হেমন্ত এসে গেছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টো ২০১৭ ১১:১০

হেমন্ত এসে গেছে

বাংলাদেশ ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ। ছয় ঋতুর এদেশে কার্তিক-অগ্রহায়ণ হেমন্তকাল। প্রতিটি ঋতুর বৈশিষ্ট্য আলাদা। কার্তিক-অগ্রহায়নে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। হেমন্তকে ঋতুকন্যা বলা হয়। খোলাচোখে এই ঋতু হৃদয় কেড়ে নেয়। ক্যামেরাবন্দি হেমন্তের কিছু দৃশ্যও নজর কাড়তে পারে আপনার। শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্ট থেকে ছবিগুলো তুলেছেন আলোকচিত্রী রবিউল ইসলাম পলাশ।

 

হেমন্তের বৈশিষ্ট্য

 

হেমন্ত এসে গেছে। এখনই দেখা যায় কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। মিষ্টি রোদের আদর। জ্যোৎস্না-প্লাবিত রাত। পাতাঝরা বৃক্ষের নৃত্য। এতো ঋতুকন্যা হেমন্তের বৈশিষ্ট্য। আর এসব বৈশিষ্ট্য নাড়া দেয় মানুষকে।

 

নতুন ধান

 

প্রকৃতির নিয়মে হেমন্ত নিয়ে আসে হিম হিম মৃদু কুয়াশার স্তর। চারিদিকে নতুন ধানের মিষ্টি গন্ধ। শীতের আগমনী বার্তা। কৃষিনির্ভর আমাদের জনজীবনে হেমন্ত আনন্দ-বেদনার কাব্যের মতো। শুরুতে অভাব-অনটন, শেষটায় সমৃদ্ধির সোনালি উদ্ভাস।

 

নবান্নের আয়োজন

 

আবহমানকাল থেকেই হেমন্ত মানেই কৃষকের মুখে অনাবিল হাসি। ধান কাটা-মাড়াই নিয়ে পরিতৃপ্তির ব্যস্ততা। চলতে থাকে নবান্নের পিঠা-পায়েসের আয়োজন। এসব আপামর খেটে খাওয়া মানুষের সংস্কৃতি।

 

কাব্যিক দৃষ্টি

 

কাব্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে হেমন্ত এক অপরূপা সুন্দরী। ঋতুকন্যা হৈমন্তীর প্রেমে হাবুডুবু খায় পুরো প্রকৃতি। কবির চোখে- ‘প্রথম ফসল গেছে ঘরে/হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে শুধু শিশিরের জল;/অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে/হিম হয়ে আসে/বাঁশপাতা-মরা ঘাস-আকাশের তারা!’

 

ঋতুকন্যা হেমন্ত

 

কবির কবিতায় হেমন্ত, প্রকৃতি আর আত্মমগ্ন একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। ফলন্ত ধানের ঋতু হেমন্তের গাথা বাংলা কবিতায় একরকম ব্যতিক্রম বললেই চলে। শুধু কি দৃশ্যের? গন্ধের, শস্যের, আলস্য-পূর্ণতা-বিষাদের করুণতামাখা লাবণ্যময়ী ঋতু হেমন্ত।

 

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •