• ২২ জানুয়ারি, ২০২২ , ৮ মাঘ, ১৪২৮ , ১৮ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩

লটারি জেতার আনন্দ

newsup
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০২১
লটারি জেতার আনন্দ

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

ভীষণ ফুরফুরে মনে হাঁটছে শহরের অলিগলি পেরিয়ে আকবর। তার মনজুড়ে আজ বয়ে চলেছে খুশির বান। কেননা, সে এখন লটারির টিকেট কেটে ঘরে ফিরছে। আর এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। রাতের আকাশ চাঁদের আলোতে ঝকঝক করছে। চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। সে খুশিতে গুন গুন করে গান গাচ্ছে। সে গানের আওয়াজ যেন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আকবর পাড়ার দোকানির কাছ থেকে জেনেছে আগামীকাল লটারির রেজাল্ট বের হবে। তার মনের ভেতর আরও খুশি জাগতে থাকে। পাড়ায় লাড়ুগোপাল-এর দোকানে ঢোকে। পান কিনে মুখে দেয়। সঙ্গে একটা সিগারেটও ধরিয়ে ফেলে। তারপর আবার সে হাঁটতে থাকে রাস্তা ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরে। সোজা গিয়ে খাবারের টেবিলে বসে পড়ে। সেখানে নানার রকম খাবার রাখা আছে। ঢাকনা খুলে বউয়ের হাতের রান্না মুখে দেয়। বউ বলে, ‘দেরি করো না তো। হাতমুখ ধুয়ে নাও। তারপর খাও।’
‘আজ আর হাতমুখ ধুতে মন চাচ্ছে না, গিন্নী। এভাবেই খেতে দাও।’
স্বামীর কথায় গিন্নী আকবরের থালে ভাত-তরকারি বেড়ে দেয়। সে খেতে থাকে। বউ তালের পাখা দিয়ে বাতাস করতে থাকে। আকবর খেতে খেতে বউকে লটারির টিকেটের কথা বলে।
‘বউ, তোমার নামে লটারির টিকেট কিনেছি। পুরস্কার কিন্তু পেতেও পারি।’
বউ এটা শুনে ঠাট্টা-তামাশা করে। বলে, ‘আমাদের কপালে এসব নাই। টাকাই নষ্ট।’
পরের দিনের কথা। কাজ শেষে লটারি টিকেট নিয়ে আকবর দোকানে ঢোকে। সেখানে রাখা পত্রিকা শেষ পাতায় ছাপানো তালিকায় টিকেটের নাম্বার মেলাতে থাকে। কিছুতেই তার নম্বরের সাথে মেলে না। আরও খুঁজতে থাকে। এদিক-ওদিক ভালো করে দেখে। হঠাৎ আনন্দে লাফিয়ে ওঠে সে। জোরে জোরে বলে, ‘টিকেট তো মিলে গেছে। হুর রে।’
সত্যি সত্যি আকবর লটারি টিকেট জিতেছে। সে পাবে নগদ পাঁচ লাখ টাকা। এই খুশিতে মন ভরে যায় আকবরের। তার আঁখি দুটো নেচে ওঠে কী যে সুখে।
আকবরের লটারির জেতার খবর পাড়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিদুৎগতিতে। সবাই তাকে বাহ্ বা দিতে থাকে। সে রাস্তা দিয়ে হাঁটে আর সবাই তাকে অভিনন্দন জানায়।
সকলের ভালোবাসা নিয়ে সে ঘরে ফিরে বীর বেশে। বাজার থেকে এরইমধ্যে মিষ্টি কিনেছে। হাতে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে বউয়ের হাতে তুলে দেয়। বউ এরইমধ্যে জেনে গেছে। তাই গতরাতের ভুল ধারণা ভেঙ্গে খুশিতে ডগমগ হয়ে যায়। আকবরকে বুকে জড়িয়ে নেয়। আর বলে, ‘সত্যি, তুমি অনেক ভাগ্যবান। আমি তো ভাবতেই পারিনি, তুমি লটারিতে জিতবে। আমার ভীষণ খুশি লাগছে।’
তারপর ছেলেমেয়েরাও দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। যেন ঈদের আনন্দ। তাই আবদার করে বসে নিজ নিজ পছন্দের জিনিসের জন্য। কেউ নতুন জামা চায়, কেউ খেলনা চায়। আকবর হাসিমুখে বলে, ‘সবার মনের আশা পূরণ করা হবে। সবাইকে নিয়ে শখের জিনিস কিনতে বের হব ছুটির দিনে।
লটারি জিতে আকবর যেন বিশ্বজয়ী বীর এখন। তার কথাও তেমন বীরের মতো। বউ, ছেলেমেয়ে যা চাচ্ছে, তাই কিনে দিতে চাচ্ছে।
তারপর সবাই মিলে রাতের খাবার খায়। খাবার শেষ করে রাত জেগে ছেলেমেয়েকে নিয়ে গল্পের আসর জমিয়ে আড্ডা দিতে থাকে। মনে বড় আনন্দ আজ। তাই সবাই মিলে ক্যারাম খেলতে শুরু করে উজালা মনে। এরইমধ্যে রকমারি নাস্তার পসরা সাজায়। রাতের খাবারের পরও ক্যারাম খেলে আর নাস্তা করে। আর বউয়ের নাস্তার প্রশংসা করে। ছেলেমেয়ে একটু লাজে পড়ে যায়।
পরের দিন লটারির টাকা হাতে পায় আকবর। একসাথে এত টাকা দেখে সে ভীষণ অবাক হয়। নিজেকে বড়োলোক মনে হয়। তাই খুশিতে ব্যাগ ভর্তি বাজার করে। আরও সব কিছু কিনে বাড়িতে ফেরে।
আকবর বাড়িতে ফিরে বউয়ের হাতে তুলে দেয় জামদানি শাড়ি। রাঙা মুখে হাসিখুশি বউয়ের তখন মনের ভেতর আনন্দ ঝড় বইতে থাকে। ছেলেমেয়েদেরও ছোটাছুটি বাড়তে থাকে। তারাও আবদার মতো জিনিস পেয়েছে।
এরই মধ্যে পত্রিকার এক সাংবাদিক ছুটে আসে আকবরের বাড়িতে। লটারি জেতায় তিনি আকবরের ইন্টারভিউ নিতে এসেছেন। সব জেনে আকবর সাংবাদিকের কাছে ইন্টারভিউ দেয়। সব প্রশ্নের উত্তর করে। সাংবাদিক ছবি তোলে।
পরের দিন সেই ছবি ও সংবাদ ছাপা হয় দেশের বিভিন্ন পেপারে। ছড়িয়ে পড়ে আকবরের নাম দিকে দিকে। সে খুশিতে আকবর চকচকে জামা গায়ে হাঁটে পাড়া-মহল্লায়। অদ্ভূত রকমের চলাফেরা শুরু করে সে। জীবনের স্বপ্ন নিয়ে আঁকাআঁকি করে এতগুলো টাকা হাতে পেয়ে। ভাবনার বেড়াজালে দোলে মন তার। ভাবে, এই টাকা দিয়ে ব্যবসা করে জীবনে আয়-উন্নতি করবে। সুখে-শান্তিতে বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকবে।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •