সমুদ্রে গ্যাসের উপস্থিতি নিয়ে সমীক্ষা চালাবে সরকার

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট :: বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অধিকৃত জলসীমায় ‘গ্যাস হাইড্রেট’ বা জমাট বরফের স্ফটিক থেকে জ্বালানি গ্যাসের উপস্থিতি, অবস্থান, প্রকৃতি ও মজুত বিষয়ে নতুন করে সমীক্ষা করতে চায় সরকার। এ জন্য পূর্বে সম্পাদিত জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করার জন্য সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে একটি ডেস্কটপ স্টাডি সম্পাদন-সংক্রান্ত পেশাগত সেবা করতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ সেবা ক্রয়ে নীতিগত অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে এটির নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়ে পারে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর বাংলাদেশ মূল ভূখণ্ডের ন্যায় ৮৮ ভাগ আয়তনের বিশাল সমুদ্র এলাকা থেকে মৎস্য ও খনিজসম্পদ আহরণের অধিকার অর্জন করেছে। এ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ব্লু ইকোনমি সেল’ কর্তৃক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘গ্যাস হাইড্রেট’ বা জমাট বরফের স্ফটিক থেকে জ্বালানি গ্যাসের উপস্থিতি, অবস্থান, প্রকৃতি ও মজুত বিষয়ে নতুন করে স্টাডি করতে চায় সরকার।

Manual5 Ad Code

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বঙ্গোপসাগরের নিচে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে যা আগামী দিনের জ্বালানি-রাজনীতি ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ কারণে এ অঞ্চলটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়ার অন্যতম জ্বালানিশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ অবস্থান করছে। পরবর্তীতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সুপার পাওয়ার ‘গ্যাস হাইড্রেট’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Manual6 Ad Code

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে তাকিয়ে আছে সমুদ্রসম্পদের দিকে। ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে প্রায় ৯০০ কোটি। গবেষকরা বলছেন, বিপুল এই জনগোষ্ঠীর খাবার জোগান দিতে তখন সমুদ্রের মুখাপেক্ষী হতে হবে। আর এ কারণেই ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র সম্পদনির্ভর অর্থনীতিকে গুরুত্বারোপ করার তাগাদা দিচ্ছেন গবেষক ও বিশ্লেষকরা।

বেশ আগেই জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর তলদেশ থেকে দেশটি ‘গ্যাস হাইড্রেট’ বা জমাট বরফের স্ফটিক থেকে জ্বালানি গ্যাস উত্তোলন করতে সক্ষম হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস হাইড্রেটকে প্রচলিত অর্থে ‘বরফের টুকরো, যা জ্বলে বলা যেতে পারে’।

Manual5 Ad Code

বিজ্ঞানীদের অনুমান, পৃথিবীতে প্রায় এক হাজার বিলিয়ন টন পরিমাণ গ্যাস হাইড্রেট সমুদ্রতলের গভীরে অথবা মেরু অঞ্চলের ‘পারমাফ্রস্ট’র (স্থায়ীভাবে বরফে রূপান্তরিত ভূমি) মধ্যে সঞ্চিত আছে। পৃথিবীতে বর্তমানে আবিষ্কৃত মোট জীবাশ্ম জ্বালানির পরিমাণের সঙ্গে এই পরিমাণের তুলনা করা যায়।

সংগত কারণেই এই বিশাল জ্বালানিসম্পদ ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। নির্দিষ্ট তাপ ও চাপের যে প্রাকৃতিক পরিবেশে গ্যাস হাইড্রেট জ্বালানি গ্যাস (প্রধানত মিথেন) ধরে রেখেছে, সে পরিবেশ পরিবর্তিত হলে এক আয়তন গ্যাস হাইড্রেট তার আয়তনের ১৬৪ গুণ বেশি পরিমাণ মিথেন গ্যাস নিঃসরণ করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, চীন, ভারত, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সম্ভাবনাময় গ্যাস হাইড্রেট নিয়ে নানামুখী গবেষণা চালাচ্ছে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code