মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মিশিগানে বাংলাদেশি বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে তারই চালানো গাড়ির ধাক্কায় ৬২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বাবা মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওয়ারেন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅনডেট্রেয়েট জানিয়েছে, মেয়েটি তখন গাড়ি পার্ক করার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি তার বাবাকে ধাক্কা দেয় এবং থামার আগে তাকে অল্প দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Manual7 Ad Code

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১৮ বছর বয়সী মেয়েটি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া আলামত মেয়েটির দেওয়া ঘটনার বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Manual8 Ad Code

ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকলে তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

Manual6 Ad Code

ওয়ারেন পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির নাম বা পারিবারিক পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আব্দুর রহিম। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।

Manual1 Ad Code

মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আব্দুর রহিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ড্রাইবিং শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code