

সম্পাদকীয়: রাজধানীর পল্লবী এলাকায় কিশোর গ্যাংপ্রধান অনিক ও তার অনুসারীদের ভয়ংকর হয়ে ওঠার সংবাদ গভীর উদ্বেগজনক। জানা গেছে, অনিকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ে ৩০-৪০ জন সদস্য রয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে-প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে রড, চাকু ইত্যাদি পেটে ঢুকিয়ে দেওয়ার কারণে তাদের গ্যাংয়ের নামকরণ হয়েছে ‘ভইরা দে’। গত এক মাসে অনিকের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় এক স্কুল শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করাসহ অন্যান্য ঘটনায় ৩টি মামলা ও একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশ তাকে কেন গ্রেফতার করতে পারছে না, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ-গ্যাংপ্রধান অনিক প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বরং তার কাছে এসে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ অবশ্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছে। পুলিশের এ দাবি মেনে নিয়ে আমরা বলতে চাই-শুধু মুখের কথায় তো চিড়ে ভিজবে না; অনিক ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারসহ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে হবে, আপনারা সঠিক অবস্থানে রয়েছেন।
আশঙ্কার বিষয় হলো, কেবল পল্লবী নয়; সারা দেশেই কিশোর সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিষয়টি শুধু অভিভাবক শ্রেণি নয়; রাষ্ট্রের জন্যও দুর্ভাবনার। যারা কিশোর বয়সে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, তারা যে একদিন শীর্ষ সন্ত্রাসীর খাতায় নাম লেখাবে না-তার নিশ্চয়তা কী? সমাজদেহে ব্যাপকভাবে এ ক্ষত বিস্তারের আগেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। এক্ষেত্রে পরিবারের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করি আমরা। শিশুরা অসৎ সঙ্গ বর্জন করাসহ যে কোনো প্রকার লোভ-লালসা, প্রলোভন বা অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা যদি জীবনের শুরুতেই পরিবার থেকে পায়, তাহলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায়। আজকাল মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও আকাশ সংস্কৃতির থাবায় অনেক কিশোর-কিশোরীই বিপথগামী হচ্ছে। কিশোর গ্যাং তথা কিশোর অপরাধ বর্তমানে একটি সামাজিক সমস্যা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আজকাল কিশোর অপরাধীদের হাতে দেশের স্কুল-কলেজগামী কিশোরীরা শুধু লাঞ্ছিত, অপমানিত ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে না; একইসঙ্গে তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঘটছে, যা সমাজের জন্য অশনিসংকেত।