হাতকড়া বিষয়ে উচ্চাদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন

প্রকাশিত:সোমবার, ২২ নভে ২০২১ ০২:১১

হাতকড়া বিষয়ে উচ্চাদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন

নিউজ ডেস্কঃ সময়টি ছিল ১৯৯৪ সালের ২২ ডিসেম্বর। ভারতের বিখ্যাত সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার একদিন গুয়াহাটি সরকারি হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি একটি রুমে সাতজন রোগীকে হাতকড়া পরা অবস্থায় বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখেন। পাহারারত পুলিশকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, তারা উলফা সন্ত্রাসী। একটি মামলায় তাদের আটক করা হয়েছে। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন। কুলদিপ নায়ার ‘সিটিজেনস ফর ডেমোক্রেসি’ নামক সংগঠনের সভাপতি হিসাবে বিষয়টি আসামের মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনেন। কোনো প্রত্যুত্তর না পেয়ে তিনি ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে চিঠি লিখেন। সুপ্রিম কোর্ট তার চিঠিকে ‘সিটিজেন ফর ডেমোক্রেসি বনাম স্টেট অব আসাম’ শিরোনামে রিট পিটিশন হিসাবে আমলে নেন।

আদালত আসামের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বাস্থ্য সচিবকে নোটিশ করেন। তারা ওই নোটিশের জবাবে জানান, ১৯৯১-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে আসামিদের পলায়নের ৫১টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হাসপাতালের বেড থেকে কয়েকটি পলায়নের ঘটনা রয়েছে। এমন কী গুয়াহাটি হাসপাতালেও এমন ঘটনা ঘটেছে সাতটি। এসব ঘটনার উপস্থাপন সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট রিট পিটিশন মঞ্জুর করে রায় দেন। ভারতে এ রায়টি ‘ল্যান্ডমার্ক রায়’ হিসাবে বিবেচিত হয়।

এর আগে দিল্লি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিরুদ্ধে করা সুনীল বাত্রা ও প্রেম শংকর শুক্লার মামলাতেও হাতকড়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়। রায় দুটির বিশদ আলোচনা করা হয় ‘সিটিজেনস ফর ডেমোক্রেসি’র মামলায়। এ রায়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বলেন, পুলিশ অথবা জেল কর্তৃপক্ষের কোনো এখতিয়ার নেই আসামিকে হাতকড়া পরানোর। কোনো সুনির্দিষ্ট মারাত্মক আসামিকে হাতকড়া পরানো জরুরি হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট আসামির সহিংস, উন্মত্ত, পলায়নপর ও অপরাধপ্রবণ মানসিকতার ভিত্তিতে আবেদন মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করবেন।

ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ ব্যতীত কাউকে হাতকড়া পরানো বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে। কেবল ওয়ারেন্ট ব্যতীত কোনো আসামিকে গ্রেফতারের সময় নিরূপায় হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নেওয়া পর্যন্ত হাতকড়া পরানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই যৌক্তিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে হবে। অন্যদিকে ওয়ারেন্টের আসামিকে হাতকড়া পরাতে হলে পূর্বাহ্নেই আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

আমাদের দেশের হাইকোর্টে ২০১৮ সালে এ ব্যাপারে একটি রায় হয়। ২০১৭ সালের ২৬ মে বাসের ধাক্কায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র নিহতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিয়াল্লিশ জনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে একজন অসুস্থ থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে হাতকড়া পরিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। সংবাদপত্রে বিষয়টি প্রচারিত হলে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাতকড়া পরানোর ক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ ব্যাপারে সতর্কও করে দেওয়া হয়। কিন্তু রায়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা গাইডলাইন দেওয়া হয়নি। এর আগে ২০১৬ সালে ব্লাস্টের করা মামলায় আপিল বিভাগ আসামি গ্রেফতার ও রিমান্ড সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে গ্রেফতার করা আসামিকে নির্যাতন ও তার সঙ্গে নিষ্ঠুর, অমানবিক আচরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উচ্চ আদালতের এমন রায়ের পরও হাতকড়ার ব্যবহার হ্রাস পায়নি। থেমে থাকেনি আইনের অপব্যবহার। ২০২০ সালের মার্চ মাসে নিখোঁজ হন সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। নিখোঁজের তিপ্পান্ন দিন পর তিনি বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক আটক হন। যশোর পুলিশ তাকে পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নিয়ে যায়। সে ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়। ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর গ্রেফতার হন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন। রাজধানীর মাইন্ড এইড হাসপাতালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিম শিপন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরানো হয়। হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার ছবি পত্র-পত্রিকায় প্রচারিত হয়। ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের খাবার পরিবেশনে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক তানভীর হাসান তানুর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। দুঃখজনক হলো, তাকেও হাতকড়া পরিয়ে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে আটকে রাখা হয়। সম্প্রতি হাদিস বিশারদ মুফতি কাজী ইব্রাহীমকে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার হাতকড়া পরা ছবিসহ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল উল্লেখ করার মতো।

সংবাদমাধ্যম বা সামাজিকমাধ্যমের বদৌলতে কিছু ঘটনা আমাদের সামনে আসে। অধিকাংশ ঘটনা থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালে। আসামিকে হাতকড়া পরানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একটি নিয়মিত বিষয়। গ্রেফতার বা রিমান্ড এবং আদালতে আনা নেওয়ার সময় প্রায় সব আসামিকেই হাতকড়া পরানো হয়। এটি ভাত-মাছের মতো একটি ব্যাপার। আসামি মানেই তার হাতে হাতকড়া থাকতে হবে। এটি ছাড়া আসামি নামের পূর্ণত্ব আসে না যেন।

আসামিকে হাতকড়া পরানো কেন প্রয়োজন? আইন কী বলে? বেঙ্গল পুলিশ প্রবিধানমালা, ১৯৪৩-এর প্রবিধান ৩৩০ অনুযায়ী, কোনো শক্তিশালী বন্দি বা কুখ্যাত হিসাবে পরিচিত বা অসুবিধা সৃষ্টি করতে উন্মুখ আসামিকে হাতকড়া পরানো যেতে পারে। আবার যাতায়াতের পথ দীর্ঘ বা আসামির সংখ্যা বেশি হলে হাতকড়া পরানো যেতে পারে। কিন্তু কোনো মহিলা আসামিকে কোনো অবস্থাতেই হাতকড়া পরানো যাবে না। বেশি বয়স্ক বা দুর্বল বন্দি বা যাদের সহজে হেফাজতে রাখা যায়, তাদেরও হাতকড়া পরানো যাবে না। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭১ ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত সাক্ষীকে কখনোই হাতকড়া পরানো যাবে না। এছাড়া কারাভ্যন্তরে অপরাধ হেতু প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কয়েদিকে হাতকড়া পরানো হয়ে থাকে। অপরাধ ভেদে বিভিন্ন রকম শাস্তির মধ্যে হাতকড়া পরানো একটি শাস্তি। জেল কোডের বিধি ৭০৮ এবং কারা আইনের ৪৬ ধারায় লঘু ও গুরু শাস্তি হিসাবে কয়েদিকে হাতকড়া পরানোর বিধান রয়েছে। আবার কারা আইনের ৫৬ ধারায় কয়েদির নিরাপদ হেফাজতের জন্য প্রয়োজন হলে হাতকড়া পরানো যায়। মজার ব্যাপার হলো, বেঙ্গল পুলিশ প্রবিধানমালায় হাতকড়া বা দড়ি ব্যবহারকে অপ্রয়োজনীয় ও অমর্যাদাকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে গড়ে প্রায় সব আসামিকে হাতকড়া পরানো হয় কেন? আইন তো এমন লাগামহীন সুযোগ দেয়নি; অথবা হাতকড়া সংস্কৃতির আর কোনো বিধান/ভিত্তি আছে কি? এর কোনো সদুত্তর কেউ কি দিতে পারবে? আইনের সর্বত্র দেখা যাচ্ছে, কেবল প্রয়োজন সাপেক্ষে হাতকড়ার ব্যবহার অনুমোদিত। এটি ব্যবহার্য আসামির নিরাপত্তা বিধান এবং পলায়ন প্রতিরোধার্থে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। যে আসামি শারীরিকভাবে দৌড়ে পালাতে অক্ষম, তার ক্ষেত্রে হাতকড়া প্রযোজ্য নয়। যিনি বয়োবৃদ্ধ বা অসুস্থ, তার ক্ষেত্রেও নয়। শিশুর ক্ষেত্রে তো নয়ই। শিশু আইনের ৪৪(৩) ধারায় এ ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সের সবাই আইন অনুযায়ী শিশু। ২০১৬ সালে মিরপুরের এক মামলায় তিন শিশুকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। তাদের বয়স দেখানো হয়েছিল ১৪ ও ১৫ বছর। রিমান্ড আবেদন শুনানির সময়ও তাদের হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। সন্দেহাতীতভাবে বিষয়টি আইনবহির্ভূত ও নিন্দনীয়। সে সময় সংশ্লিষ্ট মহলে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু সমালোচনায় কি কিছু আসে যায়? কোনো পরিবর্তন কি হয়? এদেশে সে আশায় গুড়ে বালি।

হাসপাতালে ভর্তিকৃত অসুস্থ আসামির জন্য হাতকড়া প্রয়োজন কেন? পুলিশ সদস্য পাহারায় থাকার পরও এটিকে কেউ যৌক্তিক বলবেন না। একইভাবে সামাজিকভাবে সম্মানিত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা সম্ভ্রান্ত কোনো ব্যক্তিকেও হাতকড়া পরানো নিষ্প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে যাবেন, তা ভাবার নিশ্চয়ই কোনো কারণ নেই। সুতরাং, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও হাতকড়ার ব্যবহার পরিত্যাজ্য। ২০১৯ সালে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হাতকড়া পরানোর অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। হাইকোর্ট এতে রুল জারি করেন। রুলে তাকে গ্রেফতার ও হাতকড়া পরানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হাইকোর্টে তলবও করা হয়। হাইকোর্ট তির্যক মন্তব্য করে বলেন, হাতকড়া পরানোর ক্ষমতা ইউএনও-কে কে দিয়েছে?

সোজাসাপ্টা, সহজ-সরল জিনিসটাকে জটিল পর্যায়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না, যদি সংশ্লিষ্টরা সহনীয় আচরণ করেন। আইন ও ন্যায়পরায়ণতার অনুশীলন করেন। সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে প্রতিটি মানুষেরই সম্মান, মর্যাদা আছে। অভ্যাসগত, কুখ্যাত ও চিহ্নিত অপরাধী ব্যতীত অন্য মানুষও জীবনে কখনো কখনো মামলায় জড়িয়ে পড়েন। মামলার আসামি হন অনেক নিরীহ মানুষও। কেউ আসলেই অপরাধ করেন। কেউ ঘটনা ও পরিস্থিতির শিকার হন। অতএব, সবাইকে সমানভাবে সম ব্যবহারের আওতায় নেওয়া সমীচীন নয়। মানবিক ও ন্যায়ানুগ আচরণ সর্বদা প্রত্যাশিত ও প্রশংসিত।

আমাদের দেশের পূর্বোক্ত আইনগুলোয় হাতকড়া বিষয়ে বিধান রয়েছে বটে; কিন্তু সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নয়। আইনে অনেক অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থতা বিদ্যমান। এগুলো ব্যাখ্যা সাপেক্ষ বটে। তদুপরি বিষয়টি একচ্ছত্রভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে। হাতকড়ার শাস্তি বা প্রয়োজন নির্ধারণের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা তাদের হাতে। আইনে তাদের প্রতি এ ব্যাপারে বিশদ ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া নেই। এ জন্য অনেক কিছুই ব্যাখ্যার মাধ্যমে জায়েজ করে নেওয়া সহজ। আইনের দ্ব্যর্থতা দূরীকরণে উচ্চাদালতের হস্তক্ষেপ (জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজম) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে স্বীকৃত। বিভিন্ন সময়ে মাননীয় উচ্চাদালত অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা বা গাইডলাইন দিয়েছেন। হাতকড়া বিষয়ে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের ‘সিটিজেন ফর ডেমোক্রেসি বনাম স্টেট অব আসাম’ মামলায় প্রদত্ত নির্দেশনা মাইলফলক হিসাবে স্বীকৃত। ওই মামলায় যুগান্তকারী রায় দিয়ে হাতকড়াকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা ও নিয়মের ছকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের উচ্চাদালতের কাছেও এমন প্রত্যাশা থাকবে আমাদের।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •