মৌলভীবাজার বাসির প্রানের দাবী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১ ০৭:০৬

মৌলভীবাজার বাসির প্রানের দাবী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ
যুক্তরাজ্য থেকে তাজুল ইসলাম:
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার আমাদের মৌলভীবাজার জেলা।এই জেলার আয়তন ২৭৯৯ বর্গ কিলোমিটার। উত্তরে সিলেট জেলা, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিমে হবিগঞ্জ জেলা। ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার মহকুমাটি মৌলভীবাজার জেলায় উন্নীত হয়। মৌলভীবাজার জেলায় ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন, ৮৯৯টি মৌজা, ২০১৫টি গ্রাম আছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের হস্থক্ষেপে তৎকালীন সরকারের বিশেষ বিবেচনায় মৌলভীবাজার বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা।
বিশেষ বৈশিষ্টের কারণে মৌলভীবাজার একটা ঐতিহ্য বহন করে বাংলাদেশের কৃষ্টি, সভ্যতা, সংস্কৃতিতে মৌলভীবাজার জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। মৌলভীবাজার জেলা পর্যটন শিল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আগরের চাষ, বৈচিত্রময় পরিবেশ, চা বাগানের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য এবং মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট , উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের সমাহারে এই জেলাটি অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন।মৌলভীবাজার শহরতলীর মাতারকাপন এলাকায় ১৯৮২ইং সনের প্রতিষ্ঠিত মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালটি বৃহত্তর সিলেটের একমাত্র চক্ষু হাসপাতাল হওয়ায় সারা বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন এখান থেকে উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছেন যা মৌলভীবাজার জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্ভের।কিন্তু একটা উদ্বেগের বিষয় ৭টি উপজেলার প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের জেলায় নেই কোনো মেডিকেল কলেজ। শান্ত প্রকৃতির জেলায় লেখাপড়ার জন্য রয়েছে উপযুক্ত পরিবেশ। ইতিহাস ঐতিহ্যের এই জেলায় কোন মেডিকল কলেজ না থাকার কারনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। সংগত কারণেই উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর এ জেলার প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে বেগ পোহাতে হয় উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় এ জনপদের বাইরে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম অথবা দেশের যে কোনো প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। মেয়েদের বেলায় পরিবারের সঙ্গে তা রীতিমতো যুদ্ধ বলা চলে, অনেক আকুতি মিনতি করার পর খুব কম সংখ্যক মেয়েরই সুযোগ হয় উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার।মেডিক্যাল কলেজের অভাবেই প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনার পর বিজ্ঞান ভিত্তিক পেশাদার শিক্ষার সীমিত সুযোগের জন্যই আমাদের এই জেলার শিক্ষার্থীদের এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস মৌলভীবাজারবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রানের দাবী মৌলভীবাজারে একটি সরকারী মেডিকেল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে এই অবস্থার উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হবে। মেডিক্যাল কলেজ স্হাপনের মাধ্যমে যেমনি উপকৃত হবে একটা জেলার মানুষ তেমনি উপকৃত হবে পুরো একটা দেশ। একজন  ভালো চিকিৎসক শুধু একটা পরিবার বা একটা এলাকার সম্পদ নয় সে হয় পুরো দেশের সম্পদ। প্রকৃতির ডাকে সাঁড়া দিয়ে যে সমস্ত সুনামধন্য চিকিৎসকেরা পরপারে চলে গেছেন তাদের জায়গা পুরনে নতুনের সৃষ্টি না হওয়াতে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত চিকিৎসকের অভাব অনুভব করতে হয়। বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরি করতে না পারলে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব হবে না। আর এই সমস্যা সমাধানের একটিই পথ, প্রতিটি জেলা শহরে অন্তত একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও এর সুষ্ট পরিচালনা করা।বিভিন্ন কারনে মৌলভীবাজার বাংলাদেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ  জেলা হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ জেলার মানুষ। ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল থাকলেও রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অবকাঠামো ও পারিপার্শ্বিকতার দিক থেকে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সকল সুযোগ সুবিধা থাকলেও প্রতিষ্ঠিত হয়নি মৌলভীবাজারে একটা সরকারী মেডিকেল কলেজ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা এবং আজকের তরুন আগামীদিনের ভবিষ্যতদেরকে  বিজ্ঞান ভিত্তিক পড়াশোনায় উৎসাহ যোগাতে মৌলভীবাজার জেলাবাসীর প্রানের দাবি একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ  এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অপার সম্ভাবনাময় এই জনপদে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে এবং উন্নত চিকিৎসা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় মৌলভীবাজার জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ এখন মৌলভীবাজারের মানুষের প্রানের দাবি।

এই সংবাদটি 1,285 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •