকরুদ্ধ তারা। জেলার সাত ভাষা সৈনিকের মধ্যে বেঁচে আছেন এ দু’জন।

একুশে ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসন থেকে দেয়া সংবর্ধনা ছাড়া তারা পাননি ভাষা সৈনিকের প্রকৃত সম্মান। তারপরও তারা বাংলাদেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন দেখে যেতে চান।

১৯৫৩ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করতে গিয়ে পুলিশের নির্যাতনসহ কারাবরণ করতে হয় তাদের। ১৯৫৫ সালে মেহেরপুর উচ্চ ইংরেজি মডেল স্কুলের ছাত্ররা একুশে ফেব্রুয়ারি ক্লাস থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিল নিয়ে শহরে বের হয়। শিক্ষকরা শত বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়েও ২১ উদযাপন বন্ধ করতে পারেনি।

শিক্ষকদের আদেশ অমান্য করে একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে শামসুল আলা, গোলাম কবির, আবুল কাশেম আঙ্গুর, নজির হোসেন বিশ্বাস, কদম রসুল, ইসমাইল হোসেনসহ ছাত্ররা মিছিল করে। এ অপরাধে উল্লেখিত ছাত্রদের রাতে পুলিশ আটক করে এবং স্কুল থেকে তাদের রাসটিকিট দেয়া হয়।

সে সময় ইসমাইল হোসেন ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন এবং ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। নজির হোসেন বিশ্বাস ছিলেন ৮ম শ্রেণীর ছাত্র।

নজির হোসেন বিশ্বাস সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। আজ তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকরুদ্ধ প্রায়। তিনি ভাষা আন্দোলনের অগ্রগামী সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার কারণে তার বাবাকে পাক বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে মেহেরপুর সরকারি কলেজের পিছন থেকে তার বাবার লাশ উদ্ধার করা হয়। এতকিছুর পরে ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পেলেও তাদের একটাই সান্ত্বনা বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

ইসমাইল হোসেন বর্তমানে মেহেরপুর শহরের টিঅ্যান্ডটিপাড়ায় বসবাস করছেন। চলাচলের শক্তি হারিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক। ##

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ