শত শত নেতা-কর্মীকে সাক্ষাৎ দিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা : রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রবাসীদেরও সোচ্চার থাকার আহবান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৩ অক্টো ২০১৭ ০৫:১০

শত শত নেতা-কর্মীকে সাক্ষাৎ দিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা : রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রবাসীদেরও সোচ্চার থাকার আহবান

নিউইয়র্ক : শারীরিকভাবে পরিপূর্ণ সুস্থ না হওয়া সত্বেও সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কল্যাণে সকলকে একযোগে কাজের আহবান জানালেন এবং সামনের নির্বাচনে দলীয় প্রাথীদের পক্ষে জোট গড়ার কথা বললেন। এছাড়া, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে যে সাড়া পড়েছে, তার সমর্থনে প্রবাসীদেরকেও সোচ্চার থাকার কথা বললেন। বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সাক্ষাতের সময় সকলেই শেখ হাসিনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনায় তাকে আরো বহু বছর বেঁচে থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনাকে সকলেই ৭১তম জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জ্ঞাপন করেছেন।  যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে ম্যাকলীন সিটিতে টাইসন বুলেভার্ডে অবস্থিত রিটজ কার্লটন হোটেলের সুইটে ১ অক্টোবর রোববার আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ দেন শেখ হাসিনা। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সোমবার তার পিত্তথলীতে সফল অস্ত্রোপচারের পর শেখ হাসিনা মোটামুটি সুস্থ হওয়ায় নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ দিতে সম্মত হন। এরফলে সারা আমেরিকা থেকেই দলের সক্রিয় নেতা-কর্মীদের সমাগম ঘটেছিল এই হোটেলের পার্শ্ববর্তী শপিং মল তথা টাইসন বুলেভার্ডের কর্ণারে।প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপের সমন্বয়ে প্রথমেই ম্যারিল্যান্ড, ওয়াশিংটন ডিসি এবং স্বাগতিক ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের ৪৫ জন কথা বলেন শেখ হাসিনার সাথে। দীর্ঘক্ষণ তারা কথা বলার সময় শেখ হাসিনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বের জন্যে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট সাদেক খান, ভাইস প্রেসিডেন্ট শিব্বির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, আকতার হোসেন, মুজিবর রহমান এবং নূরল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী বাকি, সহ-সম্পাদক হারুন অর রশীদ। ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম, সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস, সাধারণ সম্পাদক মইনুল তাপস এবং জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মনসুর। ভার্জিনিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক পারভেজ, সহ-সভাপতি আবুল হাশেম এবং সেক্রেটারি আমর ইসলাম।এরপর শেখ হাসিনার সুইটে প্রবেশ করেন নিউইয়র্ক মহানগর, নিউইয়র্ক স্টেট, বস্টন, কানেকটিকাট, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ গ্রুপের পক্ষে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী নিউইয়র্কের একটি গণমাধ্যম সম্পর্কে অভিযোগ করে সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে জানান যে, ‘এই টেলিভিশন স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীহিসেবে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত আল বদর মীর কাশেম আলীর অর্থে। সেখানে প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে টক শো করা হয়। এসব সকলে জানা সত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সকলেই ঐ টিভিতে বিজ্ঞাপন দেন এবং নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।’ এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা কামনা করেন জাকারিয়া। অত্যন্ত আগ্রহের সাথে শেখ হাসিনা তা শোনেন এবং সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান। এ গ্রুপে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী এমদাদ চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন আজমল প্রমুখ। এরপর ঢুকেন মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তারা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নয়া কমিটিতে অধিকসংখ্যক মহিলার অন্তর্ভুক্তির দাবি জানালে শেখ হাসিনা বলেছেন যে, ‘মহিলারাতো মহিলা আওয়ামী লীগেই রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে তো কয়েকজন মহিলা রয়েছেনও।’এ গ্রুপে ছিলেন মমতাজ শাহানা, মোর্শেদা জামান, ফারহানা হানিফ, লিপি প্রমুখ।

 

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ