সিলেটে ৪ হাজার মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২২ জুলা ২০২১ ০৩:০৭

সিলেটে ৪ হাজার মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টঃ

সিলেটের প্রায় ৪ হাজার মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে।

সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকা ও ইউনিয়নসমূহ মিলিয়ে মেট্টোপলিটন এলাকার সাড়ে ১১’শ মসজিদ ও জেলার ১৩ উপজেলার ২ হাজার ৬৭৩টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে মহানগর এলাকায় ঈদগাহের বদলে সাড়ে ১১’শ মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় ২৭১টি ঈদগাহ ও দুই হাজার ৮৬১টি মসজিদ রয়েছে। এরমধ্যে ২১২টি ঈদগাহ ও দুই হাজার ৪৬১টি মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ৮টায় হজরত সিলেটে শাহজালাল (র) মাজার জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত হয়। প্রায় একই সময়ে জামাত হয় হজরত শাহপরাণ (র.) মাজার মসজিদে।

নামাজ শুরুর আগে বৃষ্টিস্নাত সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে উপস্থিত হন মুসল্লিরা।

হজরত শাহজালাল (রা.) মাজারের দরগাহ মসজিদে নামাজ শেষে হয় খুতবাহ। খুতবায় দেওয়া হয় মহামারী করোনা থেকে সচেতনতার বার্তা। সেই সাথে কুরবানির নিয়ম নিতি সম্পর্কে অবিহিত করা হয় উপস্থিত মুসল্লিদের। সবশেষ পুণ্যভূমি সিলেটসহ বিশ্বের মুসলিমদের করোনা মহামারী থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হয়। দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে কান্নায় মশগুল চাওয়া হয় মুক্তি, আর কোরবানি কবুলের প্রার্থনা। কিন্তু ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি নিষিদ্ধ থাকায় তা করা হয়নি।

 

 

অপরদিকে বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, কালেক্টরেট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ও কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় ঈদের জামাত। এসব মসজিদে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও সিলেট জেলায় ৫ হাজার ২০৩টি জামে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।

অপরদিকে সিলেট মহানগর এলাকায় এবার প্রায় সাড়ে ১১শ’ মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো এবং সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশ পর্যবেক্ষণ করে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের।

এদিকে ১৭০০ সালে প্রথম দশকে সিলেটের তদানীন্তন ফৌজদার ফরহাদ খাঁ নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে, তদারকি ও তত্ত্বাবধানে শাহী ঈদগাহ নির্মাণ করেন। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে এখানে দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় এক থেকে দেড় লাখ মুসল্লি এক সাথে এখানে ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন। কিন্তু করোনা মহামারীর শুরু থেকে টানা নীরবতা বিরাজ করছে শাহী ঈদগাহে।

এদিকে ঈদের নামাজ শেষে সিলেটসহ সারাদেশে চলে পশু কোরবানি। বরাবরের মতই পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান ছাড়াও সিলেট নগরীর বিভিন্ন অলিগলির সড়কে, গ্যারেজে ও ফাঁকা জায়গায় পশু কোরবানি করতে দেখা গেছে।

নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন স্থানে গরু ও ছাগল কোরবানি করতে দেখা গেছে। ঈদের নামাজ শেষ হতেই অনেকে পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট বিভাগে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ পশু কোরবানি দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার, সুনামগঞ্জে প্রায় ৬৮ হাজার, মৌলভীবাজারে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় প্রায় ১ লাখ গরু-ছাগল এবার কোরবানি দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গেল বছরের চেয়ে এ বছর কোরবানি দেয়ার হার বেড়েছে।

এদিকে, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের ওপর জোর দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বর্জ্য অপসারণে তিনস্তরের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে সিসিকের ২৭টি ওয়ার্ডকে ৩টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এসব জোনে বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিসিকের সচিব ফাহিমা ইয়াসমিন, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহার রুমা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়। এছাড়া ৯ জন মনিটরিং কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ