শক্তি বাড়াচ্ছে করোনা, টেস্ট কমে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

প্রকাশিত:শুক্রবার, ২৫ ডিসে ২০২০ ০৩:১২

শক্তি বাড়াচ্ছে করোনা, টেস্ট কমে যাওয়ায় চরম উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের
নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক : করোনা ভীষণভাবে ছড়াচ্ছে কিন্তু জানতেও পারছেন না মানুষ। কারণ টেস্টই অত্যন্ত কমে গিয়েছে রাজ্যে। উদ্বেগ বাড়িয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২৯ হাজার পরীক্ষা! করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মুখে রাজ্য সরকারের এই কীর্তি রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলেছে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। কারণ, করোনা এবার আরও বিপুল শক্তি বাড়িয়ে চরিত্র বদল করে আঘাত হানতে উদ্যত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলিতে ফের জারি হয়েছে সতর্কতা। সেখানে আক্রান্ত হচ্ছেন হাজারে হাজারে মানুষ। চিকিৎসকরা বলছেন, এই অবস্থায় এখানে টেস্ট কম হওয়া মানে অনেকেরই রোগ নির্ণয় হবে না, সেক্ষেত্রে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যাও কম দেখাবে। ফলে নিজেকে করোনা থেকে মুক্ত বলে ভাববেন বহু মানুষ। আর এভাবেই ক্রমশ আরও ছড়িয়ে পড়বে এই মারণ ভাইরাস। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ২৯৪২২ টেস্ট কোনোমতেই মানতে পারছেন না বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের নিরিখে প্রথম থেকেই এরাজ্যে টেস্ট কম হয়েছে। সেকথা উদ্বেগের সঙ্গে বারবারই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। রবিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন ৪০ হাজার টেস্ট হওয়ার কথা বলেছে। সোমবার বুলেটিনে দেখা যাচ্ছে তার থেকেও ১১ হাজার টেস্ট কমে গেছে রাজ্যে। যেখানে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে টেস্ট সংখ্যা কোথাও ৫০ হাজার, কোথাও ৬০ থেকে ৭০ হাজার, সেখানে মাত্র ২৯৪২২টি টেস্ট হয়েছে একদিনে। ফলে এদিন করোনা পজিটিভের সংখ্যাও কমে ১৫১৫ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এটি আসল ছবি প্রকাশ করছে না বলে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাঁদের বক্তব্য, নতুনভাবে প্রায় ৭০ শতাংশ শক্তি বাড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। বেশ কিছু বদল ঘটছে এর চরিত্রেরও। ব্রিটেনসহ বহু দেশে নতুন করে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। আক্রান্ত হচ্ছেন হাজারে হাজারে মানুষ। তারমধ্যেই এদেশে এই নতুন শক্তি সম্পন্ন ভাইরাস কতটা ঢুকে পড়েছে জানা যাচ্ছে না। বিজ্ঞান বলছে এখন টেস্ট কম হওয়া মানে বহু মানুষ নিজের অজান্তেই দ্রুত ছড়াতে থাকবেন ভাইরাস। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন বলছে রাজ্যে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ ৪০ হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের। প্রতিদিন একটু করে রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা কম দেখালেও মৃত্যু সংখ্যা কিন্তু তেমন কমেনি। একদিনে এই সংখ্যা ৪১। সব জেলা মিলিয়ে এপর্যন্ত মোট ৯৪০১ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। এরইসঙ্গে চিকিৎসার বেহাল পরিকাঠামোও একইভাবে রয়ে গেছে রাজ্যে। বহু হাসপাতালেই চিকিৎসক, নার্স স্বাস্থ্যকর্মী অত্যন্ত অপ্রতুল। এই অভিযোগ করছেন সেখানে কর্মরত চিকিৎসকরাই। বিভিন্ন এলাকার যা খবর মিলছে তাতে দেখা যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলগুলির চিকিৎসাকেন্দ্রগুলি বেশিরভাগই ধুঁকছে চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবে। গরিব মানুষ সরকারি চিকিৎসার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই কারণেই। অন্যদিকে বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও আস্থা কমছে মানুষের। কোনও সময়ে চিকিৎসার গাফিলতি, আবার কোনও সময়ে অতিরিক্ত বিলে জেরবার মানুষ। রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়ছে। মামলার শুনানি হয়ে রায়দানও হচ্ছে। সাংবাদিক বৈঠক করে সেসব জনসমক্ষে তুলে ধরছে স্বাস্থ্য কমিশন। কিন্তু বাস্তবে সুরাহা কতটা হচ্ছে তা নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা একটা রয়েই যাচ্ছে। এদিন আরও একদফা মামলার শুনানি ও রায় হয়েছে স্বাস্থ্য কমিশনে। বাইক দুর্ঘটনার পর এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসার অবহেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে মেদিনীপুরের সেন্ট জোসেফ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। আহত সায়নদেব ভুঁইয়া প্রথমে কোমায় চলে যান এবং পরে কলকাতায় আনার পর মৃত্যু হয়। কমিশনের বক্তব্য, কোনও পরিকাঠামোযুক্ত হাসপাতালে রোগীকে স্থানান্তরিত করা যেত কিন্তু হাসপাতাল সেই ব্যবস্থা করেনি। এক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে হাসপাতালকে। করোনা আক্রান্ত হয়ে ফর্টিজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চক্ষুবিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ মণ্ডল। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। হাসপাতালে বিল হয়েছে ১৬ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। রোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিলটি খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেনি কমিশন। এক্ষেত্রে ২ লক্ষ ২১ হাজার টাকা হাসপাতালকে ফেরত দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বারাসত ইকো হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের অবহেলার কারণে এক সদ্যোজাতর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন দীপঙ্কর বিশ্বাস। এক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কলকাতার রুবী হাসপাতালে কোভিড আক্রান্ত হয়ে ১০ দিন ভর্তি ছিলেন পার্থ মিত্র। বিল হয়েছে ২ লক্ষ ৫৪ হাজার। বিমা কেম্পানি কিছু টাকা মেটানোর পরেও রোগীকে দিতে হয় ৮১ হাজার টাকা। কমিশনের বক্তব্য, বিলে অসঙ্গতি রয়েছে। অতএব ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে হাসপাতালকে। অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ উঠেছে এমজি রোডের আরতি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী মানস ঘোষ স্বাস্থ্য কমিশনের কাছে নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ জানিয়েছেন। সব দিক খতিয়ে দেখে ১৫ হাজার টাকা ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়া ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ এসেছে বারাসতের লাল প্যাথ ল্যাবের বিরুদ্ধে। কলকাতার ডিসান হাসপাতালের বিরুদ্ধে আবারো অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত বিলের। এইক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা ফেরতের নির্দেশ হয়েছে। নিউটাউনের ওহিও হাসপাতালের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত বিল নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রেও ১৭৮৫৮ টাকা ফেরতের নির্দেশ হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুরের হেলথ ওয়ার্লড হাসপাতালের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে দমদম আইএলএস হাসপাতালের বিরুদ্ধে বেশি বিলের অভিযোগ তুলেছেন পৌলমী সাহা। সেক্ষেত্রেও ২৫ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলেছে কমিশন।

 

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •