সময় অসময় ১২

প্রকাশিত:বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১ ০৫:০৩

সময় অসময় ১২
দেশের জাতীয় সম্পদ : আস্কর আলী পণ্ডিতের সঙ্গীত
মীর লিয়াকতঃ

দেশ জাতি কাল ও পাত্রভেদে অনেক কিছুই জাতীয় সম্পদ হতে পারে। কিন্তু স্বরের আবেগময় ও অনন্য ভাষা তা কখনো জাতীয় সম্পদ হয়ে উঠে না। সঙ্গীতের মতো পরম মধুর ভাষাকে জাতীয় সম্পদ করে নেয়া সম্ভব হলে তাতে ক্ষতিটা কি হতে পারে এ প্রশ্নের জবাব সর্বদাই নিভৃতে কাঁদে। মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, ‘সঙ্গীত হইল সুর তাল ও সঙ্গতি। মানুষের মনের উপরে ইহার প্রভাব বিদ্যুৎ প্রবাহের ন্যায়। শুনিবার সঙ্গে সঙ্গে ইহা মনকে স্নিগ্ধ করে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের শাস্ত্রের ন্যায় সঙ্গীত হইল অল্প কয়েকজনের বিশেষ অধিকারের জিনিষ। ইহাকে কখনই আধুনিক অর্থে জাতীয় সম্পদ করিয়া তোলা হয় নাই।’ আসলে একটি মার্জিত পরিশীলিত জাতির কাছে সঙ্গীতের মতো মন ও চেতনার খোরাক সঙ্গীত জাতীয় সম্পদ হওয়াই বাঞ্চনীয়। মহাত্মা গান্ধীর আক্ষেপ হয়তো সেখানেই।
বাংলাদেশ সঙ্গীতের দেশ। বলা হয়ে থাকে পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে দেশে সবচেয়ে বেশি দেশের গান আছে। দেশাত্মবোধক এতো গান আর কোন দেশে গাওয়া হয় না। এ গানগুলি কি আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদ নয়? সারা দেশ জুড়ে রয়েছে জানা অজানা বহু সাধক মরমী কবিদের অসংখ্য গান যা যুগে যুগে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্পন্দন তোলে। খোদ রবীন্দ্রনাথ বিমোহিত ছিলেন লালনের গানে। লালন, হাসন, রাধারমন, দুরবীন, আরকুম, শীতালং, ইয়াসীন, শাহনুর, করিম প্রমুখ সৃষ্টিশীল মরমী কবিরা কাল থেকে কালে মানুষের অন্তরের মনিকোঠায় বাসা বেধে আছেন। এদের অমর সৃষ্টিকে বাদ দিয়ে বাংলার সাহিত্য, বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি কি কখনো বাংলার মূল সুর খুঁজে পাবে?
এমনি একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব লালন হাছনদের স্বার্থক উত্তরসুরী আস্কর আলী পন্ডিত। নামে তিনি তেমন আলোচিত না হলেও তার সৃষ্টির বিশালত্ব কল্পনাকেও হার মানায়। মরমী গানের জগতে তার গানের গভীরতা ও অন্তর্দৃষ্টি আর কার গানে আছে কিংবা নেই সে প্রশ্নের যাবার প্রয়োজন অবান্তর। সুরের অপরূপ মূর্ছনা, মীড়-গণকের চমৎকার যুগলবন্দী, লয় তাল আড়ির ব্যতিক্রমধর্মীতা। সর্বোপরি বানী বন্দনার হৃদয়ছোঁয়া গভীরতা ও ভাবের নিরবিচ্ছিন্ন আমেজ তাঁকে অন্যরকমভাবে পরিচিতি দিয়েছে। এখানে তার একটি বিখ্যাত গান আংশিক তুলে দিচ্ছি- যা তপন চৌধুরীর কণ্ঠে গীত হয়ে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রতিটি মানুষের মন আন্দোলিত করে।
ডালেতে লড়িচড়ি বৈও চাতকী ময়নারে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইও।
ওরে চাতকী ময়না অঙ্গ তোর কালা
তোর মনে আর আঁর মনে এক্কই প্রেমর জ্বালা
মন কইলে চাতকিনী নদীর পানি খাইও
ফুল-মধু খাইত চাইলে মধুপুরে যাইও \
দক্ষিণমুখী বইলেরে ময়না বাতাস লাগে গায়
পশ্চিমমুখী বইলেরে ময়না অঙ্গ জ্বলি যায়
উত্তরমুখী বইলেরে ময়না শীতে খাইব চাইও \
কুন্দি আইব পরান বন্ধু আগে মোরে কইও
অষ্ট অলঙ্কার আমি তুলিয়া দিলুম গায়
পাটের শাড়ী পিন্দি চাইলম শরীর না জুড়ায়
কয় শ্রী আস্কর আলী সময় হইলে পরে
মাধব বৈরাগীর মনে বিলাই দিয়ুম তোরে।

ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় লেখা হলেও জনপ্রিয়তায় সারাদেশের শীর্ষ গানগুলির অন্যতম এ গানটি। চট্টগ্রামের এই অসাধারণ লোকগীতিকারের উপর তেমন কিছু জানা না গেলেও গবেষক শামসুল আরেফীনের ‘আস্কর আলী পন্ডিত ঃ একটি বিলুপ্ত অধ্যায়’ গ্রন্থটির মাধ্যমে ইতিহাস সুফী সাধক আস্কর আলী পন্ডিতকে জানার সুযোগ পাবে। কারণ এ গ্রন্থটিই আস্কর আলী পন্ডিতের উপর লেখা প্রথম এবং একমাত্র গ্রন্থ।
আস্কর আলী পন্ডিতের সঙ্গীত আলোচনা করতে গেলেই তার চুরি হয়ে যাওয়া কিংবা ডাকাতি-লোপাট হয়ে যাওয়া গানের উলে¬খ করতেই হয়। তার বহু গান বিভিন্নভাবে ‘সংগৃহিত’ লেবেল লাগিয়ে অবলীলায় আসছে এ্যালবাম, ক্যাসেট এবং বেতার-টিভিতে। অনেকে আবার ‘সংগৃহিত’ বলার ভদ্রতাটুকুও ভুলে গিয়ে বুক চিতিয়ে নিজের রচনা ও সুরারোপ করা বলেও দিব্যি চালিয়ে দিচ্ছেন। এ কলঙ্কজনক বিষফোঁড়া কি আমাদের দেশ ও জাতিকে নিস্তার দেবে? সাধক মরমী কবিদের অমর গান চুরি করে, ডাকাতি করে নিজেদের নামে চালিয়ে নিজেরাই অনেকে এখন মরমী কবি হয়ে উঠছেন। গানের স্থায়ীত্বে হাছন রাজা, অন্তরায় লালন ফকির, সঞ্চারিতে ইয়াসীন শাহ আর আভোগে আস্কর আলী পন্ডিত লাগিয়ে দিয়ে সর্বশেষ সমাপ্তিতে ‘অমুক বলে’ কিংবা ‘ফকির বলে’ জুড়ে দিয়ে ক্ষান্ত করলেই তো মরমী গান হয়ে যায়। নব্য এসব চোর ডাকাতের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ারও বিধান নেই। দেশজুড়ে আইন আছে, আদালত আছে, রিমাণ্ডে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে কিন্তু সঙ্গীতের মতো পবিত্র একটি ব্যাপার নিয়ে এই যে পুকুর চুরি, সাগর চুরি হচ্ছে তার কোন প্রতিকার নেই। সঙ্গীত কি এতই ফালতু?
এজন্যেই হয়তো মহাত্মা গান্ধীর আক্ষেপকে স্মরণ করতে হয়। সঙ্গীত যদি জাতীয় সম্পদ হিসাবে চিহ্নিত হতো, সংরক্ষিত হতো এবং মূল্যায়িত হতো তাহলে এ ধরনের হীন প্রয়াস অব্যাহত থাকতো না।
দেশে এখন টেলিভিশন চ্যানেলের অভাব নেই। বাংলাদেশে সরকারী বেসরকারী চ্যানেলের সংখ্যা দশ পনের তো হবেই। এসব চ্যানেল তাদের নীতিমালায় ‘সংগৃহিত’ ঝুংঃবস উঠিয়ে দিলে নিশ্চয়ই এসব চুরি ডাকাতি বন্ধ হওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হতে পারতো। গান প্রচারিত হবে অথচ তাতে গীতিকার ও সুরকারের নাম থাকবে না এটা কোন মগের মুল¬ুক? যারা এসব ব্যাপারে দোষী তাদের সাথে সহায়তার দায়ে চ্যানেল গুলি কি ‘সংগৃহিত’ ঝুংঃবস রাখার দোষে দোষী হবে না? আস্কর আলী পন্ডিত লিখেছেন-
‘কী জ্বালা দি গেলা মোরে, কী দুঃখ দি গেলা মোরে
নয়নের কাজল পরানর বন্ধুরে ন দেখিলে পরান পোড়ে’
চমৎকার এ গানটির সর্বশেষ পংক্তিতে আছে ঃ
মুরালী টিপিয়া যার গৈয়ে বন্ধুয়া আমি রইলাম বান্ধন ঘরে
আস্কর আলী ভনে পুরাবো বাসনা ননদিনী যদি মরে।’
যদি ধরা যায় এ গানটির ডাকাতের নাম তজই ডাকাত তাহলে কি হতে পারে? নিশ্চয়ই শেষ পংক্তিতে আস্কর আলী উঠিয়ে দিয়ে সেখানে তজই ডাকাত বসানো হবে। সেক্ষেত্রে পংক্তিদ্বয় কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।
‘তজই ডাকাত ভনে পুরাব বাসনা ননদিনী যদি মরে।’
সুফী বাউলদের গান বেমালুম এভাবে মেরে দিয়ে কতো তজই ডাকাত বর্তমানে মরমী গীতিকার হয়ে উঠছেন, মরমী গানের সুরকার হয়ে উঠছেন তার কোন শেষ নেই। বেতার ও টিভি কর্তৃপক্ষ এসব গানের প্রচারের ক্ষেত্রে এ ঝামেলার বিষয় জেনেই গান প্রচারের সময় সরাসরি ‘সংগৃহিত’ বলে নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পান। গবেষক শামসুল আরেফিন তাঁর গ্রন্থে হাতে কলমে আস্কর আলী পন্ডিতের মেরে দেয়া গানের কথা উলে¬খ করেছেন। যারা মেরে দিয়েছেন স্পষ্টভাবে তাদের নামও উলে¬খ করেছেন। আব্দুর রশিদ, আব্দুল গফুর হালীরা পন্ডিতের গান যে মেরে দেননি তা তারা বলেননি। অজস্র সঙ্গীত রচনা করা সত্তে¡ও বর্তমানে আস্কর আলী পন্ডিতের গান পাওয়া যাচ্ছে না কেন! শামসুল আরেফিন তাঁর গ্রন্থের সংগ্রহ অনুযায়ী যত সংখ্যক গান তুলে ধরেছেন সেগুলিই হয়তো ধংংবঃ হয়ে থাকবে। বাকী গান আর খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।
হাছন রাজা, রাধারমন, শীতালং শাহ, ইয়াসীন শাহের সহ কালজয়ী সকল মরমী কবিদের গান আমাদের সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করে আসছে। তাঁদের গানগুলির সুর লক্ষ করলে দেখা যায় প্রায় সবগুলো সুরই গভীর ভাববাদ ও একাগ্রতায় পূর্ণ। বৈচিত্রগুলোও গানের বাণী বন্দনার উপর নির্ভরশীল। প্রাথমিক পর্যায়ে মনে হয় একটি নির্দিষ্ট ছকে যেন গড়া। কিন্তু লালনের গানে আবার অন্যরকম ভিন্নতা। লালনের প্রায় সবগুলি গানই যেন রাগাশ্রয়ী। এখানে আস্কর আলী পন্ডিত একটি বিশেষ দিক নির্দেশনায় বিচরণ করেছেন বিশেষত সুরের দিক থেকে। রাগের এক অপূর্ব সংযোজন এবং মন ছুঁয়ে যাওয়া মূর্ছনা তার অনেক গানেই। গবেষক শামসুল আরেফিনের সংগ্রহ থেকে লক্ষ করলে দেখা যায়, ভৈরবী, কল্যাণ, মল¬ার, বেহারপুরি, কানাড়া, বিলাবল, পূরবী, সিন্দুরা, ধানসী, নটবেহার, গোরা, কন্নাটক, সিন্ধু, বসন্ত ইত্যাদি বহু রাগ রাগিনীর আশ্রয়ে তার গানগুলি সুরারোপিত। উপর্যুক্ত রাগাশ্রয়ী গানগুলি সুরারোপ করা হলে স্বাভাবিকভাবেই রাগের (ঠাট অনুযায়ী) আশ্রয়েই গানগুলিকে থাকতে হবে। হয়তো বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ প্রেক্ষাপটে রাগগুলোতে অন্য নোট (কোন কোন ক্ষেত্রে) ব্যবহার করে মিশ্র করা যেতে পারে বা মিশ্র হয়ে উঠতে পারে কিন্তু পরিপূর্ণ রাগের ঠাট থেকে বাইরে যাওয়া দুস্কর। সুরের এমন রাগাশ্রয়ী বিন্যাস লালনের গানে বেশির ভাগ লক্ষণীয়। কিন্তু আস্কর আলী পন্ডিতের গানগুলি নির্দেশিত রাগপ্রধান। রাগ রাগিনীর ভিত্তিতে সুর থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই গান তার সময়ের দিক নির্দেশ করেছে। কোথাও রাতের প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ, গভীর রাত, প্রথম সূর্যোদয়, সকাল দুপুর এবং অপরাহ্ন ইত্যাদি। শুধু তাই নয় রাগের আশ্রয়ের কথা নিশ্চয়ই আস্কর আলী পন্ডিত বাণী বন্দনা সৃষ্টির আগেই চিন্তা করেছিলেন অর্থাৎ সুরের একটি ইন্দ্রজাল তার মনের মধ্যে বাণী লেখার আগেই নির্মাণ করেছিলেন। যেমন রাতে কানাড়া কিংবা দরবারী কানাড়ায় ‘মন মজাচ্ছে যার শনে/ সে বন্ধুয়া পিরীতি জানে/বৃন্ধাবন গোকুলে চাইলুম ঘুরিয়া/একেশ্বরী নাইরে নারি/সঙ্গী কানাইয়া। একটু অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে লক্ষ করলে দেখা যাবে এ সুরের পুরোটাই সূর্যের আলোতে মানাবে না কিংবা গীত হওয়া বা গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তার সহজ অর্থ করলে সহজেই হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব রাগরাগিনীর খেলায় আস্কর আলী পন্ডিত বহুদুর এগিয়ে ছিলেন। সঙ্গীতে রাগ মল¬ার অথবা মিয়া কি মল¬ার বহু প্রাচীন একটি রাগ। মিয়া তানসেনের এ রাগের উপর গভীর বিস্তার ছিল। আস্কর আলী পন্ডিত এ রাগটিকে ভালভাবেই রপ্ত করেছিলেন বলেই মল¬ারে গড়ে উঠেছে ‘সে নাকি প্রেম করিব/অবলার মনের মতো/প্রেমবাজারে দোকানঘরে/ দেখি আইলুম রসিক কত।
আস্কর আলী পন্ডিত চট্টগ্রামের এক অবিস্মরণীয় মরমী কবি। তিনি লিখেছেন তার আঞ্চলিক ভাষায়। আঞ্চলিক ভাষায় রাগাশ্রয়ী গানকে পরিশুদ্ধ করে নেয়া হয়তো সম্ভব কিন্তু তার বাধাহীন পরিবেশন এককথায় দুরূহ। কিন্তু এ অসম্ভবকে সম্ভব করে শ্রোতাদের গ্রহণযোগ্যতাকেও ধরে রাখতে পূর্ণ সক্ষম হয়েছেন বিশাল প্রতিভার এই পন্ডিত।
যে কোন গান সুন্দর ও চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে তখন যখন সুরের সাথে বাণীর যোগ এবং গায়কের হৃদয়ঢালা আবেগ এক হয়ে উঠে। আস্কর আলীর পন্ডিতের বাণীতেও রয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত যাদু। রয়েছে সাহিত্যগত মান এবং গীতিকবিতার রাজসিক ছন্দ।
নিদ্রা আমার না আইশে
জ্বলিয়া উঠে মন
অঙ্গে লাগাই চাহিলাম
সুগন্ধি চন্দন
দুর দেশি ভাই, (তারে) লাজে না মাতাই
এই কারণে গেল মোর জীবন ও যৌবন।
আস্কর আলী পন্ডিতের গানে ছন্দের এ স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থান মূলতঃ গড়ে উঠেছে তাঁর পুঁথি রচনার উপর ভিত্তি করে। তিনি লিখেছিলেন বেশ কয়েকটি পুঁথি। পুঁথিগুলোর মুদ্রিত রূপ অনুলিপি সংরক্ষিত আছে। একটি পুঁথির বর্ণনাঃ
ভরসা আল¬াহর নাম রহিম সত্তার
প্রকাশিত হইল চিত্তে মনের বিকার \
মতিয় রহমান পুত্র বাঁচামিয়া নাম
তাহার সাহায্যে পুঁতি হইল ছাপান \
….. সওদাগরের এক পুত্র আব্দুস সোবান নাম
মেট্রিক পরিছে তিনি জোয়ারা গ্রাম।।
আস্কর আলী পন্ডিত দীর্ঘকাল বেঁচে ছিলেন। ১৯২৭ সালে তার বয়স ছিল ৮১ বছর। এ সময় তিনি মারা যান পিত্তশুল ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে। পক্ষমতী পিয়ারজান’ গ্রন্থের অনুলিপিতে তিনি তার পিত্তশুলে আক্রান্ত থাকার কথা বলেছিলেন ঃ
চিরবধি আমার উদরে পিত্তশুল
নিরস বচন মুখে নিশ্চরয় তিলে

……………………………….
শুল রোগে কৈল্য এবে শরীর কাতর
পুত্রকন্যা জশীতা হইল লোকান্তর।
১৮৪৬ সালে এইসাধক মরমী কবি জন্মগ্রহণ করেন। ৮১ বছরের দীর্ঘ জীবনে তিনি দেখেছেন বিশ্বের বহু উত্থান পতন। দেখেছেন প্রলংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশ্বযুদ্ধ আর যুদ্ধ পরবর্তী দুর্ভিক্ষ। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অবস্থাও উঠে এসেছে সহজ সরল ভাষায় তার গীতিকবিতায়।
‘দইনেতে নুনা জাগা
চাউলের কারবার বাইছাড়া
জাইল্যা বসি ধলঘাটা
পটিয়াতে কচু বেসি
কারবার বেসি সাদরঘাট
গরুর বাজার বিবিরহাট………!
চট্টগ্রামের এই কৃতি স্মরণীয় ব্যক্তিত্বকে তাঁর সৃষ্টিসহ ধরে রাখার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। গবেষক শামসুল আরেফিন যে অসাধ্য সাধন করেছেন, একটি বিলুপ্ত অধ্যায়কে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে রাখার যে প্রয়াস নিয়েছেন, আশা করা যায় আগামীতে এ পদাঙ্ক অনুসরণ করে আরো অনেকে এগিয়ে আসবেন এবং এ ধরনের বিরল অবিনাশী সৃষ্টির মূল্যায়ন করে দিকে দিকে ছড়িয়ে দেবেন। আস্কর আলী পন্ডিতের অমর সৃষ্টি এদেশেরই জাতীয় সম্পদ।

মীর লিয়াকত
সব্যসাচী লেখক

এই সংবাদটি 1,242 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •