২ ইউনিয়নে ইন্টারনেট ছোয়া ও সরকারী বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০৮ জুন ২০২১ ০৪:০৬

২ ইউনিয়নে ইন্টারনেট ছোয়া ও সরকারী বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত

থানচি (বান্দরবান)
স্বাধীনতা ৫০ বছর পেরিয়ে ৫১ বছরে পা রাখল বাংলাদেশ দেশের সকল জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ে মোবাইল নেট ওয়ার্কসহ ইন্টারনেট সংযোগ পৌছলেও পার্বত্য জেলা বান্দরবানে থানচি উপজেলা পর্যটন অঞ্চল খ্যাত তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের এ সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। উপজেলা দুই ইউনিয়নবাসী জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা, ট্রেড লাইসেন্স, স্কুল শিক্ষার্থীদের অনলাইনে লেখাপড়া, উপবৃত্তি বা জনসাধারণের বিকাশ খোলা ইত্যাদি সেবা না পাওয়ার দুর্গম হতে উপজেলা সদরে ঔসব কাজ করতে ভোগান্তি চরমে। তাছাড়া পর্যটক ভ্রমনকারীরা ও এই ভোগান্তি হচ্ছে ।
বর্তমান সরকার গ্রামকে শহরে পরিনত করার লক্ষে বান্দরবানে থানচি উপজেলা অভ্যন্তরীণ ও জেরা সদর হতে যোগাযোগ উন্নয়নের ছোয়ায় বদলে যাচ্ছে যা এক সময়ে দুর্গম জনপদ নামে পরিচিত থাকলে ও পার্বত্যমন্ত্রীর ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ থানচি এখন উন্নত সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান ইত্যাদি এগিয়ে থাকলে ও নেটওয়ার্ক সংযোগ না থাকায় অনলাইন ডিজিটালের ছোয়া থেকে এখনো দুরে আছে উপজেলা দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
উপজেলা সদরে বলিপাড়া ইউনিয়নে রবি, টেলিটক নেটওয়ার্ক থাকলে ও ১নং রেমাক্রী এবং ২নং তিন্দু ইউনিয়নে নেই কোন মোবাইল নেটওয়ার্ক। বসবাসকারি জনসাধারণ সরকারী সেবা গ্রহন করতে জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা, ট্রেড লাইসেন্স, স্কুল শিক্ষার্থীদের অনলাইনে লেখাপড়া, উপবৃত্তি বা জনসাধারণের বিকাশ খোলা ইত্যাদি বাস্তবায়নের উপজেলা সদরে এসে কাজ করতে কঠোর বিড়ম্বনা স্বীকার হচ্ছে ।
রেমাক্রী ইউপি মেম্বার হ্লাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, যে কোন দুর্যোগ মুহুর্তে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ মাধ্যম বলতে পায়ে হেটে বা ইঞ্চিন চালিত নৌকা করে আসতে একদিন লেগে যায়। পর্যটকরা আসলে বা কোন দুর্ঘটনা হলে সাথে সাথে যোগাযোগ প্রয়োজনের করার সম্ভব হচ্ছে না। তিন্দু ইউপি মেম্বার সূজন ত্রিপুরা বলেন আমাদের ইউনিয়নের প্রায় এক হাজারেও বেশী বয়স্ক,বিধবা,প্রতিবন্ধি, ভাতা ভোগী রয়েছে । তাদের বিকাশ/নগদ মাধ্যমে সরকারী অর্থ প্রদান করায় এই ভোগান্তি চরমে পৌছেছে । মহিলা মেম্বার মেপ্রু মারমা বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে উপবৃত্তি টাকা উক্তোলন করতে কেউ ৩শত টাকা কেউ ৯শত টাকা জন্য বিকাশ বা নগদ তেকে উক্তোলনের আসা যাওয়ার সব টাকা শেষ করে ছেলে মেয়েদের খাতা কলম কিনে নিতে পারেনা।
জানতে চাইলে তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমার জানান, আমি বেশির ভাগ সময় থানচি সদরে বসবাস করি আমার ইউনিয়নবাসীকে সেবা দেওয়ার জন্য। কেননা যেহেতু নের্টওয়াক সংযোগ নাই, তাই এলাকার জনসাধারণে চাহিদা থানচি সদরে এসে কাজ করতে হয়। যা ইউনিয়ন উদ্যোক্তাসহ সদরে কাজ করেন। থানচি আলিকদম সড়ক হয়ে যে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দেওয়ার কাজ চলছে তা বাস্তবায়ন হলে আসা করি নেটওয়ার্ক সংযোগ পাওয়া যেতে পারে।
জানতে চাইলে রেমাক্রী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা ( রণি) বলেন, তিন্দু ও রেমাক্রী এই দুই ইউনিয়নে নেটওয়ার্ক সংযোগ না থাকার কারনে ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের কষ্টকর হয়ে পড়ছে। যদি দুইটি ইউনিয়নে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আনা হয় তা হলে সরকারের ডিজিটাল ছোঁয়া পাবে এলাকার জনগণ । আমাদের দুই ইউনিয়নের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানে পার্বত্য বিসয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ইউনিয়নবাসী ।

এই সংবাদটি 1,234 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ