লালপুরের ঐতিহাসিক বাওড়া মসজিদ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসে ২০২০ ১২:১২

লালপুরের ঐতিহাসিক বাওড়া মসজিদ

লালপুর (নাটোর) :
নাটোরের লালপুর উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন সমুহের মধ্যে অন্যতম বাওড়া এক কাতারের তিন গম্বুজ মসজিদ। চার’শ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের ঐতিহ্য বহন করে আজো দাঁড়িয়ে আছে এটি। বর্তমানে এটি বাওড়া মসজিদ নামেই পরিচিত। ইতিহাসবিদদের মতে উপজেলার সবচেয়ে পুরনো দুটি মসজিদ এর মধ্যে এটি অন্যতম। মসজিটি ঠিক কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার সঠিক কোন ইতিহাস পাওয়া না গেলেও মসজিদটির গঠনশৈল ও নির্মানের উপাদান মোগল আমলে নির্মিত মসজিদ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সে হিসেবে মসজিদটি প্রায় চার শত বছরেরও বেশি পুরনো। প্রতি দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক লোক আসে ঐতিহাসিক,দর্শণীয় ও আকর্ষনীয় এ মসজিদটি দেখতে। তবে মুসলিম সভ্যতার এ ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষায় এখন পর্যন্ত সরকারী,বেসরকারী বা প্রতœতত্ব বিভাগ কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। তাই নিপুন কারুকার্য সম্বলিত দর্শনীয় এ মসজিদটি দিন দিন ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
লালপুর উপজেলা পরিষদ অর্থাৎ গোপালপুর থেকে ২.৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নর্থ-বেঙ্গল সুগার মিলের কেন্দ্রীয় কবরস্থানের পাশে বাওড়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি অবস্থিত। পাতলা ইটের তৈরি তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যশিল্প ও শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন। ইটের গাঁথুনিতে জোড়ক মসলা হিসেবে চুন-সুড়কি ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটির গাঁথুনি এবং এর ভিতরে ও বাইরে নিপুন শিল্পীর হাতে করা হয়েছে নানা কারুকার্য। আয়তাকার এ মসজিদটি ১৩৮ সতাংশ জমির উপর নির্মিত। এক কাতার বিশিষ্ট মসজিদটির বাইরে উত্তর-দক্ষিণে লম্বায় ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রস্থ ১৩ ফুট ৬ ইঞ্চি, এবং উচ্চতা ১১ ফুট ৬ ইঞ্চি। মসজিদের নামাজ গৃহের অভ্যন্তরে উত্তর-দক্ষিণে লম্বায় ২৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ও পূর্ব-পশ্চিমে ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি। ৩ ফুট পুরুত্বের দেয়াল বিশিষ্ট মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ রয়েছে। বুরুজগুলো কার্নিশ ছেড়ে উত্থিত হয়ে ছত্রি দ্বারা সমাপ্ত হয়েছে। ছাদ থেকে প্রতিটি ছত্রির উচ্চতা ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি। প্রতিটি ছত্রির শীর্ষ পদ্মকলি সজ্জিত। উত্তর-দক্ষিণে দুটি বৃহদাকৃতির খিলান দ্বারা এক কাতার বশিষ্ট মসজিদটি ৭ বর্গফুটের তিনটি আয়তাকার ‘বে’-তে বিভক্ত। প্রতিটি ‘বে’ অষ্টভুজাকৃতির পিলারের উপর ৮ ফুট ব্যাসের (ভিতরের মাপ) একটি করে মোট তিনটি গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। নামাজ গৃহের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য পূর্ব দেয়ালে তিনটি অর্ধ-বৃত্তাকার খিলান বিশিষ্ট প্রবেশ পথ রয়েছে। মধ্যবর্তী প্রবেশ পথের উভয় পার্শ্বে একটি করে অষ্টভুজাকৃতির আলঙ্কারিক সরু বুরুজ রয়েছে। এসব বুরুজ ছাদ কিনারা থেকে উত্থিত ও ছত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত। নামাজ গৃহের অভ্যন্তরে কেবলা-দেয়ালে পবেশপথ বরাবর স্বল্প-গভীরতা বিশিষ্ট আয়তকার ফ্রেম দ্বারা বেষ্টিত তিনটি অর্ধ-বৃত্তাকার মিহরাব আছে। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাওড়া গ্রামের নাহারুল ইসলাম জানান, মসজিদটি এক কাতার বিশিষ্ট, এখানে একসাথে ১৮-২০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে ২০১০ সালে মসজিদ সংলগ্ন পূর্বদিকে নতুনভাবে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মানের সময় মূল মসজিদের স্থাপত্য-সৌন্দর্য কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনও তার কারুকার্য সম্বলিত অবশিষ্ট অংশ নিয়ে স্বগৌরবে দাড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক এই মসজিদটি। আজো বহন করছে ইতিহাসের গৌরবময় মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন। মসজিদটি রক্ষনা বেক্ষনে প্রতœতত্ব বিভাগ, সরকারী বা বেসরকারী সহায়তা কামনা করেছেন ্এলাকাবাসি। সময় পেলে আপনিও দেখে আসুন ঐতিহাসিক,দর্শণীয় ও আকর্ষনীয় এ মসজিদটি।

এই সংবাদটি 1,241 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ