রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বের হতে পারছে না বিদ্যুৎ খাত 

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

Manual3 Ad Code

গ্রাহক চাহিদা থাকলেও সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ  উৎপাদন করতে পারছে না দক্ষিণের জেলা ভোলায় নির্মিত একমাত্র সরকারি বিদ্যুৎ  কেন্দ্রটি। জেলায় দৈনিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত চাহিদার বিপরীতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ২২৫ মেগাওয়াট। অথচ নতুন নির্মিত কেন্দ্রটি থেকে দৈনিক মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। বাকি বিদ্যুৎ  নেওয়া হচ্ছে একটি পুরনো মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল) বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে। এর ফলে জনগণের অর্থ ও সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ  বিভাগ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ  উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ক্ষমতা কম থাকায় ভাড়াভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন এবং সেগুলো থেকে বিদ্যুত কেনা শুরু করেছিল সরকার। একযুগ আগের সে সংকট এখন নেই। কিন্তু সঞ্চালন-বিতরণ লাইনের সীমাবদ্ধতা এবং সিস্টেম লসের কারণে রেন্টাল বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে বের হতে পারছে না বিদ্যুত খাত। এর সর্বশেষ উদাহরণ ভোলা জেলার বর্তমান বিদ্যুত উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্হিতি।

বিদ্যুত সংকট মেটাতে ২০০৮ সালে ৩ বছর মেয়াদে বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য ভোলায় ৩৪.৫ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন পায় ভেঞ্চার এনার্জি রিসোর্সেস লিমিটেড। ২০১২ সালে সে মেয়াদ শেষ হলে এরপর চুক্তির মেয়াদ চার বারে আরো ৯ বছর বাড়ানো হয়। মোট ১২ বছর বিদ্যুত উৎপাদনশেষে গত ১১ জুলাই সে মেয়াদও শেষ হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভেঞ্চার কোম্পানি চুক্তির মেয়াদ আরো তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে। তার বিপরীতে কেন্দ্রটির মেয়াদ আরো চার বছর বাড়ানোর সুপারিশ করেছে পিডিবি এবং বিদ্যুত বিভাগের একটি কমিটি। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ সম্প্রতি প্রস্ত্তত করেছে বিদ্যুত বিভাগ। শিগ্গিরই তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুত সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পিডিবির বিদ্যুতকেন্দ্রের সক্ষমতা থাকলেও সেটি থেকে বিদ্যুত গ্রাহক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সঞ্চালন লাইন এখনো নির্মিত হয়নি। তাই বেসরকারি কেন্দ্রটির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে হচ্ছে। জুলাইয়ে মেয়াদ শেষ হলেও কতৃ‌র্পক্ষের অনুমোদনক্রমে তারা এখনো বিদ্যুত সরবরাহ করছে। তা না হলে ভোলার একটি বড় অংশ অন্ধকারে থাকবে।

Manual2 Ad Code

পিডিবি জানায়, ভোলা অঞ্চলে বর্তমানে বিদু্যতের সার্বিক চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট। পিডিবির ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের ২৩০/৩৩ কেভি ৪৬/৬০ এমভি ট্রান্সফরমার দিয়ে ভোলার প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদু্যতের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। ভেঞ্চার এনার্জি রিসোর্সেস কোম্পানির রেন্টাল কেন্দ্র থেকে বাকি ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত ভোলা সদর এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পিডিবির কেন্দ্রটির বিদ্যুত বিতরণ উপকেন্দ্র পর্যন্ত নেওয়ার জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) ট্রান্সফরমার স্হাপন করার কথা ছিল। চলতি বছরের জুনে নির্ধারিত সময়ে সেই ট্রান্সফরমার স্হাপন করতে না পারায় পিডিবির কেন্দ্রটি পূর্ণক্ষমতায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বেসরকারি রেন্টাল কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে। পিজিসিবি থেকে বিদ্যুত বিভাগকে জানানো হয়—করোনা পরিস্হিতি ও লকডাউনের কারণে তারা নির্ধারিত সময়ে ট্রান্সফরমারটির স্হাপন কাজ শেষ করতে পারেনি। আরো কয়েক মাস সময় লাগবে। এ সময় পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যুতকেন্দ্রটি চালু রাখার জন্য পিজিসিবি অনুরোধ করেছে। ট্রান্সফরমারটি চালু করতে আর সাত-আট মাসের বেশি সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন পিজিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

Manual7 Ad Code

তাহলে বেসরকারি কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ কেন আরো চার বছর বাড়ানোর সুপারিশ করেছে পিডিবি ও প্রক্রিয়াকরণ কমিটি, এর জবাবে বিদ্যুতসচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিদু্যতের সার্বিক উৎপাদন খরচ কমাতে এ সুপারিশ এসেছে। তেলভিত্তিক বিদু্যতে খরচ বেশি হয়। গ্যাসচালিত বিদু্যতে খরচ কম। তাই ভোলায় বেসরকারি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রটি চালু রেখে অন্যস্হানে তেলভিত্তিক কেন্দ্র বন্ধ বা উৎপাদন কমানো হবে। পিজিসিবির নতুন ট্রান্সফরমার নির্মাণ শেষ হলে তা ব্যবহার করে ভোলার বাইরেও গ্যাসচালিত বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণ করা যাবে। বিদ্যুত বিভাগ ইতিমধ্যে গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুতকেন্দ্রগুলো থেকে ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Manual8 Ad Code

অর্থাত্ শুধু যতটুকু বিদ্যুত কেনা হবে ততটুকুর বিল পরিশোধ করবে সরকার। বছরে কতটুকু বিদ্যুত কেনা হবে, তার নিশ্চয়তা বেসরকারি কোম্পানিকে দেওয়া হবে না। প্রসঙ্গত, ভোলায় ভেঞ্চার এনার্জির উত্পাদিত প্রতি কিলোওয়াট বিদু্যতের মূল্যহার শুরুতে ৩ টাকা ৫৬ পয়সা ধরা হলেও এবার পঞ্চমবারে দরকষাকষির মাধ্যমে তা কমে ২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১২ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত চার বছর সময়ের জন্য এ মূল্যহার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code