শমশেরনগর হাসপাতাল এবং দুটি কথা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০১ জুন ২০২১ ০৬:০৬

শমশেরনগর হাসপাতাল এবং দুটি কথা
সাইফুর রহমান কামরান : 
গলি থেকেই রাজপথ তৈরী হয়। পায়ে চলা পথ একদিন মহাসড়কে রূপ নেয়। মানব ইতিহাসের যাত্রাপথ প্রজন্মের পর প্রজন্মের অবদানে সমৃদ্ধ । এক প্রজন্ম যেখানে শেষ করে, পরের প্রজন্ম সেখান থেকেই শুরু করে। এটাই স্বাভাবিক রীতি।
পূর্ব প্রজন্ম পথ তৈরী করে দেয়,বহু বাঁধা অপসারণ করে দেয় বলেই উত্তর প্রজন্ম তার থেকে বড় কিছু করার রসদ পায়, শক্তি পায়। উত্তর প্রজন্ম সেখানে কেবলই পথিক আর পথ তৈরী করে দেয়া পূর্ব প্রজন্ম পথিকৃৎ।
ময়নুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায়  আজ ৩১ মে ২০২১ সোমবার শমশেরনগরের দুটি ভিন্ন প্রজন্মের সমাবেশ ঘটেছিলো এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে। সেখানে ছিলেন সেই পথিকৃৎদের অন্যতম ক’জন ব্যক্তিত্ব যাদের সম্মান ও শ্রদ্ধায়, সাদরে-সমাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাঁদেরই  উত্তর প্রজন্মের ক’জন।
উদ্দেশ্য ছিলো জেলার এ যাবতকালের সর্ববৃহত বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবার যে আয়োজন চলছে তার বিস্তারিত সহভাগ করে নেয়া এবং প্রবীণদের মেধা,অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ থেকে লাভবান হওয়া, তাঁদের পরামর্শ ও উপদেশ আমলে নিয়ে মহতী কাজটিকে গতি প্রদান করা।
সিলেট থেকে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় জনাব কবীর আহমদ হায়দরী ও  জনাব কয়সর আহমেদ হায়দরীর সাথে ঢাকা থেকে যুক্ত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুর রহমান এবং কানাডা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ চৌধুরী।
হাসপাতালের সংগঠনের সাথে যুক্ত আহবায়ক সেলিম চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়কদ্বয় মুজিবুর রহমান রঞ্জু, আব্দুস সালাম, সদস্য সচিব শামছুল হক মিন্টু, আন্তর্জাতিক সমন্বয়ক ময়নুল ইসলাম খান, সদস্য সাইফুর রহমান কামরানের কাছে তারা উপুড় করে দিয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতা আর পরামর্শের ডালি আর তারাও আপ্লুত হয়ে, অঞ্জলি ভরে নিয়েছেন সব।
প্রবীণেরা স্নেহভরে  সকল কৃতিত্ব নবীনদের দিয়ে নিজেদের বিনয়ের আবরণে ঢেকে ফেলতে চাইলেন বটে তবে নবীনরা জানেন আজ তারা যে পথে হাঁটছেন তা এই অগ্রপথিকদেরই তৈরী।তারাও উপযুক্ত শ্রদ্ধায় পূর্ব প্রজন্মের ঋণ স্বীকার করে নিলেন, মালাখানি ফিরিয়ে দিলেন প্রবীণদেরই গলায়।
সভার এক পর্যায়ে শুভেচ্ছা জানাতে যুক্ত হলেন – আলী কয়সর খান – যিনি বরাবর তার ছোট ভাই ময়নুসহ কমিটির নেতৃবৃন্দকে অনুপ্রাণিত করতে সচেষ্ট থাকেন।
আমাদের অত্যন্ত প্রিয় স্বজন, আমাদের অতি আপনজন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব জসিম উদ্দিন তাঁর উপস্থিতি ও সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাদের কেবল উজ্জীবিতই করেননি, নতুন শক্তিও সঞ্চার করেছেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা জনাব জসিম উদ্দিন সাহেবকে।
শমশেরনগর হাসপাতালের জন্য এম্বুলেন্স দানের ঘোষণাঃ
গত ছয় দশক ধরে শমশেরনগরকে নেতৃত্ব দেয়া দুই প্রজন্মের নবীন ও প্রবীণদের মাঝে আলো করে ছিলেন সিলেট বিভাগের এক নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ মানবতাবাদী। জনাব ফয়জুল হকের জন্মই হয়তো হয়েছিলো মানুষকে ভালোবেসে নিভৃতে তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করার জন্য। এক নিঃসঙ্গ শেরপার মত একাই একহাতে যে বৃহত কর্মযজ্ঞ তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষত রাজনগর থানায় তা রীতিমতো বিস্ময়কর। স্কুল, কলেজ, রাস্তা, মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষালয় কোথায় তাঁর পদচারণা নেই?  জনাব ফয়জুল হকের  একক চেষ্টায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বীজ থেকে মহীরুহ হয়েছে, কত মানুষের জীবন বদলে গেছে তাঁর হাতের ছোঁয়ায়! এমন একজন মানুষ আমাদের দূরের কেউ নন, অতি নিকট জন- কামারচাক ইউনিয়নের মেলাগড়ে তার আদি ঠিকানা। প্রায় সাত দশক আগে সাত সাগরের ওপারে চলে গিয়ে তিনি কেবল এদেশের মাটি ও মানুষের আরো কাছাকাছিই  এসেছেন। এদেশের মাটি আর মানুষ তার হৃদয়ের সমার্থক হয় গেছে বোধহয় তাঁর জন্মলগ্নেই।
মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত মানুষের জন্য নিজের অর্থবিত্ত নিয়ে এগিয়েতো এসেছেনই, বিলেতে তহবিলও সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন।
আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে তিনি বিলেতে তহবিল সংগ্রহ করেছেন,আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে শক্তি যুগিয়েছেন। তাই তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা খালেকুর রহমান তাই অকুণ্ঠচিত্তে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেন  আজকের সভায়।
এমন এক কীর্তিমান পুরুষকে ছাড়া আমাদের আয়োজন সম্পন্ন হবে এটা ভাবাই যায় না। তিনিতো আমাদের মূর্তিমান প্রেরণা। এর আগেও তিনি আমাদের সাথে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে মিলিত হয়েছেন এবং শক্তি ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।
আমাদের সাথে তিনি সবসময় থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মূল্য আমাদের কাছে অনেক অনেক বেশী।
আজকের সভায় জনাব কয়সর আহমেদ হায়দরীর প্রস্তাবে তিনি হাসপাতালের জন্য একটি এম্বুলেন্স দানে এক কথায় রাজী হয় গেলেন। এটাও বললেন যে, এটাই শেষ নয়,নিশ্চিত করলেন -তাঁর সহায়তা আজীবন আমরা পাবো।
আমাদের হাসপাতাল বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন। তাঁর স্নেহচ্ছায়ায় আমাদের পথচলা মসৃণ হোক আর তিনি দীর্ঘ জীবন লাভ করে তাঁর বিপুল কর্মযজ্ঞকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যান- এটাই আমাদের একান্ত কামনা।
লেখকঃ  সাবেক প্রিন্সিপাল সুজা মেমোরিয়াল কলেজ, শমসেরনগর, মৌলভীবাজার

এই সংবাদটি 1,309 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •