রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা জরুরি

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১১ ডিসে ২০২০ ০১:১২

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা জরুরি

সম্পাদকীয়:  ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা গণহত্যা শুরু করলে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর ফলে আয়তনে ছোট ও অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে যে সমস্যায় পড়েছে, তা ইতোমধ্যে এ দেশের মানুষ অনুমান করতে পেরেছে। এই শরণার্থীরা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বোঝা। গত সাড়ে ৩ বছরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে জন্মের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। জন্মের এই হার অব্যাহত থাকলে আগামী ৫ বছরে তাদের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে অর্ধকোটি, যা বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্যান্য সংখ্যালঘুর চেয়ে সংখ্যায় বেশি। দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে প্রথম দফায় স্থানান্তর করা হয়েছে। যেহেতু তাদের এ মুহূর্তে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাই বাংলাদেশ সরকার তাদের একটি অংশকে আপাতত ভাসানচরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে এক লাখ শরণার্থী থাকার অবকাঠামো তৈরি করেছে। আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৬৪২ জনকে সেখানে নেয়া হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে নির্মাণ করা হয়েছে ১২০টি গুচ্ছগ্রাম। নির্মাণ করা হয়েছে হাসপাতাল। রয়েছে রেশনিং ব্যবস্থা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবির হিসেবে প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তারা নিজেদের প্রয়োজনে এ অঞ্চলের বন আর পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করেছে। বন বিভাগের হিসাব অনুয়ায়ী, সাড়ে ৪ হাজার একর পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১১ লাখ মানুষের রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এজন্য উখিয়া-টেকনাফের জঙ্গলের গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে। ফলে দিন দিন বনভূমি উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বনভূমির মারাত্মক ক্ষতি হবে। বস্তুত ইতোমধ্যেই এ অঞ্চলের পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরিত করার পর হয়তো নতুন করে গাছ লাগিয়ে সেখানে বনায়ন করা সম্ভব; কিন্তু পাহাড় কেটে যে ক্ষতি করা হয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।  রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংবাদটি 1,234 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •