স্ট্রোকের রোগীদের জন্য বিজ্ঞানীদের নতুন আবিস্কার

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual1 Ad Code

আমেরিকার বিজ্ঞানীরা হাতে বেঁধে রাখা যায় এমন একটি সেন্সর প্যাচ তৈরি করতে চলেছেন যা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করবে।

এই সেন্সর ক্রমাগত রোগীর অবস্থা তার চিকিৎসকের কাছে পাঠাবে।

বিজ্ঞানীদের যে দলটি এটি তৈরি করছেন তারা বলছেন, চিকিৎসকরা দূরে বসেই সর্বক্ষণ রোগীর অগ্রগতি অবনতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ফলে তার আরোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

Manual4 Ad Code

এ ব্যাপারে বিস্তারিত একটি গবেষণার ফলাফল আমেরিকায় বিজ্ঞানীদের একটি সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়েছে।

ডাক্তারের কাছে এভাবে সর্বক্ষণ পৌঁছুবে রোগীর তথ্য

 

লিজি ম্যাকানিচ নামে এক ডাক্তার দুই বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর বেশ কয়েকসপ্তাহ ধরে নড়তে চড়তে বা কথা বলতে বা গিলতে পর্যন্ত পারছিলেন না। তার হাতে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেন্সর পরানো হয়েছে।

এই সেন্সর দেখতে ছোটো এক টুকরো প্লাস্টারের মতো যা চামড়ার সাথে লাগিয়ে দেয়া যায়। এরপর বিনা তারেই এ প্যাচটি চিকিৎসকদের কাছে তথ্য পাঠাতে পারবে।

লিজি বিবিসিকে বলেন, এই সেন্সর দিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর কোনো পেশী কাজ করছে আর করছে না তা বোঝা যাবে। ফলে স্ট্রোকের কারণে শরীরের ঠিক কোথায় ক্ষতি হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বোঝা যাবে।

লিজির থেরাপিস্ট ক্রিস্টেন হোল বলেন, রোগীরা পরামর্শ মত কাজ করছে কিনা – তা বুঝতে এখন তাদের মুখের কথার ওপর ভরসা করতে হয়।” এখন এসব তথ্য আমি দুরে বসে এই সেন্সরের মাধ্যমে পেয়ে যাবো।”

Manual2 Ad Code

বিজ্ঞানীদের জন্য বড় যেটা চ্যালেঞ্জ ছিল তা হচ্ছে – একটি ছোটো নমনীয় প্যাচের মধ্যে প্রচুর সংখ্যায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ঢোকানো যেটা আবার রোগীদের জন্য অস্বস্তি তৈরি না করে।

শিকাগোর নর্থ-ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন রজার্স, যিনি এই সেন্সর প্যাচ আবিষ্কার করেছেন, বলছেন, “মানুষ বুঝতেই পারবে না এই প্যাচের ভেতর এতো কারিগরি রয়েছে।”

এ বছরের শেষে পরীক্ষা পর্ব শেষ হলে এটির বাণিজ্যিক উৎপাদন হয়তো শুরু হবে।

 

সিঁড়ি ব্যবহারে কমে রক্তচাপ

Manual5 Ad Code

রক্তচাপ এখনকার দিনে একটি বড় সমস্যা। এটি নিজে তো একটি সমস্যা, সেইসাথে সৃষ্টি করে আরো নানা জটিলতা। অনেক লোক মারা যায় প্রতিদিন। তবে ভয়টা এখানে নয়, বিশেষজ্ঞদের আসল চিন্তাটা হলো আমাদের জীবনযাত্রা দিন দিন এমন হচ্ছে যে বছর বছর ব্লাড প্রেসারের কারণে মৃত্যুর সংখ্যাটা বাড়বে বই কমবে না! তাই এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ ভাবে বাঁচতে লিফট নয়, সিঁড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

কিন্তু সিঁড়ি ব্যবহারের সঙ্গে ব্লাড প্রেসারের কী সম্পর্কে? বেশ কিছুদিন আগে প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করার সময় সারা শরীরে রক্তের প্রবাহ এতটা বেড়ে যায় যে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেমে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। এখানেই শেষ নয়, সিঁড়ির সঙ্গে বন্দুত্ব পাতালে মেলে আরো অনেক শারীরিক উপকার। যেমন…

১. মনকে চাঙ্গা করে তোলে : কথাটা শোনার পর নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন, কিন্তু একথার মধ্যে কোনো ভুল নেই যে মন খারাপের প্রকোপ কমিয়ে মুডকে চাঙ্গা করে তুলতে সিঁড়ির ব্যবহার বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা বা নামার সময় আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে এন্ডোরফিন নামক “ফিল গুড” হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মন চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় লাগে না। তাই তো এবার থেকে কাজের চাপে বা অন্য কারণে মন ক্ষতবিক্ষত হলেই সিঁড়ির সামনে এসে দাঁড়াবেন, দেখবেন নিমেষে সব ভালো লাগতে শুরু করবে।

২. সুস্থতা বাড়ে : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করলে ভিতর এবং বাইরে থেকে শরীর এতটা শক্তিশালী এবং কর্মক্ষম হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে আসতে পারে না।

৩. একসঙ্গে দুটি সিঁড়ি ভাঙলে মিলবে বেশি উপকার : একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে একটা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় একটা একটা করে সিঁড়ি ভাঙার পরিবর্তে যদি একসঙ্গে দুটি করে সিঁড়ি টোপকে টোপকে ওঠা যায়, তাহলে আরো বেশি উপকার মেলে। কারণ এমনটা করলে শরীরের অন্দরে উপকারি হরমোনের ক্ষরণ যেমন বেড়ে যায়, তেমনি শরীরের প্রতিটি পেশীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৪. জয়েন্টের কর্মক্ষমতা বাড়ে : বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীর যেমন বুড়ো হতে থাকে, তেমনি জয়েন্টের সচলতাও কমতে শুরু করে। ফলে ব্যথা-যন্ত্রাণায় জীবন জর্জরিত হয়ে ওঠে। আপনি যদি না চান আপনার সঙ্গেও এমনটা হোক, তাহলে ভুলেও লিফট ব্যবহার করবেন না। পরিবর্তে সিঁড়ির সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে হবে। কারণ খেয়াল করে দেখবেন সিঁড়ি ব্যবহার করলে জয়েন্টের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে শরীরের বয়স বাড়লেও তার প্রভাব জয়েন্টের উপর পরতে পারে না।

৫. পায়ের পেশীর সচলচতা বৃদ্ধি পায় : সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার সময় আমরা আমাদের গ্র্যাভিটির বিপরীত মুখি হই। তাই এই সময় নিজের ওজনকে সামলে একের পর এক ধাপ নিয়ে উপরে ওঠার সময় পায়ের পেশীর উপর চাপ পড়তে থাকে। এমনটা দিনের পর দিন হতে থাকলে একদিকে যেমন পায়ের নিচের অংশের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তেমনি পেটের পেশীর সচলতাও বাড়তে থাকে। ফলে বেলি ফ্যাট কমার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৬. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে : সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নাম করলে বোন ডেনসিটির উন্নতি ঘটতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হাড় শক্তপোক্ত হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। এই কারণেই তো ৪০-এর পর থেকে মহিলাদের লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

Manual4 Ad Code

৭. জিমের সমান উপকার মেলে : জিমে গিয়ে ৩০ মিনিট ঘাম ঝরালে যতটা উপকার পাওয়া যায়, ততটা না হলেও কিছু কম উপাকার পাওয়া যায় না সিঁড়ি ব্যবহার করলে। একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত ওঠা-নামা করলে যে পরিমাণ ক্যালরি বার্ন হয়, তা অন্য কোনো এক্সারসাইজ করলে হয় না। তাই শারীরিকভাবে চাঙ্গা থাকতে এবং ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিঁড়ির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে ভুলবেন না যেন!

৮. ওজন কমতে থাকে : অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে ভুলেও লিফটের দিকে পা বাড়াবেন না। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সিঁড়ি ভাঙার অভ্যাস করলে শারীরিক সচলচতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে শরীরে জমতে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা লিফট ব্যবহার করলে কখনই সম্ভব হতো না।

৯. হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় : যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করার সময় সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। সেই শঙ্গে হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে,তাদের তো এই কারণেই বেশি করে সিঁড়ি ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code