রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের খরচ ১০ টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৫ অক্টো ২০১৭ ০৫:১০

রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের খরচ ১০ টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রাখাইন রাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন রোহিঙ্গারা। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পেছনে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের ১০ টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ কথা জানান।

 

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে বলে জানিয়েছেন মায়া।

 

রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন একটি ইতিহাস যে আমরা চার মাসে পাঁচটি দুর্যোগ মোকাবেলা করেছি। সবার সহযোগিতায় আমরা এটা কাটিয়ে উঠতে পারছি। এটা আমাদের উপর মরার উপর খাড়ার ঘা। ওই আলোকে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ডিসি মহোদয়ের কাছে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। শুনলে আশ্চর্য হবেন- এর মধ্যে মাত্র ১০ টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষ এদের পাশে আছে।’

 

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রতিদিন ৫০ থেকে একশ-সোয়া শ’ ট্রাক (বেসরকারি ত্রাণের) যায়। গাড়িগুলো এক থেকে ৫ টন পর্যন্ত মাল নিয়ে যায়। শুধু চাল নয়; ডাল, পেয়াজ, লবণ- যার যা সামর্থ্য আছে তাই নিয়ে যায়। শীত আসেনি তারপরও কম্বল নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সেখানে দুই থেকে আড়াই শ’ টন মালামাল সেখানে পৌঁছাচ্ছে।’

 

ডব্লিউএফপি’র সহায়তা ছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতিদিন ১২০ টন চাল লাগে জানিয়ে মায়া বলেন, ‘প্রতিদিন যদি ১২০ টন লাগে তবে মাসে প্রয়োজন প্রায় ৪ হাজার টন। আমাদের বাংলাদেশের মানুষই….ডেইলি যদি একশ টনও যায় তবে ৩০ দিনে ৩ হাজার টন। আমরা তো আছিই। আমারা তো এখনও খরচই করতে হয়নি। আল্লাহর রহমতে সরকারের কোনো অভাব নেই।’

 

আগামী ১৫ অক্টোবরের পর কুতুপালংয়ের রাস্তাঘাট আলোকতি হয়ে যাবে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্ধিত ক্যাম্প এলাকা আলোকিত করতে নয় কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। ক্যাম্পে পরিবেশবান্ধব চুলা সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্যাম্প এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৮ কিলোমিটার ও এলজিইডি’র মাধ্যমে নয় কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কুতুপালং ক্যাম্প ২০টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এক একটি ব্লকে ৩২ থেকে ৩৫ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা থাকবেন। ৩৫ হাজার মানুষকে ম্যানেজ করা খুব একটা কষ্টকর হবে না। এই ৩৫ হাজার লোকের জন্য আলাদা শেড, আলাদা মসজিদসহ অন্যান্য সব ব্যবস্থা করা হবে। সামনের মাসের এক তারিখে দেখবেন ওই জায়গায় উপ-শহর হয়ে গেছে। বুঝবেন না ঢাকায় আসছেন না রোহিঙ্গাদের কুতুপালংয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা এভাবেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে সবকিছুই হবে অস্থায়ী।’

 

রোহিঙ্গাদের জন্য সাড়ে তিন হাজার টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে, আরও সাড়ে ১৭ হাজার টয়লেট স্থাপনের কাজ চলছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এক হাজার ৯০০টি স্যানিটারি টয়লেট ও এক হাজার ৫২৮টি টিউবওয়েল স্থাপন করেছে। ১৪টি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও সাতটি ওয়াটার ট্রাকের মাধ্যমে খাবারের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।’

 

রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে দেয়া হবে না :

 

রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোনো কোনো পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মায়া বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত তৎপর। রাতে যারা ঘোরফেরা করছেণ এমন ১৫০ জনকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা কাউকে নিতে দেয়া হবে না। এটা নিয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না। এটা নিয়ে দেশে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ত্রাণের উছিলা দিয়ে মানুষকে অন্য দিকে ধাবিত করার বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর। যেই করুক কাউকে ছাড় দেয়া হবে।’

 

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •