রাইটার্স ব্লক 

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১২ নভে ২০২১ ০৫:১১

রাইটার্স ব্লক 
সৈয়দ শওকত আলী :  
পেশাদার বা সিরিয়াস লেখকদের এক আতংকের নাম WRITER’S  BLOCK. এই সমস্যায় আক্রান্ত লেখকরা নতুন লেখা লিখতে বা চলমান লেখা শেষ করতে সহসাই অপারগ বা অক্ষম হয়ে পড়েন। এবং অক্ষমতার কারণ প্রায়ই অজ্ঞাত থাকায় এর সমাধান খুঁজে পান না। ফলে আরো ভেঙে পড়েন। দিন-মাস-বছর, এমনকী আজীবন সমস্যাটি থেকে যেতে পারে।

Leo Tolstoy তাঁর anna karenina উপন্যাস লেখার সময় writer’s block এ আক্রান্ত হন। বইটির রচনাকাল ৫৩ মাস হলেও এর মধ্যে ৩০ মাস লেখক লিখতে অক্ষম ছিলেন। তবে তাঁর স্ত্রী সোফিয়া ও বন্ধু স্ট্রাখভ এর সহায়তায় তিনি writer’s block কাটিয়ে ওঠেন ও বইটি সমাপ্ত করেন।

J K Rowling তাঁর harry potter and the goblet of fire লেখার সময় writer’s block এ আক্রান্ত হন। যদিও তিনি তা সারিয়ে ওঠেন ও একের পর এক বেস্ট সেলার বই লিখে যান।

তবে সবাই tolstoy বা rowling এর মতো সৌভাগ্যবান বা শক্তিমান হন না। ইতিহাসের অনেক বিখ্যাত বা সম্ভাবনাময় লেখকের ক্যারিয়ার writer’s block এর দরুন সমাপ্ত হয়ে গেছে।

S T Coleridge, Truman Kapote এর মতো বিখ্যাত লেখকরা writer’s block এ আক্রান্ত হয়ে বাকি জীবন বিষণ্ন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পার করেন। পুলিৎজার পুরস্কার জয়ী বই to kill a mockingbird লেখিকা harper lee, writer’s block এ আক্রান্ত হয়ে পরে আর কোনো বই লিখতে পারেন নি। আমেরিকান বেস্ট সেলার বই moby dick লেখার পরই লেখক herman melville এর writer’s block এর দরুন ক্যারিয়ার সমাপ্তি ঘটে।

#WRITER’S_BLOCK_এর_কারণসমূহ:

★ লেখার ভাব চাপার বা ফিলিংস আসার অপেক্ষায় বসে থাকা

★ অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা ও পারফেকশনিস্ট হওয়ার চেষ্টা

★ আত্মবিশ্বাসের অভাব, পাঠক/সাহিত্যবোদ্ধা কর্তৃক সমালোচনার ভয়

★ পুরস্কারহীনতা

★ অন্য লেখকদের সাথে তুলনা ও প্রতিযোগিতার ভয়

★ বেঁধে দেয়া সময়ের ভিতর অধিক লেখার চাপ

★ কাটতি বাড়ানোর জন্য নিজস্ব পছন্দ ও দক্ষতার বহির্ভূত ধরনের লেখার চেষ্টা

★ জীবনদর্শন বা আগ্রহের পরিবর্তন বা অনুপ্রেরণা হারানো

★ জীবনের প্রতিকূলতা- অসুস্থতা, দারিদ্র্য, প্রিয়জনের মৃত্যু, বিচ্ছেদ

★ মানসিক সমস্যা- depression, anxiety disorder

★ নিউরোলজিকাল সমস্যা- agraphia (চিন্তাকে লেখায় রূপদানে ব্যর্থতা), hypergraphia (নিজের সৃজনশীলতার সীমার বাইরে অতিরিক্ত লেখার প্রয়াস)। অধিকাংশ মানুষের মস্তিষ্কের বাম পাশ লেখালেখির উৎস। মস্তিষ্কের এই অংশে আঘাত বা স্ট্রোক বা মৃগীরোগ লেখার অক্ষমতা ডেকে আনতে পারে।

★ অনেক ক্ষেত্রেই কারণ অজ্ঞাত

#সমাধানের_উপায়সমূহ:

★ লেখার ভাব চাপা/ফিলিংস আসার জন্য সময় অপচয় না করে রুটিনমাফিক ও নিয়মিত লেখা চালিয়ে যাওয়া, যদিও তা অল্প বা নিম্নমানের মনে হয় ।

★ পারফেকশনিজম এড়িয়ে চলা- লেখা ১০০% নিখুঁত বা উচ্চমার্গীয় করতে বেশি কড়াকড়ি বাড়াবাড়ি না করা ।

★ নিজস্ব দক্ষতা ও রুচি অনুযায়ী লেখা, নিজে আনন্দ পাওয়ার জন্য লেখা ।

★ রিলাক্সিং একটিভিটি, উদাহরণত- ঠাণ্ডা পানিতে গোসল, সুন্দর পরিবেশে হাঁটা, মেডিটেশন, চা-কফি পান ।

★ সমালোচনা গ্রহণ ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব গঠন

★ লেখা স্থগিত থাকলে অনুবাদ, সাহিত্যপাঠ, মুভি রিভিউ, তালিকা তৈরি বা অন্য সৃজনশীল কাজে সময় দেয়া ।

★ মুক্তলেখা, mind mapping, zettelkasten- যেকোনো একটি ধারণা লিখে তার ভাব সম্প্রসারণ করার চেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি লেখা, মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশকে উদ্দীপিত করা ।

★ লেখক/সাহিত্যবোদ্ধাদের সাথে গ্রুপ ডিসকাশন ।

★ একসাথে পুরো লেখা খতমের চেষ্টা না করে ভাগ করে করে লেখা। সূচনা বা অন্য কোনো অধ্যায়ে আটকে গেলে পরের অধ্যায়ে চলে যাওয়া।

★ টিভি, ইন্টারনেট, গেমিং প্রভৃতি ব্রেইন/মাইন্ড এনগেজিং কাজে বেশি লিপ্ত না হওয়া ।

★ সাইকোলজিস্ট/সাইকিয়াট্রিস্ট/নিউরোলজিস্ট এর শরণাপন্ন হওয়া ।

লেখক : ডা. সৈয়দ শওকত আলী, চিকিৎসক ও কলামিষ্ট । 

এই সংবাদটি 1,234 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •