সাপাহারে সফল উদ্যোক্তা সোহেল রানার আম্রপালি আম ইংল্যান্ডে রপ্তানি

প্রকাশিত:সোমবার, ২৮ জুন ২০২১ ১০:০৬

সাপাহারে সফল উদ্যোক্তা সোহেল রানার আম্রপালি আম ইংল্যান্ডে রপ্তানি

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার সফল উদ্যোক্তা সোহেল রানার বাগানে উৎপাদনকৃত আম্রপালি আম ইংল্যান্ডে রপ্তানি করা হয়েছে। সাপাহার উপজেলা থেকে আম্রপালি জাতের আম বিদেশে রপ্তানি করার বিষয়টি যেন এক স্বপ্নের মতো হলেও সত্য গত ১৭ জুন প্রায় এক টন আম্রপালির প্রথম চালান বহনকারী বিমান ইংল্যান্ডের উদ্দ্যেশে ছেড়ে গেছে।
বারি’র উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: শরফ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এষড়নধষ এঅচ অনুসরণ করে উৎপাদিত আম্রপালি প্রায় ১ টন আমের চালান সন্ধ্যায় এক ফ্লাইটে ইংল্যান্ডের ছেড়ে গেছে।
জানা যায়, জেলার বরেন্দ্র এলাকার সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর ও পত্নীতলার আংশিক এলাকা আম্রপালির জন্য বিখ্যাত। এ জাতের আমগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট হয়। জেলায় প্রায় ৭৬ ভাগই জমিতেই আম্রপালি উৎপাদন হয়ে থাকে। উপজেলার ‘বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্ক’ এর মালিক সোহেল রানা তার নিজস্ব বাগান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিদেশে আমগুলো রপ্তানি করেন।
নওগাঁর পত্নীতলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রাম গ্রামের কৃষক আজিজার রহমানের ছেলে সোহেল রানা। তিনি নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। ২০১৫ সালে নিজ গ্রামের খাড়িপাড়া এলাকায় পৈতৃক ১২ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। নাম দেন ‘রূপগ্রাম অ্যাগ্রো ফার্ম’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মেধা ও পরিশ্রমে তিনি এখন ১৪০ বিঘা জমিতে পৃথক দুটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন। তার এ খামার এখন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের অনুপ্রেরণা উৎস হিসেবে কাজ করবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাপাহার গোডাউন পাড়ায় আড়াই বছর বয়সী প্রায় দেড় হাজার আম্রপালি গাছ রয়েছে। এ বাগান থেকে এ বছর প্রায় ৪০ টনের মতো আম পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। গাছের বয়স কম হওয়ায় আমগুলো কয়েক দিনের মধ্যে পাকবে। কারণ গাছের বয়স বেশি হলে আম পাকতে দেরি হয়।
সফল উদ্যোক্তা সোহেল রানা জানান, বিদেশে আম রপ্তানির জন্য আমগুলোর বিশেষ পরিচর্যা করা হয়েছে। চাষের সময় সুষম ও জৈব সার, নিয়মিত কীটনাশক এবং ছত্রাকনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন। যাতে আমগুলো রোগবালাই মুক্ত থাকে। তবে আম পাড়ার ১৫ দিন আগে গাছে সব ধরনের স্প্রে বন্ধ করতে হয়। এতে কীটনাশকের কেমিক্যাল মানুষের শরীরে আর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
সাধারণ চাষিরা কয়েকদিন আগে কীটনাশক স্প্রে করে বাজারে নিয়ে যান আম। কিন্তু বিদেশে যেসব আম রপ্তানি করা হবে সেগুলো ঢাকায় যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর সব ঠিক থাকলে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় বলে জানান সোহেল রানা।
তিনি বলেন, ‘বুধবার (১৬ জুন) হারভেস্ট করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্যাকেজিং করা হয় বাগানের আমগুলো। এরপর রাতে পিকআপে ঢাকায় পাঠানো হয় এ আম্রপালি আম। গত বৃহস্পতিবার সারাদিন রপ্তানির যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে সন্ধ্যায় বিমানে আমের চালান ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় এক ফ্লাইটে ইংল্যান্ডের ছেড়ে গেছে। আগামিতে আরো রপ্তানী হওয়ার সম্ভব না রয়েছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুল ওয়াদুদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। জেলায় আম্রপালি ৭৬ শতাংশ, বারি-৪ আম ৬ শতাংশ, আশ্বিনা ৭ শতাংশ, ফজলি ৩ শতাংশ, ল্যাংড়া ৩ শতাংশ, ক্ষিরসাপাত ২ শতাংশ, গৌড়মতি ১ শতাংশ, কাটিমন ১ শতাংশ, অন্যান্য জাতের ১ শতাংশ জমিতে আমের বাগান গড়ে উঠেছে। নওগাঁর প্রধান আম হচ্ছে আম্রপালি। এই সুস্বুাদু ও সুমিষ্টিয় হওয়ায় এই আমের ওপর ভিত্তি করেই নওগাঁ ব্যান্ডিং হয়েছে। আম্রপালি নামটি হাইব্রিড জাতের আম। তিনি আরো জানান, জেলার আম চাষিরা এখন অনেক সচেতন হওয়ায় রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়াই আম বাজারজাত করছেন। ইত্যে পূর্বেও জেলায় থেকে অনেক আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। আগামিতেও আরো আম বিদেশে রপ্তানি হবে বলে আশা করেন।

 

এই সংবাদটি 1,236 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •