সময় অসময় ১১ : বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও স্বাধীনতার সুফল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রু ২০২১ ০৫:০২

সময় অসময় ১১ :  বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও স্বাধীনতার সুফল

মীর লিয়াকত::

আমাদের দেশের সেকাল ছিলো গোলামীর শেকল পরা এক অন্যজীবন। সেখানে ছিলো না কোন স্বকীয়তাÑ চলতে হতো অপরের ইচ্ছা-অনিচ্ছায়। বহুজনের গোলামী করে করে আজ আমরা স্বাধীন। একালের ডিজিট্যাল যুগের প্রজন্ম সেই দিনগুলিকে নেবে কিসসা কাহিনীর মতো। শিশুকালে আমরা কিছু দেখে অবাক বিষ্ময়ে তাকাতামÑ এখনকার শিশু অবাক বিষ্ময়ে না তাকিয়ে ছোট ছোট হাত বাড়িয়ে দিতে চায় ‘মাউস’র দিকে। চলে যেতে চায় পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। একালে এরা অনেক অনেক দূর এগিয়েÑ উন্নত প্রযুক্তি ও স্বাধীনতার সুফল লাভে।

১৯৫৯ সালে আমি যখন শমশেরনগর প্রাইমারী স্কুলে পড়ি তখন পলিটিক্স এর ‘প’ ও বুঝতাম না। শুধু মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দীদের নাম বড়দের মুখে শুনতাম। সেদিন আর এখন নেই। পাল্টেছে দিনকাল।  এখন প্রাইমারীতে পড়া শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগ বিএনপিও বোঝে! অনেকে মিছিলেও যায়। পক্ষাপক্ষী অবলম্বনও বোঝে। এসবও কালের বিবর্তনÑ এটাই স্বাভাবিক। যুগের ট্রেন কখনো থেমে থাকে না। চলতেই থাকে।
১৯৪৭ সালে পাকভারত স্বাধীন হবার পরও এই দেশে (বর্তমান বাংলাদেশ) কোন সংবাদপত্র ছিলো না। দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইত্তেহাদ প্রকাশিত হতো কলকাতা থেকে। সেখান থেকে পত্রিকা এলে ঢাকার মানুষ পড়তো। আর সারা দেশে পৌঁছতে লাগতো এক কিংবা দুদিন। অর্থ্যাৎ মফস্বল সংস্করন! তার মা

নে আমরা ওদের থেকে পিছিয়ে দীর্ঘ দুইদিন! ১৯৩১ সালে সাপ্তাহিক যুগভেরী প্রাকাশিত হয়Ñ তাও ইন্ডিয়া থেকে। আজাদ প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। সেই হিসাবে যুগভেরীই বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র।
সম্ভবত: ১৯৪৯ সালের পর আজাদ ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। কলকাতা থেকে প্রকাশের সময় স্বনামধন্য আবু জাফর শামসুদ্দিন ছিলেন ঢাকায় আজাদের ব্যুরো প্রধান। ঢাকা থেকে তিনি রিপোর্ট করতেন আজাদে। সে সময় সারা দেশে দুতিনজন ফটো সাংবাদিক ছিলেন। আবু জাফর ছিলেন তার মধ্যে অন্যতম। নারীদের মধ্যে ছিলেন মাত্র একজনÑ তিনি হলেন লায়লা সামাদ। সে সময় সাংবাদিকতা এদেশে ছিলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ন। এই ঝুঁকিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরীরা। পরবর্তীকালে ইত্তেফাক ব্যাক্তি উদ্যোগে প্রকাশিত হয়। তারপর আসে দৈনিক সংবাদ।
দেশের স্বাধীনতার পর আমি প্রাচীনতম যুগভেরী ও আজাদে কাজ করেছি দীর্ঘদিন। তখনো পত্রিকা নিয়মিত ভাবে হাতে আসতো না। পরদিন ট্রেনে পত্রিকা এলে ঐদিনই সবাইকে পড়তে হতো। দিন পাল্টে যাবার সাথে সাথে এখন এদেশে হাজারো পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। পত্রিকা ঢাকায় প্রকাশিত হবার সাথে সাথে (৪/৫ ঘন্টার মধ্যে) সবাই হাতে পেয়ে যেতে পারেন।
এটাও আমাদের স্বাধীনতার সুফল। এখন সংবাদপত্র মানে শিল্প। এখন আর বাংলাদেশ সংবাদপত্র প্রকাশের দিক থেকে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের চেয়ে মোটেই পিছিয়ে নেই। দীলি­, কলকাতা, করাচী, লাহোরের পত্রিকার ষ্ট্যান্ডার্ড কোনভাবেই আমাদের উপরে নয়। হয় সমানে সমানÑ নয় কিছুটা উপরেই! তাল মেলাচ্ছে বৃটিশ এ্যামেরিকান পত্রিকার সাথে।  সাহিত্য সাংবাদিকতায় আমাদের দেশ এখন বহুদূর এগিয়ে। পশ্চিম বাংলাও তা আজ অবলীলায়  স্বীকার করছে। এসবই সম্ভব হয়েছে স্বাধীনতার সুফলের কারনেই।

উদাহরন স্বরূপ বলা যায় ক্রিকেটের কথা। যে পাকিস্তান এদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে হাসাহাসি করতোÑ তারা এখন বাংলাদেশের সামনে ভয়ে জবুথবু। ভবখানাÑ এই বুঝি রয়েল বেঙ্গল গর্জে উঠলো।
যখন বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল তখন পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বে অনেক এগিয়ে থাকলেও তাদের টিমে পূর্ব-পাকিস্তানের ছেলেদের নিতে চাইত না। কালেভদ্রে দুএকজনকে অগত্যা সুযোগ দিতো। তাই, হানিফ মোহাম্মদ, জহির আব্বাস জাভেদ মিয়াদাঁদদের নাম বিশ্বজোড়া ছিলো। সে সময় পাকিস্তান যদি পূর্বপাকিস্তানকে তাদের মতো সমান গুরুত্বের চোখে দেখতো তাহলে এখান থেকেও অনেকের নাম বিশ্ব কাঁপাতো।

যেমনটা ঘটছে এখন! এই সময়ে একটু লক্ষ করলেই বোঝা যাবে ওদের মো: ইরফান, ওয়াহাব রিয়াজ, প্রমুখদের চেয়ে আমাদের মুস্তাফিজ সাকিবদের ইমেজ  বেশি এগিয়ে নয় কি? এবারের আইপিএলের দিকে দৃষ্টি ফেরালেই ফিজির অবস্থান সবার চোখ ধঁধিয়ে দেবেই। দক্ষিন আফ্রিকার জাত ক্রিকেটাররা লেজ নামিয়ে পলায়নের পথ খোঁজে। অষ্ট্রেলিয়া তো সামনে আসারও সাহস পাচ্ছে না। নিজের দেশে বসেই কাঁপছে! ইন্ডিয়া যে তাচ্ছিল্য করতোÑ তাদের মুখে আর সেই হাসি নেই। কখন যে ধরা খায় সেই চিন্তায় তাদের ত্রাহি ত্রাহি চলছে! গত বিশ্বকাপের অবস্থাতো সবারই জানা। এক মুস্তাফিজের তান্ডবেই ইন্ডিয়া পথ খুঁজে পাচ্ছে না। সাকিব-তামিম- সাব্বিরদের কথা না-ই-বা বললাম! বিশ্বকাপে ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ডের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ক্রিকেটে বিশ্ব রেকর্ডগুলো ক্রমে চলে আসছে এদেশে। মুস্তাফিজ, মাশরাফি,  মুশফিক, সোহাগ গাজী, তাইজুলদের হাতে এখন শোভা পাচ্ছে বিশ্বরেকর্ড। আর সাকিব? তার কাছকাছি পৌছাঁ যেন আকাশ-কুসুম কল্পনা। এসবও কিন্তু এই স্বাধীনতার সুফল। যাক সে কথা! যা বলছিলামÑ

ষাটের দশকে মৌলবীবাজার জেলার কমলগঞ্জ  অঞ্চলের সাংবাদিকতা শুরু করেন মফিজ আলী। তাঁকে অনুসরন করে এগিয়ে আসেন সৈয়দ মতিউর রহমান। তবে তাঁরা দুজনই রাজনৈতিক দর্শনে সমর্পিত থাকার কারনে তাঁদের লেখনীকে রাজনীতির ছোঁয়ায় নিয়ে যাবার ফলে ‘নিউজে’ সময় দিয়ে উঠতে পারেন নি।
মফিজ আলী রাজনীতির কারনে অন্তরীন ও শ্রমিক কৃষকের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেবার কারনে দৈনিক জং থেকে শুরু করে সংবাদেও আর সময় দিতে পারেননিÑ যদিও তাঁর সুতীক্ষè লেখার পাঠক ছিলো সারা দেশ জুড়ে। নামে বেনামে লেখা তাঁর ফিচার প্রকাশিত হতো বিভিন্ন পত্রিকায় ।

সৈয়দ মতিউর তাঁর কর্মযজ্ঞকে নিয়ে যান জেলা শহরে এবং পরবর্তীতে দৈনিক বাংলার অফিসে। সেখানে মামলায় জড়িয়ে পড়লে তাঁর সাংবাদিকতা বাঁধাগ্রস্থ হয়। তিনি ছিলেন অসম সাহসী। সত্তরের দশকে আমার গ্রেপ্তারের সময়ে তাঁর সাহসিকতায় শমশেরনগরে মিছিল হয়েছিলো। এমনকি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কাঁপন সৃষ্টি হয়েছিলো। তিনিই এই অঞ্চলে প্রথম সাংবাদিক যিনি ১৯৬৩ সালে (আমি তখন শমশেরনগর হাইস্কুলের ছাত্র) শমশেরনগর হাইস্কুলের ছাত্রদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ঘাস খাওয়ানোর প্রতিবেদন দৈনিক বাংলায় প্রকাশ করে আলোড়ন তোলেন। উলে­খ্য, ১৯৬৩ সালে (শেরে বাংলার মৃত্যুর পরের বছর) সুবিখ্যাত প্রধান শিক্ষক মহরম আলী শমশেরনগর হাইস্কুল ছেড়ে শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া হাইস্কুলে যোগদান করলে বশির উদ্দিন আহমদ প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। সে সময় প্রধানশিক্ষক বশিরউদ্দিন আহমদ ছাড়াও যাঁরা ইংরেজী পড়াতেন তাঁরা হলেন শশীমোহন মলি­ক (ইংরেজীতে ছিলেন বিচক্ষন পন্ডিতÑ এটি দেবের ডিকশনারী ছিলো তাঁর মুখস্থ), বেলায়েত আলী (পরবর্তীতে কমলগঞ্জ আওয়ামীলীগ সম্পাদক)ও মোজাফফর আহমদ (পুরস্কারপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা লীডারÑ উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার লিলির বাবা)।
প্রধানশিক্ষক ইংরেজী শিক্ষায় এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য একটি নিয়ম চালু করেছিলেন। নিয়মটি ছিল যারা পড়া শিখে আসবে না তাদের সম্মিলিতভাবে বিদ্যালয় অঙ্গনে চার-পেয়ে হয়ে গরুর মতো ঘাস খেতে হবে। এই নিয়ম প্রবর্তিত হলে সবাইকেই ভয়ে পড়া শিখে আসতে হত। তাঁর ভয়ে আমাদের ইংরেজী শিক্ষার পথ সুগম হয়েছিলো Ñএই কথাটি বলতেই হয়। শ্রেনীতে সর্বদা প্রথম থাকার কারনে এবং নিয়মিত পড়া শিখে আসার কারনে ক্যাপ্টেন হিসেবে আমাকে শ্রেনীর দায়িত্ব নিয়ে রাখালের দায়িত্ব পালন করতে হতো।
ছবিটি ঐ সালে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন প্রভাব বলয়ের কারনে এই ধরনের নিউজ পত্রিকায় করার সাহস তখন অসম্ভব ছিলÑ কিন্তু অসম সাহসী সৈয়দ মতিউর এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।
১৯৫৮ সালে কমলগঞ্জের কোথাও সংবাদপত্রের কোন এজেন্সী ছিলো না। এর গোড়াপত্তন করেন আমার বাবা শমশেরনগরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মীর ওয়াজেদ। শমশেরনগর চৌমুনায় ছিলো তাঁর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেখানেই তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠে সংবাদপত্রের প্রথম এজেন্সী।
দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক পয়গাম, মর্নিং নিউজ, পাকিস্তান অবজার্ভার, পাকিস্তান টাইমস্, মাহে নও, সাপ্তাহিক বেগম, ইত্যাদি পত্রিকাগুলো এখান থেকেই বিস্তীর্ন অঞ্চলের সবাইকে সংগ্রহ করতে হত। সে সময় তেমন গাড়ীঘোড়ার বালাই ছিল না।
যারা অনেকদূর থেকে পদব্রজে লোক পাঠিয়ে সংবাদপত্র শমশেরনগর ‘লিয়াকত ষ্টোর’ থেকে সংগ্রহ করতেন তাদের মধ্যে ছিলেন ভানুগাছের করামত আলী এম.এল.এ, মুন্সীবাজারের আব্দুল বারী (চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এর বাবা), পৃথিম পাশার আলী সফদর খান (রাজা সাহেব), আলীনগরের নিষিথরঞ্জন দত্ত, হাজীপুরের হবিব বক্ত চৌধুরী প্রমুখ ও  প্রায় সকল চা-বাগানের ম্যানেজারবৃন্দ! সংবাদপত্রের এই প্রথম এজেন্সীর নাম ছিল ‘এম. এম. খাতুন এন্ড সন্স’ (মালেকা খাতুন এন্ড সন্স- মালেকা খাতুন ছিল আমার মায়ের নামÑ আমার মায়ের নামে এই এজেন্সীর নামকরন করা হয়েছিলো।)

বাবার এই এজেন্সীতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা দেখে দেখে ছোটবেলা থেকে বড় হই। তখন থেকেই আমি সংবাদপত্রের প্রতি ঝুঁকে পড়ি। পরবর্তীকালে এই নেশাই আমাকে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে মনোযোগী করে তোলে।
১৯৭৬ সালে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর একটানা বারো বছর এই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ লাভ করি। ১৯৮২ সালে এই নেশাই আমাকে ‘জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে দেয় এবং ঢাকায় সারা দেশের সাংবাদিকদের সভা আহŸান করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিক সংস্থা সফলভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হই। এই সভার খবরটি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) দেশের সব কাগজে পরিবেশন করেছিলো।
এদিকে ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার পর স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা তিনজন এই অঞ্চলে সাংবাদিকতার গোড়াপত্তন করি। অপর দুজন হলেন আব্দুস শহীদ সাগ্নিক (দেশবার্তা) ও মো: আলালউদ্দিন (সংবাদ)। স্বাধীন দেশে তৃণমুল থেকে আমাদের নিউজ ও ভিউজ সাড়া জাগায়। কমলগঞ্জ হয়ে ওঠে উলে­খযোগ্য একটি ‘নিউজ-এরিয়া’। গড়ে ওঠে প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতির শাখা। শুধু কমলগঞ্জেই নয় কুলাউড়ায় সুশীল সেনগুপ্ত ও সাকিল রশীদ চৌধুরী ছাড়া কোন সাংবাদিক না থাকায় তাদের সমন্বয়ে আমরাই গড়ে তুলি কমলগঞ্জ-কুলাউড়া সাংবাদিক সমিতি।
এর আগে সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি সফিউদ্দিন আহমদ শমশেরনগর সফর করে আমার বাড়িতে অতিথি হন। আব্দুর রশিদ মাখন, দীপ্তি দাশ, আব্দুল হান্নান, আশরাফুল হক, শিবকুমার ধর, আজহারউদ্দিন বাদশা, অমলেন্দু রায়, রানা দত্ত, মীর শওকত, বাবুল দেবরায় প্রমুখরা এগিয়ে আসেন।

৮০ ‘র দশকে আহমদ সিরাজ, ইসহাক কাজলরা এগিয়ে এলে ক্রমে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে আরো। সৈয়দ ইব্রাহিম আলী, আব্দুল ওয়াহিদ, সত্যব্রত দেবরায়, সাজিদুর রহমান সাজু, মুজিবুর রহমান রঞ্জু, আবিদুর রহমান দুদু, আব্দুল হান্নান চিনু, প্রনয় সিংহ, বিশ্বজিৎ রায়, সুব্রত দেবরায়, প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, আব্দুল ওয়াহিদ রুলু, পিন্টু দেবনাথ, নুরুল মোহাইমীন মিল্টন, আব্দুর রাজ্জাক রাজা, সায়েক আহমদ. প্রমথ পাল, মাহফুজ আদনান, শাহীন আহমদ, মুস্তাফিজুর রহমান, কামরুল হাসানরা এই ভিত্ শক্ত করেন। প্রকাশনা  ধলাইর ডাক, ধলাই, শমশেরনগর বার্তা প্রকাশিত হলেও টিকে থাকেনি। এর পর কমলগঞ্জের কাগজ, কমলগঞ্জ সংবাদ. কমলকুঁড়ি, চা-মজদূর প্রকাশিত হয়। টিম টিম করে এখনো  এরা আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।
এসবও কিন্তু স্বাধীনতারই সুফল।

যদি আজো আমরা পাকিস্তানের পদানত থকতাম  তাহলে আমরা যে তিমিরে ছিলাম সেখানেই থেকে যেতাম। বিকশিত হবার ধারা শুরু হয়েছে Ñএই ধারাকে ধরে রাখতে হবে।
আমাদের আশা থাকবে কখনো যেন আমরা আর কারো পদানত না থাকি। ওলন্দাজ-পর্তুগীজ-বৃটিশ-পাকিস্তানীরা গেছেÑ আর যেন নতুন করে কেউ না আসে।
এটাই প্রত্যাশিত।

এই সংবাদটি 1,254 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •