সময় অসময় ৯

প্রকাশিত:সোমবার, ১৮ জানু ২০২১ ০৩:০১

সময় অসময় ৯

মীর লিয়াকত
গত ৬ জানুয়ারী ছিলো মৌলভীবাজাররের প্রবীন লেখক সাংবাদিক আইনজীবি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মুজিবের লেখা ‘আমার দেখা একাত্তোরঃ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে মৌলভীবাজার বার লাইব্রেরীতে জনাকীর্ণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে গুনীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন ত্রয়ী প্রকাশন, বাংলাবাজার ঢাকা। আমাকে দাওয়াৎ দিয়েছিলেন অগ্রজ লেখক, কিন্তু যেতে পারিনি আমি। করোনাকালে ঢাকা থেকে যাওয়া আসাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করলাম। অন্যান্য দেশের সাথে অনেকে তুলনা করে বলেন আমাদের দেশে করোনা তেমন নেই। ঠেলা সামলাচ্ছে তারা যাদের পরিবারকে পরিবার আক্রান্ত হয়ে দূরবস্থা পোহাচ্ছে। ডাক্তার হাসপতাল অষুধ পথ্য সর্বোপরি ম্যানপাওয়ার যে কতো বড় সমস্যা তা যাদের হয় তারা বোঝে। অষুধ আনার মতো একজন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। আত্মীয়স্বজনরা করোনার কথা শোনা মাত্রই নানা অজুহাতে কেটে পড়েন। এমনকি কেউ এসে দেখতেও চায় না। অসুখ হলে আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশি ছুটে আসবেন খোঁজখবর নেবেন এটাইতো সবখানে প্রত্যাশিত, চলে আসছে যুগের পর যুগ শতকের পর শতক এই নিয়ম। এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি কখনো। মানুষের ব্যথায় মানুষ তো ব্যথিত হবেই। কিন্তু ‘করোনা সংস্কৃতিতে’ মানুষ অধুনাকালে তা ভুলতে বসেছে। এক ধরনের বাধ্য হয়ে। কিছু করার নেই। প্রাণ তো বাঁচাতে হবে।

মুজিবুর রহমান মুজিব অগ্রজ সাহিত্যিক সাংবাদিক। বয়সে তিনি বড় সেটা বড় কিছু নয়। মেধায় জ্ঞানে অর্জনে সর্বোতমুখি প্রতিভায় তার সাথে আমার যোজন যোজন দুরত্ব। তবু তার সাথে ছিলো আমার অসম বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব। যদিও দেখা সাক্ষাৎ হতো কালেভদ্রে। তার সাথে শেষ দেখা হয়েছিলো ২০১৮ সালে ইঞ্জিনীয়ার্স ইন্সটিউটে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সম্মেলনের দিন। তারপর আর দেখা হয়নি। কথা হতো ফোনে মাঝে মধ্যে। আমি যে বিষয়টিতে জীবনে কখনো সম্পৃক্ত হইনি সেটি হলো রাজনীতি। (অবশ্য ছাত্রজীবনে যে কিছুটা ছিলাম না তা নয়। তা সেই পাক আমলে কলেজ জীবনে দেশের স্বাধীনতার আগে।) মুজিবুর রহমান মুজিব রাজনীতি, আইনব্যবসা, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা সম্পাদনা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব প্রদান কোন কিছুই বাদ দেননি। রাজনীতিতে ছিলেন জাসদ থেকে সবশেষে বিএনপিতে, এবং বর্তমানে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ  বাইরে। বয়সের ভারে নানা অসুস্থতার মধ্যেও লেখালেখি চালিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। এসব ক্ষেত্রে তিনি এই বয়সেও শিশুদের মতো উচ্ছ¡ল হয়ে ওঠেন। কালেভদ্রে তাঁর সাথে কথা হয় ফোনে। কথা হলেই বলেন জীবনের শেষভাগে আছেন আর নাকি বাঁচবেন না। অসুখে বিসুখে শেষ বয়সে এরকম অনেকেই বলেন। কিন্তু সাহিত্য সংস্কৃতি ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের কথা উঠলেই মনেই হয় না তিনি আশির ঘরের অসুস্থ একজন মানুষ। একজন উদারচেতা বন্ধুপ্রেমিক মানুষ। কিছুদিন আগেও নিজে খাবার সময় আমার বিন্নীপ্রীতির কথা মনে পড়ায় বিন্নীচাল সাতকড়া লেবুটেবু বস্তা ভরে পাঠিয়ে দিলেন এসএ পরিবহনে। সাথে পাঠালেন তার কিছু প্রকাশিত বই। তারপর কি করছি, করোনাকালে  কিভাবে আছি, যেন সাবদানে থাকি এরকম চর্বিতচর্বন কথাগুলো তো আছেই। লেকালেখি কেমন চলছে,  স্ত্রী মেয়ে নাতিরা কে কেমন কি করছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাঁর লেখা ‘আমার দেখা একাত্তোরঃ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচনে যেতে পারলে এবং তাঁর সাথে দেখা হলে ভালোই লাগতো। মহামারী করোনার জন্যই ক্ষান্ত দিয়েছি। যাক সে কথা। তার এই গ্রন্থে প্রিফেস লিখেছেন
][ কলামিষ্ট  আফতাব চৌধুরী। পাঠকের জন্য লেখাটি এখানে পত্রস্থ করলাম। তিনি লিখেছেনঃ
একাত্তোরের বীর-বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট আইনজীবী বর্ষীয়ান সাংবাদিক-কলামিষ্ট- ঈমানদার মানবাধিকার সংঘটক-গ্রহ্ণকার-বন্ধুবর মুজিুবর রহমান মুজিব আটচল্লিশ সালের নয়ই ফেব্রæয়ারী মৌলভীবাজার সদর উপজেলাধীন রসুলপুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মিয়ার বাড়িতে এক শিক্ষিত-সম্ভান্ত-মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ষাটের দশকের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী এম.সি.কলেজের ছাত্রাবস্থায় বাঙ্গাঁলি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উদ্ভোদ্ধ হয়ে ঐহিত্যবাহী ছাত্র সংঘটন ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বিগত সাড়ে পাঁচ দশক আজীবন লড়াকু সৈনিক হিসাবে আন্দোলনে সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন- যৌবন কালে রাজনৈতিক ময়দান সরগরম করে রেখেছিলেন।

 

একজন শক্তিমান সংঘটক-অনল বর্ষী বক্তা হিসাবে তিনি খ্যাত। পরিচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে মাষ্টার্স ফাইন্যাল এর ছাত্রাবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে বীরত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা
উত্তর কালে মুজিবুর রহমান মুজিব মাষ্টার্স ও আইনে ¯œাতক ডিগ্রী নিয়ে সফল শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটান। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বিসিএস প্রথম ব্যাচ এ লোভনীয় সরকারি চাকরি কিংবা কোন ব্যবসা বানিজ্যে যোগ না দিয়ে তিনি একজন দেশও সমাজ কর্মি হিসাবে অধ্যাপনা ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্ম জীবন শুরু করলেও মফস্বল প্রীতির কারনে রঙ্গীঁন ঢাকাই জীবন পিছনে ফেলে নিজ জেলা মৌলভীবাজার বারে আইনজীবী হিসাবে যোগ দেন। আশির দশকে মহামান্য হাইকোর্টের তালিকাভূক্ত হলেও আর ঢাকা বাসি হন নি। সৈয়দ শাহ মোস্তফার স্মৃতি ধন্য পূন্যভূমি মৌলভীবাজার শহরে পৈত্রিক পর্ন কুটীর রসূলপুর হাউসে মমতাজ মেমোরিয়াল লাইব্রেরী এবং তাঁর প্রিয় দুই দৌহিত্র মুমতাহিন তাহসিফ নাহিয়ান এবং মোহাম্মদ মাহতির রমান-কে নিয়েই তাঁর সকাল সন্ধ্যা-দিবারাত্রির মহাকাব্য। প্রেসক্লাব, পাবলিক লাইব্রেরী, শিশু একাডেমী, জেলাবার, রোটারি ক্লাব রেডক্রশ ইত্যাদি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেবা সংঘটনের নিজ জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে ধর্ম প্রাণ মুসলমান বন্ধুবর মুজিবুর রহমান মুজিব জীবন সায়াহ্নে-পড়ন্ত বেলায় জেলা জামে মসজিদের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন রত। রাজনীতি সচেতন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা-গ্রহ্ণকার তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে পরম মমতায় সযতেœ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সমকালীন রাজনীতি প্রসঙ্গেঁ এই গ্রহ্ণ প্রণয়ন করে, জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, বৃহত্তর সিলেটের একটি খন্ড চিত্র একেছেন। মুজতবা ঘরানার অনুসারি গ্রহ্ণকারের ভাষা সহজ সরল সুখ পাঠ্য। দুর ও কাছ থেকে দীর্ঘকাল যাবত দেখছি তাঁকে-বন্ধু বৎসল। বিনয়ী। সদালাপি। নির্লোভ । নিরহংকারি। সৎ মহৎ ও ধর্মপ্রাণ সাচ্চা মুসলমান। এই বার্ধক্যেও দূর্নীতি-দূবৃত্তায়নের বিরুদ্ধে আপোষহীন প্রতিবাদী। বলা-লেখায় এখন ও তিনি সোচ্চার। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এই আকর গ্রহ্ণের বহুল প্রচার গ্রহ্ণকার বন্ধুবর, একাত্তোরের বীর মুজিবুর রহমান মুজিবের সুস্ব্যাস্থ, দীর্ঘায়ূ এবং পারিবারিক কল্যান কামনা করি।
আফতাব চৌধুরী
বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট সাংবাদিক কলামিষ্ট,
বৃক্ষ রোপনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরষ্কার
স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত। বহু গ্রহ্ণ প্রণেতা।

এই গ্রন্থে লেখক গবেষক মুজিবুর রহমান মুজিব  ‘লেখকের কথা ও কৈফিয়ত’ এ লিখেছেনঃ
আমাদের মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালক দোজাহানের খালিক- মালিক সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে শুকুর গোজার করি, মদীনা মনোওয়ারায় চীরশয়ানে শায়িত তারই প্রিয় হাবিব-আমাদের পিয়ারা নবী, রাসুলে খোদা হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সঃ)-র পাক রওজা শরীফে লক্ষ কোটি দূরুদ ও সালাম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আমার এ গ্রহ্ণ খানি অবশেষে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তিতেই বেরুল বলে। আমার বেহেশত বাসি প্রিয় পিতা মাতার উজ্জল স্মৃতির প্রতি সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আমার সকল সূহৃদ-শুভাকাংখী-সহযোগি-সহকর্মি শুভানুধ্যায়ী গণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
পেশাদার লেখক-সাংবাদিক না হলেও সেই ষাটের দশক থেকে লিখছি-বলছিও। প্রকাশিত গ্রহ্ণের সংখ্যা ও কম নয়। পলাশীর যুদ্ধ বিষয়ক আমার বিগত গ্রহ্ণ-সুবে বাংলার সিপাহ সালার-বেঈমান মির জাফর আলী খাঁন-আর নয় পলাশী-আর নয় মির জাফর এর পাঠক প্রিয়তা-প্রশংসা আমাকে প্রীত-আবেগ আপ্লুত করে। পলাশীর যুদ্ধের উপর আমার গ্রহ্ণ এবং একাধিক গবেষনা মূলক রচনা আছে, আঠারো শত সাতান্ন সালের সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত সর্ব ভারতীয় সশস্ত্র স্বাধীনতা সমর এবং এই মহাসমরের মহানায়ক দিল্লীর শেষ মুঘল স¤্রাট বদ নসিব বাহাদুর শাহ জাফর এর কর্ম ও জীবন দর্শন সংক্রান্ত গ্রহ্ণ রচনাও প্রকাশ করলেও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গ্রহ্ণ রচনা ও প্রকাশ এই প্রথম, তাও আমার শুভাকাংখী ও বন্ধু মহলের দাবীর প্রেক্ষিতে এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
আমাদের জাতীয় জীবনের হাজার বছরের সংগ্রামী ইতিহাসে একাত্তোরের মহান মুক্তিযুদ্ধ একটি গৌরবময় অধ্যায়। আমাদের গৌরবোজ্জল স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস রচনা একটি কঠিন ও জটিল কাজ। মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ কারি বীর সেনানীগণ বীর মুক্তিযোদ্ধা-নামে অভিহিত। পরিচিত। পরম সম্মানিত। দূঃখ ও দূর্ভাগ্য জনক ভাবে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বৎসরে এসে এখনও মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরী হয় নি-যাচাই বাছাই চলছে। যেসব বীর নওযোয়ান-শহীদ নওযোয়ানের অংশ গ্রহনে মুক্তিযুদ্ধ তাঁদেরকে বাদ দিয়েত স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্নাঙ্গ ইতিহাস লিপিবদ্ধ-রচিত হতে পারে না, হলেও তা হয়ে যাবে অসম্পূর্ণ-ত্রæুটি যুক্ত। আমার সুহৃদ-শুভাকাংখীগণ আমাকে আত্বজীবনী রচনার দাবী জানালে আমি শুধু উপেক্ষাই নয়, সরাসরি অস্বীকার করি, কারণ আত্ব জীবনী লিখবেন জাতীয় পর্য্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব বর্গ-যাঁদের আত্ব জৈবনিক মহাকাব্য দেশ ও জাতিকে দিক নির্দেশনা দেবে-আলোড়িত করবে-আলোকিত করবে। অবশেষে আমার কাছে দাবী এল স্মৃতি কথা লেখার-যা আগামী দিনে ভাবি লেখক-গবেষকদের তথ্য- উপাত্ত হিসাবে কাজে লাগবে।
মৌলভীবাজার দুই-কুলাউড়া নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত-মহান জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্য আপাদ মস্তক পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ জননেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ¯েœহ ভাজনেষুর জোর দাবী শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয় সিলেটের রাজনীতির ইতিহাস ও লিখতে হবে।
মাননীয় সংসদ সদস্য মেধাবী রাজনীতিবিদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ মাঠ পর্য্যায় থেকে ছাত্র লীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দেশপ্রেম, কঠোর পরিশ্রম, অপূর্ব সাংগঠনিক দক্ষতা- বাগ্মিতা, শিষ্টাচার ও সৌজন্য বোধে বলীয়ান হয়ে মহান আল্লাহর মেহের বানী ও পিতা মাতার দোয়ায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, ডাকসুর ভি.পি. আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংঘটনিক সম্পাদক এবং একাধিক মেয়াদে সাংসদ হয়েছেন। একজন সৎ ও মহত রাজনীতিবিদ এর কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রস্তাবনা থাকাটাই স্বাভাবিক। বর্ষীয়ান তারকা রাজনীতিবিদ মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক অধিনায়ক শ্রদ্ধেয় তোফায়েল আহমদ ইতিপূর্বে “রাজনীতি আর রাজনীতিবিদ দের হাতে নেই” বলে ক্ষোভ ও উস্মা প্রকাশ করেছেন। ‘হাইব্রীড’ দের হাইভোল্টেজে পাপিয়া কাউয়া কালচারের জোয়ারে সুষ্ট-সুস্থ-গনমুখী রাজনীতি তর্কিত প্রশ্নবিদ্ধ।

গনসম্পৃক্ততা ছিল না বলে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থতার পর্য্যবসিত হয়ে ছিল, অতঃপর রাজনৈতিক নবজাগরন এর কারনে ভারত থেকে বৃটিশ বেনিয়াদেরকে চলে যেতেই হয়েছিল। একাত্তোর সালের আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের ফল ও ফসল।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি পরিপূর্ণ রাজনৈতিক যুদ্ধ-জনযুদ্ধ। জন সমর্থন ও জনসম্পৃক্ততার কারণে স্বল্প সময়ে আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে, গন বিচ্ছিন্নতা, জনরোস ও গণধিক্কার এর কারনে প্রায় এক লক্ষ হানাদার বাহিনীকে পরাজয় মেনে নিয়ে আত্ব সমর্পন করতে হয়েছে। আধুনিক কালে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন-করেন রাজনীতিবিদগন। রাজনৈতিক সংকট, শূন্যতা ও স্বার্থের কারনে সামরীক ক্যু-হয়, ওয়ান ইলেভেন আসে। এই গ্রহ্ণ রাজনৈতিক গ্রহ্ণ না হলেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রহ্ণ বিধায় রাজনীতির প্রভাব ছায়া মায়া থাকবেই। কাজেই রাজনৈতিক অনুসন্ধিৎসু কোন পাঠকের নিরাশ হবার কোন কারণ নাই। যদিও সব লেখার দায়িত্ববোধ ও দায়িত্ব চেতনা প্রসঙ্গেঁ বরন্যে বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মননশীল লেখক শ্রদ্ধেয় আবুল ফজল এর প্রাসঙ্গিঁক উক্তি ও অভিমত একান্তই প্রনিধান যোগ্য-“সব রচনারই উৎস দায়িত্ব বোধ দায়িত্ব চেতনা। নিজের বিবেক, লেখক সত্তার প্রতি ও এ দায়িত্ব বর্তায়।”
ইতিহাস প্রসঙ্গেঁ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পন্ডিত ড. আহমদ শরীফ বলেন “আমাদের ইতিহাস নেই। যেসব কথা শ্রæতি রূপে প্রচলন রয়েছে, তাকে ইতিহাসের কায়াত নয়, কঙ্কাল ও বলা চলে না। কেন না তা বিচ্ছিন্ন খন্ড, ক্ষুদ্র তথ্য মাত্র। এতে ইতিহাসের ছায়া আছে, প্রাবাদিক তথ্য আছে, পল্লবিত কিংবদন্তি আছে, কিন্তু সঙ্গঁতি, সামঞ্জস্য, কিংবা ধারাবাহিকতা নেই”-। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গেঁ মুক্তিযুদ্ধের সংঘটক দেশের প্রধান কবি আল মাহমুদ ক্ষোভ-আফসোস করে বলেছিলেন- “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একদিন কেউ না কেউ সঠিক ভাবেই লিপিবদ্ধ করবে। হয়ত নিশ্চয় শত বর্ষ পরে। তখন আজকের প্রগতিশীলরা থাকবেন না। প্রতিক্রিয়া শীল বলেও কেউ হয়ত আর থাকবেন না। শুধু থাকবে ইতিহাসের কঠোর বাস্তবতার বলি রেখা যুক্ত মুখাবয়ব।
ইতিহাস সৃষ্টি ও ইতিহাস রচনা প্রসঙ্গেঁ সব চাইতে কঠিন উক্তি করেছেন বিশ্ব বিখ্যাত মনিষি অস্কার ওয়াইল্ড। তাঁর মতে অহু ইড়ফু ঈধহ সধশব ঐরংঃৎু নঁঃ ংড়সব নড়ফু পধহ ৎিরঃব রঃ”- যে কেউ ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেন, কিন্তু খুব কম লোক তা লিখতে পারেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যে কেউর তৈরী, সাধারন ইতিহাস নয়, বীর বাঙ্গাঁলির জীবন দানের এ এক অসাধারন ইতিহাস। আমাদের প্রজন্মের চরম সৌভাগ্য পরম পাওয়া আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহনের সুযোগ পেয়েছি। একাত্তোরের বীরেরা এখন সত্তরোর্ধ-আশির কোটায়- জীবন সায়াহ্ণে পড়ন্ত বেলায়।
ইতোমধ্যে বৃহত্তর সিলেটের একাত্তোরের বীরদের মধ্যে সর্ব জনাব আব্দুছ সামাদ আজাদ, দেওয়ান ফরিদ গাজি, এ.কে লতিফুর রহমান চৌধুরী, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, মোহাম্মদ ইলিয়াস, সৈয়দ মহসিন আলী, জেনারেল এম.এ.জি.ওসমানী (অব:), মেঃ জেনারেল এম.এ.রব (অব:), মাহবুবুর রব ছাদী, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, নবাব আলী সফদর খাঁন রাজা সাহেব, দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল, আখতার আহমদ ছালেহ চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম,এ,মতিন বীর প্রতীক এম.আজিজুর রহমান প্রমুখ পরলোকে। চীর তরে না ফেরার দেশে। একদিন বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে কেউই থাকবেন না, তবে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত, ইনশাল্লা টিকে থাকবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। বাংলাদেশটিকে থাকার জন্যই এসেছে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাম এর সাথে চীরকাল বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম স্মরণ করা হবে শ্রদ্ধায় ভালোবাসায়। মায়ায় মমতায়। জাতীয় বীরদের এই গৌরব গাঁথা জাতীয় পর্য্যায়ে জাতীয় লেখক-গবেষক-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের সমন্ধয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ইতিপূর্বে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় পনেরো খন্ডে হাজার হাজার পৃষ্ঠার যে ইতিহাস প্রকাশ করেছিলেন তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস না বলে দলিল পত্র বলে উল্লেখ করেছেন। অবশ্য অদ্যাবধি দলিল দস্তাবেজ তথ্য উপাত্ত ভিত্তি করে জাতীয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধের কোন পূর্নাঙ্গঁ ইতিহাস প্রকাশ করা হয় নি।
অঞ্চল ভিত্তিক একাত্তোরের সামরীক-বেসামরিক বীরেরা স্মৃতি কথা জাতীয় গ্রহ্ণ প্রকাশ করে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে মাননীয় মন্ত্রি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্নাঙ্গঁ তালিকা প্রকাশে ব্যর্থতার দায় স্বীকারকরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে পূর্নাঙ্গঁ সচিত্র ইতিহাস প্রকাশ করে রাষ্ট্রায়াত্ব বানিজ্যিক ব্যাংক অগ্রনী ব্যাংক লিঃ অগ্রনী ব্যাংক পরিবারঃ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা- গবেষনা গ্রহ্ণ প্রকাশ করে ব্যাংকটি দেশবাসি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাজ দেশের প্রগতিশীল গনতান্ত্রীক শক্তিকে ঋণী করলেন। আটশত সতেরো পৃষ্ঠার বিশাল এই সচিত্র গবেষনা গ্রহ্ণ প্রকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ব্যাংকটির পূনঃ নিযুক্ত এম,ডি ও সিই,ও, বিশিষ্ট ব্যাংকার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের নিরন্তর সৈনিক মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম। তারই মুল্যবান ভূমিকা সম্বলিত ইতিহাস গ্রহ্ণ খানি সম্পাদনা করেছেন অগ্রনী ব্যাংক এর ডি.জি.এম. মোঃ আবু হাসান তালুকদার। ভূমিকায় বিশিষ্ট ব্যাংকার মিঃইসলাম যথার্থই বলেছেন “অগ্রনী ব্যাংক পরিবার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা” বইটিতে আমরা অগ্রনী ব্যাংক এ যোগদান কৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন স্মৃতি কথা প্রকাশ করেছি। এ ভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও যদি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি কথা সংরক্ষন করে তবে সকলের সমন্ধিত উদ্যোগে রচিত হবে মুক্তিযুদ্ধের পূর্নাঙ্গঁ ও প্রকৃত ইতিহাস।
চার ও পাঁচ নম্বর সেক্টারাধিন বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট লেখক গবেষকগণ বহুবিধ ইতিহাস গ্রহ্ণ প্রনয়ন ও প্রকাশ করেছেন। গ্রহ্ণ গুলির মধ্যে তাজুল মোহাম্মদ এর সিলেটে যুদ্ধ কথা, নিবেদিতা দাস পুরকায়স্থের মুক্ত মঞ্চে নারী, আল  আজাদের একাত্তোরের পঁচিশ দিন শেখ ফজলে এলাহির মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলা, বজলুল মজিদ চৌধুরীর রক্তাক্ত একাত্তোর, সুনামগঞ্জ, দিপংকর মোহান্তের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের চা শ্রমিক, সরোওয়ার আহমদ এর জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজার, অপূর্ব শর্মার অনন্য মুক্তিযোদ্ধা জগৎ জ্যোতি, মাহফুজুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ আশফাক হোসেনের মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজার সবিশেষ উল্লেখ যোগ্য। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্মৃতি কথার মধ্যে আবুল মাল আব্দুল মোহিত এর স্মৃতি অ¤øান ১৯৭১, এবং “এম,এ, মোত্তালিবের মুক্তিযুদ্ধে উত্তর পূর্ব রনাঙ্গঁন” উল্লেখযোগ্য গ্রহ্ণ। কবি হাসনাইন সাজ্জাদী তাঁর পূর্বাপর রম্যপত্রের বিশেষ সংখ্যা বের করেন আটই ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস উপলক্ষে। আশির দশকে মহকুমা শতবর্ষ পূর্তি স্মরনিকা শতাব্দীতে আমার একটি বড় আকারের লেখা ছিল “মৌলভীবাজার এর রাজনৈতিক আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম” শিরোনামে। এ লেখায় আমিই প্রথম জেলার রাজাকার, আলবদর, সহ সকল দালালদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছিলাম- স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হুমকির সম্মুখীন হয়েছিলাম।
লেখাটি বহুল পঠিত। প্রশংসিত। আমার এ লেখাকে কেন্দ্র করে ঘাতক-দালালদের তালিকা তৈরী করা হয়। শহীদ জননী জাহান আরা ইমামের নেতৃত্বে জাতীয় পর্য্যায়ে ঘাতক দালাল নির্মূল স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন আন্দোলন শুরু হলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের দীর্ঘদিনের সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ভাবে ঘাতক দালাল নির্মূল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আন্দোলন বেগবান হয়ে উঠে। এই আন্দোলন কেন্দ্র থেকে মফস্বল পর্য্যায় পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। আমাদের জেলায় জেলা কমিটি গঠিত হলে আমাকে সর্ব্ব সম্মতিক্রমে জেলা কমিটির প্রথম আহŸায়ক নির্বাচিত করা হয়। বর্তমানে মেয়াদান্তে মুক্তি যোদ্ধা সংসদ এর নির্বাচিত কমিটি না থাকায় উপজেলা থেকে কেন্দ্র পর্য্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সমাজ নির্বাচিত নেতা হীন। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে যে কাজ করার কথা ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের-বাংলাদেশ সরকারের সেই কাজ শুরু করতে হচ্ছে অগ্রনী ব্যাংক, পুস্তক প্রকাশনা সংস্থা, স্মৃতি সংসদ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে। একটি শুভ কাজ শুরু করলে একদিন শেষ হবে। জাতীয় পর্য্যায়ে জাতীয় ভাবে অতি দ্রæত গতিতে যাচাই বাছাই শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরী করতঃ মুক্তিযুদ্ধের পূর্নাঙ্গঁ ইতিহাস প্রকাশ সময়ের দাবী। কাজটি নিঃসন্দেহেই শুভ। অগ্রনী ব্যাংক সহ আমাদের এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াস তথ্য, উপাত্ত হিসাবে কাজে লাগবে।
লেখা লেখিতে উৎসাহ ও এই ক্ষুদ্র গ্রহ্ণ প্রনয়ন ও প্রকাশে উৎসাহ প্রদানকারী সুহৃদ ও শুভাকাংখীদের তালিকা দীর্ঘ-সকলের নাম প্রকাশ সম্ভব নয়, তবুও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রয়োজনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ শিরোনামে স্বতন্ত্র একটি তালিকা প্রকাশ করেছি। এই অধ্যায়েও আমি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে ষাটের দশকে ঐতিহ্যবাহী এম.সি. কলেজে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু, সাবেক সচিব ও হাই কমিশনার, দেশের প্রধান কবি কলামিষ্ট ও গ্রহ্ণকার এ,এইচ, মোফাজ্জল করিমকে স্মরণ করছি, যিনি এখন ও আমাকে ছাত্র ও মিত্র বৎ ¯েœহ মমতা করেন,  খোঁজ খবর নেন, দোয়া খায়ের করেন। বাল্য-কৈশোরে আমার প্রবাসী পিতার অনুপস্থিতিতে আমার পিতার ভ্রাতা মুক্তিযুদ্ধের সংঘটক-রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তক গ্রহ্ণ সুহৃদ শ্রদ্ধেয় সিরাজুল হক কুতুব সে কালে যেমন আমার পিতার অনুপস্থিতিতে আমিও আমার পরিবারের অভিবাভকত্ব-মুরব্বি-আনা করেছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ-দিক নির্দেশনা দিতেন একালেও পিতার অবর্তমানে পারিবারিক নির্দেশনা ও প্রাসঙ্গিক পুস্তক সরবরাহ করছেন। জালালাবাদ কেন্টনমেন্ট কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সু-লেখক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত চৌকস সেনা কর্মকর্তা লেঃ কর্ণেল সৈয়দ আলী আহমদ ও আমার ও আমার পরিবার বর্গের একজন সুহৃদ ও শুভাকাংখী, উভয়ের প্রতিই আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রহ্ণ হিসাবে এই গ্রহ্ণ খানিকে ত্রæুটি মুক্ত ও তথ্য বহুল করার জন্য সংগ্রামী ও সম্মানিত রাজনীতিবিদ, একাত্তোরের প্রিয় মুক্তিযোদ্ধা-স্বাধীনতা সংগ্রামীগণ আমার সহকর্মি বিজ্ঞ আইনজীবী সমাজ, সাহিত্যিক সাংবাদিক ভাই ও বন্ধুগণের সহযোগিতা ও শুভেচ্ছার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এই প্রেক্ষিতে আন্তরিকতার সাথে স্মরণ, স্মৃতির প্রতি সম্মান ও রুহের মাগফিরাত কামনা করছি মুক্তিযুদ্ধ অন্ত প্রাণ ও মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলী বন্ধু বরেষুকে। মুক্তি যুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক স্মৃতি কথা, ইতিহাস-ইতিকথার নামে আমার হৃদয়ের অব্যক্ত বেদনা-আকুল কান্না, এক বুক বেদনাও হাহাকারের কথাও কাহিনী দেখলে আবেগ আপ্লুত হতেন মাঠের মুক্তি যোদ্ধাদের প্রকৃত অভিভাবক সৈয়দ মহসীন আলী।
মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালনের সময় এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আমার এই গ্রহ্ণ প্রকাশের উদ্যোগ নিলেও নানান কারনে তা সম্ভব হয় নি। আমার আশা ও বিশ্বাস এ গ্রহ্ণ প্রকাশের পর তাঁর আত্মা শান্তি পাবে-রুহ্ খুশী হবে। এই গ্রহ্ণের কম্পিউটার কম্পোজে জেলা জামে মসজিদ মার্কেট কমপ্লেক্সস্থ রহমান এন্ড এসোসিয়েটস এর কম্পিউটার অপারেটার রাকিব হাসান রানা এবং গ্রহ্ণ সুহৃদ কিতাব প্রেমিক দেলোয়ার হোসেন আলকাদরি যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন বলে তাঁদেরকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। মফস্বল বাসি হিসাবে আমি বরাবরই মফস্বল কেন্দ্রিক। মুদ্রনে আমার দৌঁড় পাতাকুঁড়ি কম্পিউটার্স ও অফসেট পৃন্টার্স পর্য্যন্ত। এবার আমাকে পাদ প্রদীপের আলোকে নিয়ে এলেন অধুনা ঢাকা বাসি, সব্যসাচী  লেখক বিকিরণ সম্পাদক ভ্রাতৃ প্রতীম মীর লিয়াকত। তাঁকে শুধুমাত্র ধন্যবাদ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না- ঋণীই রইলাম।
আমার সকল পরিবার সদস্য বর্গের কাছে ও আমার ঋণের শেষ নাই। পেশা ও কর্মজীবনের ফাঁকে আমার যে সময় পাবার কথা ছিল আমার পরিবার সদস্য বৃন্দের, সে সময় আমি ব্যয় করেছি লেখাপড়া ও গবেষনার কাজে। আমি আমার সকল সুহৃদ ও শুভাকাংখীদের কাছে আন্তরিকতার সাথে ঋণ স্বীকার করছি। সাম্প্রতিক অসুখে বিসুখে দোয়া দূরুদে আলীম ওলামা এবং চিকিৎসার জন্য আমার চিকিৎসক সাহেবান দের নিকট ও আমি ঋণী রইলাম।
মেঘে মেঘে আমার অনেক বেলা হয়ে গেছে। বহু বিষন্ন বসন্ত বিদায় শেষে পড়ন্ত বেলা- জীবন সায়াহ্নে স্মৃতি শক্তি মাঝে মাঝে প্রতারনা করে, বার্ধক্য জনিত কারনে করতেই পারে, তবুও এই গ্রহ্ণে আমার জ্ঞান বিশ্বাস মতে রামকে রহিম শ্যামলকে সামশুল বলি নাই, মুক্তিযোদ্ধাকে-রাজাকার কিংবা রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানাই নি, স্বল্প পরিসর এবং আমার অল্প জ্ঞানে অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে কিন্তু কোন অসত্যতা-বিভ্রান্তি নেই তবুও আমার অনিচ্ছাকৃত তথ্য ও তত্ব গত ত্রæুটি বির্চ্যেতির জন্য শুধুমাত্র দায়সারা দূঃখ প্রকাশই নয়, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কারণ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা বলে কথা। ব্যক্তি ও লেখক হিসাবে আমি নিঃসন্দেহেই একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি, মহান মালিকের অপার রহমত-বরকত, পিতা মাতা শুভাকাংখীদের দোয়ায় স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি পর্য্যন্ত বেঁচে আছি-সুস্থ আছি, স্বাধীনতা সংক্রান্ত এই গ্রহ্ণ নিয়ে দেশ ও জাতির দরবারে হাজির হয়েছি। এই সুবর্ণ সুযোগ লাভের জন্য আমাদের মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালক, দোজাহানের খালিক মালিক-সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালার শাহী দরবারে বারবার শুকুর গোজার করছি।
ষোলই ডিসেম্বর বিজয়ের এই দিনে ন’মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে শাহাদাত বরণ কারি অমর শহীদানের উজ্জল স্মৃতির প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতঃ তাঁদের রুহের মাগফিরাত-আত্বার শান্তি ও সদগতি কামনা করছি। একাত্তোরের বীর নওযোয়ান সংগ্রামী সাথী সহযোদ্ধাদের সুস্ব্যাস্থ দীর্ঘায়ূ ও কল্যান কামনা করছি। স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তিতে জেলা ও দেশবাসিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা সহ মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হউন এই মোনাজাত সহ-আমীন-
বিণয়াবনত,
মুজিবুর রহমান মুজিব
ষোলই ডিসেম্বর, বিজয় দিবস, বিশ শ’-বিশ সাল

আসলে এই লেখাটি তাঁর এই অমূল্য গ্রন্থ নিয়ে কোন আলোকপাত নয়। শুধু গ্রন্থ থেকে তুলে দেয়া কিছু অংশ বিশেষ এখানে সংযোজন করা হয়েছে, যা থেকে পাঠক গ্রন্থ সম্মন্ধে সম্যক ধারনা পেতে পারবেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সকল কাজে কাকে কিভাবে পেয়েছেন তাদের কথাও তিনি তুলে এনেছেন।  আমি তাঁর এই গ্রন্থের সামগ্রিক সাফল্য কামনা করি। এখানে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমুহের তালিকাসহ প্রোফাইলটিও পাঠকের সুবিধার জন্য গ্রন্থ থেকেই তুলে দিলাম।
প্রোফাইল
জন্ম তারিখঃ ৯ই ফেব্রæয়ারী ১৯৪৮ সাল, পিতা- মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ মমতাজ, মাতাঃ আলহাজ্ব আমিরুন্নেছা মমতাজ, স্ত্রীঃ বেগম মনোয়ারা রহমান, কন্যাঃ মিসেস জেনিফার রহমান, জামাতাঃ মুহিবুর রহমান রুমি, পুত্রঃ মিনহাজ রহমান মাব্বি, পুত্রবধুঃ বেগম আকলিমা আক্তার লিজা।

জন্মস্থানঃ মিয়ার বাড়ি, রসুলপুর, ৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা ও জেলা- মৌলভীবাজার- ৩২০০, বাংলাদেশ। নিবাস: রসুলপুর হাউস, মুসলিম কোয়ার্টার, পৌর এলাকা, ডাক: উপজেলা ও জেলা- মৌলভীবাজার- ৩২০০।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এম, এ, এল, এল, বি, ঢাবি।
পেশা: সিনিওর এডভোকেট হাইকোর্ট, জজ কোর্ট।
চেম্বার: মেসার্স রহমান এসোসিয়েটস, জেলা জামে মসজিদ
মার্কেট কমপ্লেক্স, কোর্ট এরিয়া, মৌলভীবাজার।
কর্ম: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান: মমতাজ ফাউন্ডেশনস লিঃ,
প্রতিষ্ঠাতা- প্রধান সম্পাদক মৌলভীবাজার দর্পন, মহাপরিচালক, দর্পন পাবলিকেশনস।
ইমেইল: সঁলরন৪৮@মসধরষ.পড়স,
মোবাইলঃ ০১৭১৫০৫৬৮৬৯, ০১৭৯৮২৩৮৯৬২

 

লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থসমুহ

 সোনার হরিন।
 এবং আরো একবার হে মহান জননেতা।
 জনৈক জনসেবক ও অন্যান্য।
 ইটার ইতিহাস।
 জীবন ঃ মরণ ঃ স্মরণ।
 ঐতিহ্য।
 দিন গুলি মোর সোনার খাঁচায়।
 উৎসের সন্ধানে।
 নির্বাচিত রচনা সংকলন।
 দিল্লীর শেষ মুঘল স¤্রাট বাহাদুর শাহ জাফরঃ কর্ম ও জীবন দর্শন।
 গ্রহ্ণ সুহৃদঃ অসিত কুমার রায়: কর্ম ও জীবন দর্শন।
 সংসদীয় গণতন্ত্রঃ সংসদীয় সংস্কৃতি।
 একুশ শতকের নূতন ধারার রাজনীতি ঃ
 মুজিবুর রহমান মুজিবের নির্বাচিত রচনা সংকলন।
 এ প্রজন্মের প্রিয় নেতা তারেক রহমানঃ পুস্পিত শুভেচ্ছা।
 ইটার ইতিহাস: সংযোজিত দ্বিতীয় সংস্করন।
 সুবে বাংলার সিপাহশালার বেঈমান মীর জাফর আলী খাঁন: আর নয় পলাশী: আর নয় মীর জাফর।
 আমার দেখা একাত্তোরঃ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা
 ভাষা সৈনিক এম.সাইফুর রহমানঃ কর্ম ও জীবন দর্শন। যন্ত্রস্থ।
 মুঘল সমাজ্যের শেষ অধ্যায় ঃ পতন ও পরিনতি। যন্ত্রস্থ।

এই সংবাদটি 1,252 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •