সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে হিলির কৃষক

প্রকাশিত:শনিবার, ০২ জানু ২০২১ ০৩:০১

সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে হিলির কৃষক

হিলি (দিনাজপুর) :
খাদ্য শষ্যের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জনপদ দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। পৌষের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে কৃষক।

চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নে ৮শ ২৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। বেড়ে ওঠা গাছ আর ফুল দেখে বেশি ফলনের স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার কৃষকরা। গত বছর স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, আমন ধান কাটার পর জমি তৈরি করে সরিষা বীজ বপন করা হয়। বীজ লাগানোর ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় সরিষা ফলন ঘরে আসে। ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ মণ ফলন হয় সরিষার, যা বর্তমান বাজারে বিক্রি হবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।

ছাতনী গ্রামের কৃষক মাসুদ বলেন,আমন ধান কাটার পর জমি গুলো পড়ে থাকে তাই প্রতি বছর আমার জমি গুলোতে সরিষা চাষ করি।এবারও সরিষা চাষ করেছি।গাছ অনেক ভালো হয়েছে আশা করছি ফলনও অনেক ভালো হবে।

তিনি আরো বলেন,জমিতে সরিষা চাষের সময় সার প্রয়োগ করলে বোরো রোপনের জন্য আলাদাভাবে সার দিতে হয় না এটা আমাদের অনেক উপকারে আসে ।

আলীহাট ইউনিয়নের কৃষক রোস্তম আলী বলেন,আমন কাটার পর সরিষা চাষ করলে আমাদের অনেক উপকার হয় কারন সরিষা কাটাই-মাড়াই করে সেটা বিক্রি করে দেয় সেই টাকা দিয়ে বোরো ধান লাগায়। এটা আমাদের একটা বোনাস ফসল।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন,এটা স্বল্প খরচে একটি বোনাস ফসল যা প্রান্তিক কৃষকদের অনেক উপকারে আসে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা জানান, হাকিমপুর উপজেলায় এবার সরিষার চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এই উপজেলায় ৮শ ২০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হলেও এবার চাষ হয়েছে ৮শ ২৫ হেক্টর জমিতে। আমরা সরিষা চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারীভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এবার ৩শ ৮০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ডিএপি,পটাশ ২০ কেজি ও ১ কেজি করে বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •