শেরে বাংলা পদক পেলেন সিলেটের প্রখ্যাত অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল বাকী

প্রকাশিত:বুধবার, ০৪ অক্টো ২০১৭ ০২:১০

শেরে বাংলা পদক পেলেন সিলেটের প্রখ্যাত অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল বাকী

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য শেরে বাংলা পদক ২০১৭ পেলেন জালালাবাদ কলেজ, সিলেট এর অধ্যক্ষ ও সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল বাকী চৌধুরী। গত মঙ্গলবার শেরে বাংলা সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক শাহবাগ ঢাকা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী শওকত ওসমান ম্মৃতি মিলনায়তনে ‘‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা’’ শীর্ষক আলোচনা সভার অনুষ্টানে তাঁকে এ পদক প্রদান করা হয়।

 

অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, প্রধান আলোচক সাবেক স্বরাষ্ট্র  প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল ইসলাম টুকু এমপি সহ শেরে বাংলা সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডশনের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মকর্তা বৃন্দ।

প্রফেসর আব্দুল বাকী চৌধুরী কমলগঞ্জ থানার বারামপুর গ্রামে অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১লা জানুয়ারী ১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা: সনাওয়ার চৌধুরী, মৌলভীবাজার সরকারী মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।

গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমলগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁর ছাত্র জীবনের সূচনা । তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (ডিসটিংকশনসহ) ১ম বিভাগে পাশ করে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।

 

তিনি তার পিতার মত শিক্ষকতাকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেচে নেন। চট্টগ্রাম গভ: ইন্টাঃ কলেজের ইংরেজী বিষয়ের লেকচারার হিসেবে তাঁর  চাকুরী জীবনের সূচনা । পরে ইসলামী ইন্টা: কলেজ চট্টগ্রামে তিনি লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৪ সালে সিলেট সরকারী এম.সি ইন্টাঃ কলেজে যোগদান করে সেখানেই ১৯৮০ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে এম.সি কলেজে দীর্ঘ দশ বছর অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে দশ বছর অধ্যাপনা করেন। এরপর তিনি ১৯৯৯ সালে  জকিগঞ্জ সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে এবং ২০০০ সাল থেকে সিলেট সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে মার্চ মাসে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনীত হন; সেখানে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকুরী করার পর তৎকালীন সরকার তার কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে স্ব পদে পূনরায় এক বছরের জন্য নিয়োগ দেন। পরে তিনি এম.সি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে বদলী হয়ে অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগ খোলার পর ইংরেজী বিষয়ের তিনজন সিলেবাস প্রণয়নকারীদের অন্যতম একজন ছিলেন। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পান এবং সেখানে দীর্ঘ দিন অধ্যাপনা করেন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন বোর্ডের ইংরেজী বিষয়ের প্রশ্ন প্রণনয়কারী, মডারেটর ও প্রধান পরীক্ষক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের বার কয়েক প্রধান পরীক্ষক ছিলেন। তিনি সিলেটের অন্যতম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল খাজাঞ্চী বাড়ী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০০৮ সালে তিনি সিলেটে প্রতিষ্ঠিত জালালাবাদ ইউনিভার্সটি কলেজের (বর্তমান জালালাবাদ কলেজ) অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত বিচক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০০৯ সালে তিনি  পবিত্র হজ্জ পালন করেন এবং বর্তমানে কোরআন হাদীস ও ইসলামী শরীয়াহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা ও গবেষণা করে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। তার স্ত্রী আশরাফুন নেছা চৌধুরী অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ মহিয়সী নারী।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যার গর্বিত পিতা। তার কন্যা ডঃ চৌধুরী ফারহানা ঝুমা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং পুত্র চৌধুরী ইশতিয়াক আহমদ ইংল্যান্ডে অধ্যায়নরত। তার জামাতা রাহাত শামস্ স্ট্যাডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের মার্কেটিং ডিভিশনের হেড হিসেবে কর্মরত আছেন।

বর্তমানে তিনি বালুচরে নিজ বাসায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন।

প্রফেসর আব্দুল বাকী চৌধুরী সংক্ষিপ্ত অনুভুতি প্রকাশ করে জানান, তার এই দীর্ঘ শিক্ষা জীবনে তিনি হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জীবনের এই শেষ বয়সে তার এই মূল্যায়ন শেরে বাংলা পদক প্রদানে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ