সুমনের ইতিহাস অনুসন্ধানী দৃষ্টি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৮ নভে ২০২১ ০৯:১১

সুমনের ইতিহাস অনুসন্ধানী দৃষ্টি

নিউজ ডেস্কঃ 

পেশায় তিনি সাংবাদিক। আগ্রহের বিষয়বস্তু ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতি। ঘুরতে ভীষণ ভালোবাসেন। ফুরসৎ পেলেই বেরিয়ে পড়েন আজনা-অদেখা নানা বিষয়ের সন্ধানে। অনুসন্ধানী চোখ নিয়ে হাজির হন মুঘল সম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র মুর্শিদাবাদের অলি-গলিতে, কখনো বাংলার শেষ স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত যাওয়ার নাটক যুদ্ধের মাঠ পলাশীর প্রান্তরে, আবার কখনোবা তার দেখা মেলে ২০০ বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী টাঙ্গাইলের বিখ্যাত তাঁতের শাড়ির হাটে।

বলছিলাম সালাহউদ্দিন সুমনের কথা। অনুসন্ধান আর অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের জন্য তিনি তৈরি করেন ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভিত্তিক চমৎকার সব ভিডিও কন্টেন্ট। যা সব শ্রেণীপেশার মানুষকেতো বটেই, ইতিহাসবেত্তাদেরও আকর্ষিত করছে দারুণভাবে।

সুমনের জন্ম বগুড়ার আদমদীঘিতে। ছোট বেলায় ইচ্ছা জাগে লেখক হবার। সেই সুবাদে ছাপা পত্রিকার প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়। এই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় পদার্পণ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ থেকে স্নাতক পাশের পর চাকরি পান একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বুরো প্রধান হিসাবে। চাকরি করেন দীর্ঘদিন। একটা পর্যায়ে এসে সুমন অনুধাবন করেন তার আগ্রহ ভিন্ন একটা জায়গায়। ইতিহাস, ঐতিহ্য বিশেষ মুঘলদের রাজধানী মুর্শিদাবাদের ইতিহাস যেন তাকে খুব করে টানছে।

একদিন সুযোগ পেতেই চেপে বসলেন ঢাকা থেকে কলকাতাগামী একটি ট্রেনে। সাথে ছিল ছোট একটি মোবাইল ফোন। সেই মোবাইল দিয়েই ভিডিও করেন ঢাকা-কলকাতা যাত্রা এবং কলকাতা শহরের কিছু অংশ। ফিরে এসে ভিডিওটি ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশ করলে দারুণ সাড়া মেলে। সেই থেকে শুরু হয় সুমনের নতুন পথযাত্রা। এরপর থেকে শুরু করেন ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজ।

তবে শুরু থেকেই তিনি নিজের পেশা ও ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির সাংঘর্ষিক বিষয়ে সতর্ক ছিলেন। শুধুমাত্র অফিসের কাজের বিরতিতে তৈরি করতেন এসব কন্টেন্ট। তবে এক পর্যায়ে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, তাকে টেলিভিশন সাংবাদিকতা অথবা ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।  তখন তিনি কন্টেন্ট তৈরিকেই বেছে নেন।

সুমনের ভিডিওর প্রথম দর্শক ছিলেন তার মা-বাবা। সুমন বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই চেয়েছিলাম গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভ্রমণ, ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করার, যা পরিবারের সকল সদস্যের জন্য দেখার উপযোগী হবে। তাই আমি কোন ভিডিও রিলিজ করার আগে প্রথমে বাবা, মা আর আমি—তিনজন মিলে একবার দেখে নিই, কোথায় কোন গলদ রয়ে গেলো কিনা। তাঁরাও আমাকে দারুণ উৎসাহ দেন এসব ব্যাপারে।

বর্তমানে সুমন বিবিসি বাংলার ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক হিসাবে কাজ করছেন। সাথে অনুসন্ধানী চোখ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে। খুঁজে বেড়াচ্ছেন ইতিহাসের কথা। ইতিহাসের এসব আবেদন, নিবেদন তুলে ধরছেন হাজারো দর্শকের কাছে। এত ব্যস্ততার মাঝেও সুমন তার ছোটবেলার শখ লেখালেখিকে ভুলে থাকেননি। ইতোমধ্যেই প্রকাশ করেছেন তিনটি গ্রন্থ। তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। নাম ছিল ‘অনুভবে তুমি’। ভবিষ্যতে তিনি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির পাশাপাশি লেখালেখিকেও চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রাখেন।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •