সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ মৌসুম শুরু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রু ২০২১ ০৯:০২

সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ মৌসুম শুরু

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের একটি কূপে গোলপাতা আহরণ চলছে। নির্বিঘেœ গোলপাতা কাঁটতে পেরে খুশি বাওয়ালীরা। বন বিভাগের কঠোর নিরাপত্তা আর বিধিনিষেধে প্রথম ট্রিপের গোলপাতা কাঁটতে পারেনি বাওয়ালীরা। বন বিভাগ সূত্রে, সুন্দরবন থেকে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় গোলপাতা সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বাওয়ালীরা। গোলপাতা আহরণের ভরা মৌসুমে এবার বাওয়ালীদের অনুমতি (বিএলসি) দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল বন বিভাগ। ফলে গোলপাতা আহরণ মৌসুমের একটু দেরিতে ব্যবসায়ীরা পারমিট গ্রহণ করে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। তবে বনের ওপর থেকে চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে বন বিভাগ।
খুলনা রেঞ্জের রেঞ্জ সহযোগী কর্মকর্তা কাজী মাহফুজুল হক বলেন, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের ১ টি কূপে গোলপাতা প্রথম দফায় ১ লাখ মন গোলপাতা কাটার পারমিট দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তার মধ্যে প্রথম দফায় গোলপাতা সংগ্রহ করার জন্য ১৪৫ টি বিএলসির অনুকূলে বাওয়ালীরা ৭০ হাজার ১ শ ২৮ মণ গোলপাতা সংগ্রহ করার পাশ (পারমিট) নিয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে এ সকল বিএলসির অনুকূলে পারমিট দেওয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত গোলপাতা আহরণ চলবে। অন্য সহযোগি কূপ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বাওয়ালীরা যাতে নিবিঘেœ গোলপাতা কাঁটতে পারে তার জন্য নিয়মিত কূপের পক্ষে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ না থাকায় গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নাও হতে পারে বলেও তিনি জানান। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালেহ বলেন, নির্বিঘেœ যাতে বাওয়ালীরা গোলপাতা কাঁটতে পারে তার জন্য বন বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। ইতোমধ্যে বাওয়ালীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা আহরণ করছে। সুন্দরবন সংলগ্ন কয়েকজন বাওয়ালী জানান, বাপ দাদার আমল থেকে তারা সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করে আসছেন। কিন্তু বন বিভাগের এত কড়াকড়ি আগে কখনও দেখেনি। কয়েকজন খুচরা গোলপাতা ব্যবসায়ী জানন, এখন আগের মতো আর গোলপাতার চাহিদা নেই। বিক্রি কম হওয়ায় অনেকের গত বছরের গোলপাতা এখনও রয়ে গেছে। তবে অনেক বাওয়ালী বলে, গোলপাতায় যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করা হয়, সেই তুলনায় ব্যবসা নেই। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. মো. আবু নাসের মোহসীন হোসেন বলেন, প্রতিটি স্টেশনে ও কূপে নিয়মিত তদারকি করে বিএলসি নবায়ন করার অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি কূপে নৌকার মিল রেখে গোলপাতা কাটার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই সংবাদটি 1,237 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •