শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বকে আশা দেখাচ্ছে: জাতিসংঘ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২৫ মে ২০২১ ০৩:০৫

শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বকে আশা দেখাচ্ছে: জাতিসংঘ

নিউজ ডেস্কঃ 

ঢাকায় সফররত জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির বলেছেন, বাংলাদেশ আর্থ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। এটা  একটা অনন্য উদাহরণ। এলডিসি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জলবায়ু ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বকে আশা দেখাচ্ছে।

দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা সফরে আসেন জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির। সফরের শুরুতে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ ছাড়া সকালে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন ও জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভাসানচরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। পরিবর্তিতে সেখানেই ষষ্ট বঙ্গবন্ধু লেকচার সিরিজে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। বুধবার সকালে ভলকান বজকির কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে যাবেন। সেখানে ঢাকার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যক্রম সম্পর্কে তুরস্কের সাবেক এই কূটনৈতিককে জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভলকান বজকির বলেন, আমি ভাসানচরে যেতে পারছি না। তবে আমি একটা ভিডিও দেখেছি। আমি মনে করি, এটা শরণার্থীদের জন্য তৈরি করা এমন একটি ক্যাম্প যেটা বিশ্বের জন্য উদাহরণ। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশ সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ ভালো দৃষ্টান্ত এবং এটা ভূয়সী প্রশংসার যোগ্য।

এদিকে বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু, জলবায়ু ইস্যু, কীভাবে আমাদের এসডিজিগুলো অর্জনের জন্য টাকা-পয়সা প্রযুক্তি কীভাবে পাব এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া শান্তি মিশনে আমাদের যে কালচার অব পিস এটার ইভেন্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট এটার আয়োজন করবেন সেটার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পরিবর্তনের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২৫ মে) গণভবনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) প্রেসিডেন্ট ভলকান বজকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কিন্তু মিয়ানমারের এই পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের অস্থায়ী আবাসনের জন্য ভাসানচরকে প্রস্তুত করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভাসানচর দ্বীপে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নেওয়া যেতে পারে। এখন পর্যন্ত সেখানে ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে নেওয়া হয়েছে।

এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক দিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) প্রেসিডেন্ট ভলকান বজকির।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট ভলকান বজকির রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, জলবায়ু পরিবর্তন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহামারির মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রাণঘাতি কোভিড-১৯ ভাইরাস হতে দেশের জনগণ এবং অর্থনীতিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি করোনাভাইরাস হতে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এবং এর প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রণোদনা প্যাকেজ ও সকল শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য অন্যান্য অর্থ সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীদের ক্ষমতায়িত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমরা তার দেখানো পথে রাজনীতি থেকে প্রশাসন সমাজের সকল সেক্টরে নারীর ক্ষমতায়ন করছি।

জাতীয় সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, স্পিকার এবং সংসদ উপনেতা চারজনই নারী সে কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক সুরক্ষা আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকার প্রধান।

এ বছর সরকার প্রধানদের সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন করার চিন্তা ভাবনার কথা জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) প্রেসিডেন্ট ভলকান বজকির। তিনি বলেন, এ বছর জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় প্রতিটি দেশ দুই জনের একটি প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লিঙ্গ বৈষম্য এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন ভলকান বজকির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একজন লেডি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অসাধারণ সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ প্রসঙ্গে ইউএনজিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ সারা বিশ্বের সামনে একটি দৃষ্টান্ত।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •