• ২১ জানুয়ারি, ২০২২ , ৭ মাঘ, ১৪২৮ , ১৭ জমাদিউস সানি, ১৪৪৩

সাংগঠনিক কাজে রেজা কিবরিয়া এখন মিশিগানে

newsup
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১২, ২০২১
সাংগঠনিক কাজে রেজা কিবরিয়া এখন মিশিগানে

মিশিগান ডেস্কঃ 

বর্তমান সরকারের সাথে সুর মিলিয়ে যদি বলি বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। মাথাপিছু আয় বাড়ছে। জেলায় জেলায় নতুন শিল্প কারখানা হচ্ছে। তারপরও কথা থেকে যায়, দেশে আইন শৃংখলার চরম অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিদেশে টাকা পাচার, বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে জনগণ কাঙ্খিত সুফল পাচ্ছে না। ভিন্নমতাবলম্বীদের উপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরজবরদস্তি,  খুন, গুম ও রিমান্ডে নির্যাতন একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের চিত্র হতে পারে না ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন মানুষ তার অজান্তেই ধনী হয়ে যাচ্ছে  জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। কিন্তু আমি বলি সরকারের অজান্তেই দরিদ্র লোকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে যুব সমাজের মধ্যে হতাশা। যে কারণে দেশের যুব সমাজের একটি বিরাট অংশ বিপথগামী। হতাশাগ্রস্ত এই যুবসমাজ ভবিষ্যতের জন্য এক মারাত্মক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। সরকারের ছত্রছায়ায় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের পেশী সুলভ ও অসৎ আচরণে জাতি দিশেহারা। পরপর দুটি নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার যারপরনাই তাই করে যাচ্ছে। তাদেরকে বাধা দেওয়া অথবা বিরোধিতা করার মত বিরোধীদল এখন সংসদে নেই। মামলা হামলা জেল-জরিমানা ও ফাঁসি দিয়ে বিরোধীদলকে সরকার ইতিমধ্যে কোণঠাসা করে ফেলেছে। তাই সংসদে বা রাজপথে সরকারের সমালোচনা করার কোন শক্তি শালী দল নেই। সরকারের বহুমাত্রিক চাপ পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রিমান্ডে নির্যাতনের কারণে বিরোধী দলগুলি শক্তিহীন হয়ে পড়েছে । যা গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতির জন্য মারাত্মক হুমকি ।

এমনই জাতীয় সংকটকালীন মুহূর্তে গণঅধিকার পরিষদ ১৮ কোটি মানুষের মনে কিছুটা হলেও আশা জাগিয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র এক সংকটময় সময় অতিবাহিত করছে এখন। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ একটা পরিবর্তন আশা করছে। ইতিহাস বলে কোন সরকার দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ইচ্ছায়  হোক, অনিচ্ছায় হোক পরিবর্তন একদিন আসবেই।। প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তার সঠিক বাস্তবায়ন। যে কোন দেশের পরিবর্তন তরুণ ও যুবসমাজের ভূমিকা অগ্রগণ্য। গন অধিকার পরিষদ এমনই একটি প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের কৃতি সন্তান রেজা কিবরিয়া একজন দক্ষ যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিত্ব। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আরাম, আয়েশি জীবন ত্যাগ করে, তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন । তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। উনার পিতাও জীবন দিয়ে এদেশের মানুষের উপকার করেছেন। মরহুম শাহ এ এম এস কিবরিয়া এর তাজা রক্ত মিশে আছে বাংলার মাটিতে।

সে মাটিতে একদিন গণতন্ত্রের বিজয় হবেই। পিতার দেখানো পথেই একদিন রেজা কিবরিয়া বাংলাদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন। যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান তিনি।  শাহ এ এম এস কিবরিয়া ১৯৫৪  সালে পাকিস্তান সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে পররাষ্ট্র সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ৪ঠা আগষ্ট ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাস ত্যাগ করে মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন । তিনি মার্কিন সিনেটর কংগ্রেস সদস্য এবং ওয়াশিংটনে সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যৌক্তিকতার কথা তুলে ধরেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তিনি  অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন । ২০০১ সালে হবিগঞ্জ সদর ৩ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৫ সালে ২৭ শে জানুয়ারি বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলার শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। উনার ছেলে ডক্টর রেজা কিবরিয়া। রেজা কিবরিয়া অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আই এমন এফ এ কাজ শুরু করেন। তিনি আফ্রিকান দেশ ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়া উগান্ডা কেনিয়া রুয়ান্ডা মালাউই প্রভৃতি দেশের সরকার সমূহের অর্থনৈতিক বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন ।  ডক্টর রেজা কিবরিয়া যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে মিশিগানে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, রেজা কিবরিয়া সাংগঠনিক কাজে যুক্তরাষ্ট্র সফরে করছেন। ইতিমধ্যে তিনি নিউইয়র্ক, নিউজার্সিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে সভা করেছেন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন স্টেটে গণঅধিকার পরিষদের কমিটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বড় একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন তাঁর এই সফরের লক্ষ্য বলে একটি সূত্র জানিয়েছে ।

এই সংবাদটি 1,233 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •