রক্ত সঞ্চালনে ৬ খাবার!

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১১ ডিসে ২০২০ ০৭:১২

রক্ত সঞ্চালনে ৬ খাবার!

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: শরীরকে সুস্থ রাখতে সঠিক রক্ত সঞ্চালন গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকলে তা আমাদের শরীরের রক্ত, অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন অংশে পোঁছে দেয়।

দুর্বল রক্ত সঞ্চালন এ সময়ের একটি সাধারণ সমস্যা। প্যারিফেরাল আর্টারি ডিজিজ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, ওজন বেশি হওয়া ও ব্যস্ত জীবনযাত্রা হতে পারে এর কারণ।

এর কারণে বেশকিছু উপসর্গ দেখা দেয় যেমন ব্যথা, পরিপাকে সমস্যা, ক্ষুধা হ্রাস, অস্থিরতা প্রভৃতি।

এ সমস্যাগুলো ছাড়া যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন ও শরীরকে ফিট রাখতে চান তারা রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করতে পারেন।

যদিও রক্তসঞ্চালন সমস্যা নিয়মিত চেকআপ ও ঔষধের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। তবে ৬টি খাবারও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিকে কাজ করে। চলুন জেনে সেই খাবারগুলো।

গোল মরিচ

গোল মরিচে থাকা ক্যাপসাইকিন রক্তচাপ কমিয়ে টিস্যুতে রক্ত প্রবাহ উন্নত করে। এছাড়া নাইট্রিক অক্সাইড এবং অন্যান্য উপাদান যেমন ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন কে, আয়রন ও ফাইবার রক্তনালীকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।

পটাশিয়াম এক ধরনের ভ্যাসোডিলেটর যা রক্তনালীর দেয়ালে পাওয়া ক্ষুদ্র পেশী শিথিল করে শিরা এবং ধমনী দিয়ে রক্ত আরো সহজে প্রবাহিত হতে দেয়।

গবেষণা নির্দেশ করে, গোল মরিচ খেলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি, রক্তনালীর শক্তি বৃদ্ধি পায়।

ডালিম

ডালিম সুস্বাদু ও মিষ্টি ফল। যা পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উচ্চ নাইট্রেট নিয়ে গঠিত। এই উপাদানগুলো শক্তিশালী ভ্যাসোডিলেটর সরবরাহ করে। এটি রক্তপ্রবাহ এবং পেশী টিস্যুর অক্সিজেন বৃদ্ধি করে।

১৯ জন সক্রিয় ব্যক্তির ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০০ মিলিগ্রাম ডালিম খাওয়ার ৩০ মিনিট আগের রক্তপ্রবাহের মাত্রার চেয়ে খাওয়ার পর বেশি ভালো থাকে।

পেঁয়াজ

পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনেড অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এটি হার্টের জন্য খুবই উপকারি। এছাড়া পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে কোয়ারসেটিন আছে, যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়।

২৯ জন পুরুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে , ১ মাস প্রতিদিন ৪.৩ গ্রাম পেঁয়াজ খাওয়ার কারণে তাদের রক্তপ্রবাহের মাত্রা আগের থেকে ভালো হয়।

রসুন

রসুনে রয়েছে সালফার যৌগ, যা অ্যালিকন। এটি  রক্তনালী শিথিল করে, টিস্যু রক্তপ্রবাহ ও নিম্ন রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে।

নিয়মিত রসুন খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ঠিক থাকে এবং উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এছাড়া সর্দি-কাশি, ছত্রাক সংক্রমণ ও ডায়েরিয়া সারাতেও রসুন কাজ করে। শরীরের দূষণ রোধে রসুন ভূমিকা রাখে।

হলুদ

হলুদে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি কারসিনোজেনিক, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। এছাড়া  ভিটামিন সি, ই, কে, ক্যালসিয়াম, কপার এবং আয়রনও রয়েছে হলুদে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদের মধ্যে পাওয়া একটি যৌগ নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং প্রদাহ কমাতে কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।

আখরোট

বাদাম জাতীয় খাবারের মধ্যে আখরোট বেশ সুস্বাদু ও উপকারী। আখরোটে প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে ভিটামিন বি ও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে ।

প্রতিদিন আখরোট খেলে রক্তচাপ কমতে পারে । এটি রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে এবং প্রদাহ কমাতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে এটি। এছাড়া এটি ত্বকের বলিরেখা দূর করে এবং বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •