রোজ হাশরে আল্লাহ আমার করো না বিচার

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual5 Ad Code

ধর্ম ডেস্কঃ 

আমরা সেই সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করি যিনি আমার প্রকাশ্য ও গোপন সব বিষয়ে অবগত আছেন। শুধু তাই নয় বরং আমাদের প্রতিটি কর্ম তার কাছে লিপিবদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে।

Manual4 Ad Code

তাই মানুষের উচিত আল্লাহকে প্রকাশ্য ও গোপনে সর্বাবস্থায় ভয় করা। আমাদের হৃদয়ে যদি আল্লাহর ভয় থাকে যে তিনি আমাকে দেখছেন তাহলে আমরা অনেক পাপ করা থেকে বেঁচে যাব।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘(হে রাসূল!) আপনি বলে দিন, যদি তোমরা তোমাদের মনের কথা গোপন করে রাখ অথবা প্রকাশ করে দাও, আল্লাহ সে সবই জানতে পারেন। আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সেসবও তিনি জানেন। আল্লাহ সব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।’ (সূরা আল-ইমরান, আয়াত : ২৯)।

Manual1 Ad Code

আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘আকাশসমূহে এবং পৃথিবীতে যা আছে সবই আল্লাহর। আর তোমাদের অন্তরে যা আছে তা তোমরা প্রকাশ কর বা তা গোপন কর আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে এর হিসাব নেবেন। অতএব, তিনি যাকে চাইবেন ক্ষমা করবেন এবং যাকে চাইবেন আজাব দেবেন। আর আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বশক্তিমান’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ২৮৪)।

এ থেকে এটা স্পষ্ট বোঝা যায়, মানুষের প্রত্যেক কাজেরই হিসাব দিতে হবে, তা যতই গোপন হোক কিংবা প্রকাশ্য আর এর জন্য পুরস্কার, শাস্তি বা ক্ষমা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী পেতেই হবে।

পবিত্র কুরআনে যথার্থই বলা হয়েছে, ‘যে সৎকর্ম করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দকর্ম করলে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক তার বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম করেন না।’ (সূরা হা-মিম সিজদা, আয়াত : ৪৬)।

রোজ হাশরে আল্লাহতায়ালা মানুষের পাপ-পুণ্যের ফয়সালা করবেন এবং যার যার দুনিয়ার আমল-আখলাক কর্মফল অনুযায়ী নিখুঁত নিক্তিতে বিচার করবেন। যারা অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতি ও অসৎকর্মে নিজকে নিয়োজিত রাখবে এবং পাপাচারে লিপ্ত থাকবে, প্রতিফলস্বরূপ তিনি তাদের কঠিনতম শাস্তির ভয়াবহ কষ্টে নিপতিত রাখবেন।

আর যারা সৎকর্মের মধ্যে নিজকে সমর্পণ করবে এবং ইসলামের বিধিবিধান অনুযায়ী ইহকালীন জীবন অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তাদের সুখ-শান্তিময় বেহেশত প্রদান করবেন। শুধু তাই নয়, সেসব নেক আমলকারীকে সম্মানজনক পুরস্কার প্রদান করবেন।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য আছে নিয়ামতে ভরা জান্নাত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা লুকমান, আয়াত : ৮-৯)।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে, আজ কারও প্রতি জুলুম করা হবে না। আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর।’ (সূরা আল-মুমিন, আয়াত : ১৭)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেকের মর্যাদা তার কর্মানুযায়ী, এটা এ জন্য যে আল্লাহ প্রত্যেকের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেবেন এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।’ (সূরা আল আহ্কাফ, আয়াত : ১৯)।

Manual7 Ad Code

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।’ (সূরা আজ-জিলজাল, আয়াত : ৭-৮)।

হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, ‘দুনিয়া পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছে আর আখিরাত সম্মুখে আসছে আর এদের প্রত্যেকটির সন্তানাদি রয়েছে। তবে তোমরা আখিরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। কেননা এখন আমলের সময়, এখানে কোনো হিসাব নেই, আর আগামীকাল হিসাব নিকাশ হবে, সেখানে আমল করার কোনো সুযোগ নেই’ (বোখারি)।

Manual7 Ad Code

আমরা যদি ভাবি, এ দুনিয়া হচ্ছে আনন্দ-ফুর্তির জায়গা, যখন যা ইচ্ছা করব, আমাকে কে ধরবে? তবে একটি কথা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে আর তা হচ্ছে, এ দুনিয়া এক পরীক্ষা কেন্দ্র। আমরা সবাই পরীক্ষা দিচ্ছি, যে ভালো পরীক্ষা দেবে, সে ভালো ফল লাভ করবে এটাই স্বাভাবিক। সেদিন কেউ বলতে পারবে না, হায়! আমি যদি আবার দুনিয়াতে যেতে পারতাম তাহলে ভালো কাজ করে আসতাম। আমরা যা কিছুই করি না কেন আল্লাহ তা জানেন ও দেখেন।

তাই আমাদের এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করতে হবে যেন আমার দ্বারা কোনোরূপ অন্যায় কাজ সংঘটিত না হয়। আমার হাত ও মুখ দ্বারা কারও ক্ষতি হোক এমন কোনো কাজ যেন আমি না করি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : মাহমুদ আহমদ 

ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code