সময় অসময় (৫)

প্রকাশিত:রবিবার, ২৩ আগ ২০২০ ০৪:০৮

সময় অসময় (৫)
মীর লিয়াকত : পর্যটন শিল্প বিশ্ব জুড়ে করোনার তান্ডবে এখন বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। পর্যটন শিল্প কবে আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে এই নিশ্চয়তা দেবার সাধ্য নাই। যদিও ইউরোপ আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশ প্রতিবন্ধকতা তুলে নিয়েছে, তবু স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সহসা দু:সাধ্য বলা চলে। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৯–-২০ করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীটি ভ্রমণ বিধিনিষেধের পাশাপাশি ভ্রমণকারীদের মধ্যে চাহিদা হ্রাসের কারণে পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে পর্যটন শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে , কারণ বহু দেশ এর বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলি চালু করেছে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থা অনুমান করেছে যে ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন ২০-৩০% কমে যেতে পারে, যার ফলে সম্ভাব্য লোকসান ৩০-৫০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।  বিশ্বের অনেক শহরে, পরিকল্পিত ভ্রমণ ৮০-৯০% কমে গেছে। বিশ্বজুড়ে অনেক পর্যটন আকর্ষণ যেমন যাদুঘর, বিনোদন পার্ক এবং খেলাধুলার স্থানগুলি, বন্ধ রয়েছে।
মহামারীর ফলস্বরূপ, অনেক দেশ এবং অঞ্চলগুলি সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলে নাগরিক বা সাম্প্রতিক ভ্রমণকারীদের জন্য পৃথকীকরণ, প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অন্যান্য দেশ এবং অঞ্চলগুলি বৈশ্বিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যা সমস্ত বিদেশীর জন্য দেশ এবং অঞ্চলগুলিতে প্রযোজ্য অথবা তাদের নিজস্ব নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণে প্রযোজ্য। একসাথে সকল স্থানে ভ্রমণে আগ্রহ হ্রাস সহ, এই সীমাবদ্ধতাগুলি সেসব অঞ্চলে ভ্রমণ খাতে নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলেছে। ব্যবসার কারণে ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনের হ্রাস এবং তাদের ভার্চুয়াল, অনলাইন সমতুল্যের বৃদ্ধিতে, পর্যটনে একটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
করোনাভাইরাস রোগ এর বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে ভ্রমণ বিধিনিষেধের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ উত্থাপিত হয়েছে। রাজস্ব আদায় দ্বারা বিশ্বের শীর্ষ জুয়া গন্তব্যস্থল ম্যাকাউতে, ২০২০ সালের ফেব্রæয়ারীতে  সমস্ত ক্যাসিনো ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ছিল এবং বার্ষিক আয় ৮৮% হ্রাস পেয়েছিল, যা এই অঞ্চলে সবচেয়ে খারাপ রেকর্ড। ১ মার্চ, নেভাডার গভর্নর স্টিভ সিসোলাক ৩০ দিনের জন্য সমস্ত ক্যাসিনো বন্ধ করার নির্দেশ দেন। মহামারী ছাড়য়ে পড়ার পরে ক্রুজ লাইনের যাত্রা বাতিল করতে হয়েছিল। বিচ্ছিন্ন জাহাজগুলিতে অসুস্থ যাত্রীদের বিস্তৃত প্রচার মাধ্যমের কভারেজটি ক্রুজ বানিজ্য চিত্রকে আঘাত করে বলে বুকিং বাতিলগুলি বৃদ্ধি পেয়েছিল। ২০২০ সালের মে মাসে নরওয়েজিয়াান ক্রুজ লাইনের ত্রৈমাসিক লোকসান ১.৮৮ বিলিয়ন ডলার এবং সতর্ক করেছিল যে এটি ব্যবসার বাইরে চলে যেতে পারে। ২০২০ এপ্রিল, টেক্সাসের অস্টিনে কেবলমাত্র ৩ শতাংশ হোটেল ভর্তি ছিল। ২০১৯ সালে একই তারিখে ১০,৭৭৭ টির তুলনায় ২০২০ তে ৩৪২ টি কক্ষ ভর্তি ছিল। ভাড়া গাড়ীর ব্যবসা দেউলিয়া হওয়ার পর্যায়ে। হোটেল ব্যবসায় নেমেছে মারাত্মক ধ্বস। কর্তৃপক্ষ ভাইরাসের বিস্তারকে রোধ করার জন্য রেস্তোঁরা ও বার বন্ধ করে দেওয়ায় মহামারীটি বিশ্বব্যাপী খাদ্য-শিল্পকে প্রভাবিত করেছে। সারা বিশ্বে, রেস্তোঁরাগুলির দৈনিক ট্র্যাফিক ২০১৯ সালে একই সময়ের তুলনায় তাত্পর্যপূর্ণভাবে হ্রাস পেয়েছে। রেস্তোঁরাগুলি বন্ধের ফলে খাদ্যের উত্পাদন, অ্যালকোহল, মদ, এবং বিয়ার-উত্পাদন, খাদ্য ও পানীয় শিপিং, ফিশিং এবং কৃষিকাজ সম্পর্কিত শিল্পগুলিতে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।
এটা নিশ্চিত যে পর্যটকরা স্বাভাবিক অবস্থার মতো পর্যটনে আগ্রহী হবেন না। দুরত্ব অবলম্বন করে পর্যটকদের আগ্রহ থাকার কথাও নয়। বিশের^ সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মতো বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোও এখন অসাড় স্থবির। ক্রমাগত দেশে বেড়ে চলেছে করোনার মহা সংক্রমন। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। মৃতের সংখ্যা সংক্রমনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে সিলেটেও। দেশে সংক্রমনের দিক দিয়ে শীর্ষে এখন সিলেট। করোনাক্রান্ত হয়ে সিলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিক সাবেক মেয়র বদরুদ্দিনআহমদ কামরান চিরদিনের মতো চলে গেলেন।সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ করোনাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শয্যায়। সিলেটে চলছে লকডাউন। ধুঁকছে গোটা সিলেট। মানুষের জীবন মৃত্যুর এই ক্রান্তিকালে সিলেটসহ দেশের পর্যটন শিল্প কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান কেবলমাত্র সময়ই বলে দিতে পারে।
বিশে^র সকল ট্যুরিস্ট বাংলাদেশে এলেই সবাই সিলেট ঘুরে যাবার আশা বাদ দিতে অক্ষম। সবার তালিকায়ই সিলেট উঠে আসে সর্বাগ্রে। কিন্তু দু:েখর বিষয় নানা অবহেলা ও সুদৃষ্টির অভাবে অপরূপ এই সিলেটের সৌন্দর্যের  হানি হতে চলেছে। অতি দ্রæত এদিকে সুদৃষ্টি না দেয়া হলে সিলেটকে এক সময় আর হয়তো এই রুপে চেনা দুস্কর হয়ে দাঁড়াবে।  হযরত শাহজালাল (র)ও অগনিত অলি আউলিয়ার স্মৃতিধন্য সিলেটকে বলা হয় বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে অগ্রসর অঞ্চল সিলেট। জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলং এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তূপ, বিছনাকান্দির স্বচ্ছ জলরাশি পর্যটকদের টেনে আনে বার বার।
সিলেটাঞ্চলের বিশাল সংখ্যক লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। সিলেটের পাথর, বালুর গুণগতমান দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এখানকার প্রাকৃতিক গ্যাস সারা দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে। স্বাধীনতা যুদ্ধে এ জেলার ভূমিকা অপরিসীম। জেনারেল এমএজি ওসমানী এ জেলারই কৃতী সন্তান। হযরত শাহজালাল (র:) ও হযরত শাহ পরান এর পবিত্র মাজার শরীফ এ জেলায় অবস্থিত। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ লোক মাজার জিয়াারতের উদ্দেশ্যে আগমন করে। আসে বিপুল সংখ্যক পর্যটক। সিলেট এর স্থানীয় ভাষা ‘‘সিলটি ভাষা’’র একটি বিশেষত্ব রয়েছে যা অন্য অঞ্চল থেকে আলাদা। এ ছাড়া নাগরী বর্ণমালা নামে সিলেটের নিজস্ব বর্ণমালা ও রয়েছে, যা একটি অসাধারন বিষয়। শিল্প,  প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক ভাবে সিলেট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ধনী জেলা।
সিলেটকে বলা হয় প্রকৃতির রূপসী কন্যা। রঙে রূপে গন্ধে রসে এ আদুরে কন্যার যেন কোন জুড়ি নেই। কি মাটির নীচে কি মাটির উপরে সিলেট অঞ্চলকে প্রকৃতি অকাতরে দিয়েছে। তাই প্রকৃতি প্রেমীরা এখনও সিলেট অঞ্চলকে বেড়ানোর জন্য পছন্দের তালিকায় রাখেন প্রথমে। কেন না সবুজে আচ্ছাদিত এই এলাকাটি টিলা-পাহাড়, নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, ক্ষেত-খামার, ফল-ফসল, বাগান-উদ্যান আর ফলজ-ভেষজ উদ্ভিদ বেষ্টিত হয়ে আছে। তার সাথে রয়েছে উচু ও সমতল ভূমির মানুষের জীবনাচারের বৈচিত্রতা যা যুগ যুগ ধরে আলাদা এক স্বকীয়তার বৈশিষ্টে বৈশিষ্টমণ্ডিত। তাই এখানকার মাটি টেনে নিয়ে এসেছে দূর দেশের বিখ্যাত পীর-আউলিয়া-দরবেশ এমন কি ব্যবসায়ীদেরও।সিলেটের মাটি, মানুষ আর নির্ভেজাল প্রকৃতি মিলে-মিশে একাকার হয়ে আছে। যেজন্য এখানকার সবকিছুরই কদর ব্যতিক্রমী এবং মর্যাদা অপ্রতিদ্ব›দ্বী। পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য বিশ্ব এখন বেহুঁশ। এজন্য প্রকৃতি প্রদত্ত না থাকলে মানব সৃষ্ট পর্যটক আকর্ষণ সৃষ্টি করে হলেও পর্যটক টানার জন্য চেষ্টার কোন শেষ নেই। অথচ সিলেটের রয়েছে প্রকৃতি প্রদত্ত ও পর্যাপ্ত পর্যটক আকর্ষণ যা স্বাভাবিক নিয়মেই পর্যটক নিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো এসব পর্যটক আকর্ষণ যুগ যুগ ধরে কেবল অবহেলা-অযতেœ পড়ে আছে তা নয় অনেকটা অভিবাবকহীনও বটে। কেন না সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগের অভাবে মনে হয় পর্যটকদের যেন দায় ঠেকেছে এসব আকর্ষণ পরিদর্শনের। তা নাহলে অন্তত মোটা দাগের পর্যটক গন্তব্য যেমন জাফলং, তামাবিল, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, পানতুমাই, লালাখাল, ভোলাগঞ্জ, টেকেরহাট, টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, হাইলহাওর, শ্রীমঙ্গলের চাবাগনের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল, হবিগঞ্জের রিসোর্টও প্রাকৃতিক নৈসর্গ, বড়লেখার মাধবকুণ্ড, কুলাউড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কমলগঞ্জের হাম-হাম, গলফ ও লেক, মাধবপুর লেক, লাউয়াছড়া, রেমাকেলাঙ্গা, সাতছড়ি ইত্যাদি যেগুলো প্রকৃতি প্রেমীদের ভীষণভাবে কাছে টানে সেগুলো যতœহীন হয়ে পড়ে থাকতো না।
অথচ এসব পর্যটক গন্তব্য দেশে-বিদেশে সব ধরণের পর্যটকের কাছে কদর পাচ্ছে এবং তাদের আগ্রহও বাড়ছে। কেন না বর্তমান বিশ্বে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি প্রেমীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইকো-ট্যুরিজম বা পরিবেশ পর্যটন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সিলেট অঞ্চল হচ্ছে দেশের মধ্যে পরিবেশ পর্যটনের এক স্বর্ণ খনি যা দিন দিন আবিষ্কৃত হচ্ছে এবং আরো হবে। তার সাথে রয়েছে গ্রামীণ পর্যটন, সবুজ পর্যটন, কৃষি পর্যটন, চা পর্যটন, রোমাঞ্চ পর্যটন এবং জনগোষ্ঠী পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা।
তবে এগুলোকে ছাপিয়ে অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান ধর্মীয় পর্যটন কিংবা সংস্কৃতি পর্যটনের যে সম্ভাবনা তাও খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারছেনা শুধু প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে। কেন না সিলেটের মাটি স্বনামধন্য সাধক, পীর, আউলিয়া, দরবেশ ও ওলিকূল শিরোমণিদের পূন্যস্মৃতি বহন করে চলেছে গর্বের সাথে। তেমনি লালন করছে পাঁচটি ভাষার মিলন স্থল হিসেবে শক্তিশালী  ভাষা এবং বিভিন্ন জাতি-উপজাতির জীবনাচার সংমিশ্রণে গড়ে উঠা সংস্কৃতির অপূর্ব এক স্বকীয়তা। অথচ সিলেটকে শুধু আধ্যাত্বিক শহর কিংবা শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী ঘোষণা দিয়েই আমারা আঙ্গুল চুষছি আরামসে। সাড়া জাগানো ধর্মীয় পর্যটন, ইসলামি পর্যটন কিংবা হালাল পর্যটনকে কাজে লাগাতে পারছি কৈ?।
পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম হচ্ছে আবাসন, যানবাহন, খাবার ও পানীয় এবং বিনোদন। অর্থাৎ এসব সুযোগ-সুবিধা না থাকলে একটি পর্যটক আকর্ষণ তথা গন্তব্য পর্যটকদের জন্য পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না।  এছাড়া অবকাঠামো নির্মাণ, সুসজ্জ্বিতকরণ, হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিশ্রামাগার, বনভোজনের জন্য এলাকা নির্ধারণ, প্রচারণা, থিয়েটার, বিনোদন পার্ক এবং পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পর্যটনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্যে নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
তাই পর্যটক সেবা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে পর্যটক আগমন এবং অন্যদিকে আয়-উপার্জন বৃদ্ধি পেয়ে পর্যটন উন্নয়ন তরান্বিত হয়। কমলগঞ্জের হামহাম পড়ে আছে । কিন্তু সেখানে যাতায়াতের পথ কোথায় ? যেতে হয় লাঠি ভর দিয়ে! সড়কের চিহ্নও নেই। মৌলভীবাজারের ইকো পার্কের এ দূর্দশা কেন?  মনে হয়ে একটি ছাড়াবাড়ির ছাড়া অঞ্চল। হাকালুকি হাইল হাওরে অবাধে বিদেশী পাখি শিকার কি বন্ধ হয়েছে? এটা চলছেই। তাই থাকছে না পরিযায়ী পাখিদের দল।
সিলেটের বিদ্যমান যে পর্যটক সেবা তা একদিকে অপ্রতুল ও অপর্যাপ্ত এবং অন্যদিকে গুনগতভাবে মানহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন। তবে পর্যটক সেবা এবং এই সেবার মান বৃদ্ধির আগে পর্যটককে তার কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া অপরিহার্য। এজন্য সাধারণ অবকাঠামো যেমন রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ-গ্যাস, পানি-পয়ঃনিষ্কাসন ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হয় সরকারী খাতকে। আবার পর্যটন অবকাঠামো যেমন হোটেল-মোটেল, গেষ্টহাউজ-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ-ফাষ্টফুড, পার্ক-থিমপার্ক ইত্যাদি নিশ্চিত করা সাধারণতঃ বেসরকারী খাতের কাজ। তবে, যেসব জায়গায় পর্যটন অবকাঠামো অপ্রতুল সেখানে সরকারী খাতকে তা পূরণে এগিয়ে আসতে হয়। অবশ্য বিষয়টি যে উভয় খাতের বোদ্ধাদের জানা নেই তাও নয়।
সিলেট অঞ্চলের এসব পর্যটক আকর্ষণ কেন অবহেলিত ও ক্ষয় প্রাপ্ত? কেন একজন পর্যটক তার কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না? কেন পর্যটক আকর্ষণগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন নেই? কেন পর্যাপ্ত ও মান সম্পন্ন পর্যটক সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না? কেন প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণার অভাব? এসব প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় পর্যটন উন্নয়নে, একাগ্রতা, জবাবদিহিতা এবং নিশ্চয়তা দরকার তার অনুপস্থিতি সুস্পষ্ট। এর সাথে যোগ হয়েছে, পরিকল্পনাহীনতার মত উন্নয়ন বিনাশী উপসর্গগুলো। তবে, সরকারী খাত তার দায়িত্ব পালন না করে থাকলে তাকে দিয়ে তা করানোর দায়িত্ব স্থানীয় জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রথমে সিলেটবাসীর এবং পরে অন্যদের। আবার বেসরকারী খাতের দায়িত্ব পালনেও অন্যদের আগে এই সিলেটবাসীকেই উদ্যোগ নিতে হবে। পর্যটন এমন একটি শিল্প যার উন্নয়নের অংশীদার শুধু সরকারী-বেসরকারী খাতই নয় ব্যাপকভাবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীও। স্থানীয় জনসাধারনের সম্পৃক্ততা ও সচেতনতা ছাড়া যতো উদ্যোগই নেয়া হোক না কেন কোন ফলোদয় সম্ভব নয়।  অথচ এই সিলেট হতে পারে এই দেশের সবচেয়ে আকর্ষনীয় পর্যটন অঞ্চল। সিলেটের এই সৌন্দর্যহানি অবশ্যই দূর করতে হবে কোন বিলম্ব ছাড়াই।
ওপরের পুরো লেখাটাই চর্বিত চর্বন। সিলেটের সামগ্রিক সৌন্দর্যকে ধরে রাখা পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষনীয় করে তোলার বিষয়টি শুধু সিলেটের নয় গোটা দেশের। গত তিন চার মাস করোনা তান্ডবে বিশে^ সকল পর্যটন স্পটগুলোর মতো সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলো জনমানবশূন্য। আবার কবে এসব আকর্ষনীয় স্থানগুলো প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে তা কেবল ভবিতব্যই বলতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে সিলেটে পর্যটন স্পটগুলোকে পরিচর্যা করে পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে নির্যাসে এই প্রত্যাশা রইলো।

 

লেখক : মীর লিয়াকত, সব্যসাচী লেখক ।

হবে ।

 

এই সংবাদটি 1,241 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •