শিক্ষকের মর্যাদা প্রদানে ইসলামের নির্দেশ

প্রকাশিত:শুক্রবার, ০৬ অক্টো ২০১৭ ০১:১০

শিক্ষকের মর্যাদা প্রদানে ইসলামের নির্দেশ

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ প্রকাশের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতীকী দিন। যদিও শিক্ষকদের সম্মান জানানোর জন্য কোনো দিনক্ষণ বা সময় নির্ধারিত নেই। তারা সব সময় জাতির কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধা পাওয়ার দাবিদার।

 

শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অতুলনীয় অবদানকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করার লক্ষ্যেই এ দিবসের সূচনা। বিশ্বব্যাপী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এ দিনটি অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার আসন লাভ করে আছে।

 

১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ১৪৫টি দেশের সুপারিশের মাধ্যমে ইউনেসকো’র কাছে শিক্ষকদের জন্য ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’র দাবি তোলা হয়।

 

১৯৯৩ সালে বিশ্বের ১৬৭টি দেশের ২১০টি জাতীয় সংগঠনের প্রায় তিন কোটি ২০ লাখ সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষক সংগঠন ‘এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল’ গঠিত হয়।

 

তাদের ক্রমাগত দাবি ও অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেসকো’র ২৬তম অধিবেশনে ইউনেসকো’র মহাপরিচালক ড. ফ্রেডারিক এম মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষণার মাধ্যমে ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালনের শুভ সূচনা করা হয়।

 

১৯৯৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

 

শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কিত সাফল্যকে সমুন্নত রাখাসহ আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্বের ১০০টি দেশে এ দিবসটি পালিত হতে থাকে, যা আজও অব্যাহত।

 

বর্তমান বিশ্বের ১০০টি দেশে ‘এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল’ (Education International – EI) ও তার সহযোগী ৪০১টি সদস্য সংগঠন বিশ্ব শিক্ষক দিবসের জন্য মূল ভূমিকা রেখে দিবসটি পালন করে আসছে।

 

যদিও শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের কোনো সময় ও দিনক্ষণের প্রয়োজন নেই। শিক্ষকরা সব সময়ই মর্যাদা ও সম্মানের পাত্র।

 

তারপরও শিক্ষকদের প্রতি সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকতার মতো এ মহান পেশার অবদানকে স্মরণ করার জন্যই সুনির্ধারিত হয়েছে আজকের দিনটি। আজকের দিনে শিক্ষকদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও সম্মান।

 

শিক্ষকরা হলেন জাতির সুনাগরিক তৈরির মহান কারিগর। ইসলামও দিয়েছে শিক্ষকদের অসামান্য সম্মান ও মর্যাদা। শিক্ষকদের মর্যাদা সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে ছিল ব্যাপক সমাদৃত।

 

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করনে, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন কর এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব শিষ্টাচার শিখ। তাকে সম্মান কর; যার থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন কর।’

 

সুতরাং যার থেকে জ্ঞান অর্জন করা হয় তিনিই আমাদের শিক্ষক। শিক্ষকের মর্যাদায় ইসলামের বক্তব্য ও সংক্ষিপ্ত একটি নমুনা তুলে ধরা হলো-

 

‘একবার হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সওয়ারিতে ওঠার জন্য রেকাবে পা রাখলেন। তখন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রেকাবটি শক্ত করে ধরেন।

 

হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত বললেন, ‘ হে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাচাতো ভাই! আপনি (রেকাব থেকে) হাত সরান।

 

উত্তরে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘ না’, আলেম ও বড়দের সঙ্গে এমন সম্মানসূচক আচরণই করতে হয়।’

 

জ্ঞানই মানুষের যথার্থ শক্তি ও মুক্তির পথনির্দেশ দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই বলেছেন-

‘আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে বা আমি শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি।’

 

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা, শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষক ও শিক্ষার ব্যাপকীকরণে সদা সচেষ্ট ছিলেন। তাইতো প্রিয়নবি বদরের যুদ্ধবন্দিদেরকে মুক্তির জন্য মদিনার শিশুদের শিক্ষা দেয়ার চুক্তি করেছিলেন। যার মাধ্যমে তিনি বন্দিদের মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

 

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন জনৈক বয়স্ক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে হাজির হলে উপস্থিত সাহাবায়েকেরাম নিজ স্থান থেকে সরে তাকে জায়গা করে দেন।

তখন তিনি ইরশাদ করেন, ‘যারা ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করে না, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (তিরমিজি)

এই সংবাদটি 1,230 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •