ঋণ আদায় বাড়াতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual5 Ad Code

সম্পাদকীয়: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়ে গেলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এতে ঋণ কমানোর চাপ বাড়বে। সেদিক থেকে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা একটি ভালো উদ্যোগ বলা যায়।

বাংলাদেশ ২০১৯ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেছে। এরপর থেকে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা শিথিল করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। এতে ঋণখেলাপিরা খেলাপি ঋণ আড়াল করে রাখার সুযোগ পান।

Manual4 Ad Code

এখন খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হলে অনাদায়ি ঋণ খেলাপি করার মেয়াদ ৩ মাস কমবে। অর্থাৎ বর্তমানে যেসব ঋণ কিস্তি পরিশোধের ৬ মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে খেলাপি হচ্ছে, সেগুলো ৩ মাস থেকে ৬ মাসের মধ্যেই খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হবে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে ব্যাংক খাতে সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। তবে এ সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হবে বলে আশা করা যায়। দেশের ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ।

Manual8 Ad Code

খেলাপি ঋণ না কমে বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া। ঋণখেলাপিদের বারবার ছাড় দেওয়া। ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে থাকা লোকজনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা বাড়ছে, যা কঠোরভাবে রোধ করা প্রয়োজন।

Manual6 Ad Code

বস্তুত খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা দরকার যে কোনো উপায়ে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়েও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে আইন আরও কঠোর করতে হবে, যেখানে ঋণখেলাপিদের চিহ্নিত করে তাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে বর্জন করার বিধান থাকবে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code