দেশের চিকিৎসায় মানুষের আস্থার সংকট আছে, মান বাড়াতে হবে - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, বিকাল ৪:৪৬, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

দেশের চিকিৎসায় মানুষের আস্থার সংকট আছে, মান বাড়াতে হবে

newsup
প্রকাশিত নভেম্বর ২৮, ২০২৩
দেশের চিকিৎসায় মানুষের আস্থার সংকট আছে, মান বাড়াতে হবে

অনলাইন ডেস্ক:

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে এর মান বাড়াতে বললেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বিএসএমএমইউ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসএমএমইউ’র সাবেক ভিসি বলেন, এখনকার সময়ে আমাদের স্বাস্থ্য সেবার কোয়ালিটি কেমন, আপনারা সবাই জানেন। এটা নিয়ে এ মুহূর্তে আমি কিছু বলবো না। আমাদের মনে রাখতে হবে কোয়ালিটি ছাড়া শুধু কোয়ানটিটি দিয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রকে এগিয়ে নিতে পারবো না। চিকিৎসা পেশাটাকে বলা হয় নোবেল প্রফেশন। কিন্তু কেন? কারণ হলো, হিপোক্রেটিস নামক একজন চিকিৎসক ছিলেন, তার বাবা ছিলেন ধর্মযাজক। তখন চিকিৎসা হতো ধর্মীয় উপাসনালয়ে, যারা যাজক তারাই চিকিৎসা করতেন।

তিনি আরও বলেন, ভারতবর্ষে সনাতন ধর্মের একটি গ্রন্থ আছে, যার নাম বেদ। এ ধর্মীয়গ্রন্থ বেদের সঙ্গে মিল রেখেই নামকরণ করা হয়েছিল আয়ুর্বেদের। তার মানে চিকিৎসাশাস্ত্রটাকে এতটাই ওপরে রাখা হয়েছিল যে, তাদের কাছে এটা ধর্মগ্রন্থের মতো ছিল। এটাকে সনাতন ধর্মে চারটি বেদের পর পঞ্চম বেদ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। এখানেও চিকিৎসা হতো উপাসনালয়ে, মন্দিরে। সেখানেও চিকিৎসা করতেন ধর্মগুরুরা। এজন্য এ কাজটিকে বলা হয় নোবেল প্রফেশন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্য সেবার মান নিশ্চিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মানোন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে দেশ অনেকটাই পিছিয়ে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট দূর করতে সরকারকে নানা পদক্ষেপের পরামর্শ দেন তারা।

বিএসএমএমইউ’র সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, বিএসএমএমইউতে সর্বপ্রথম ২০০০ সালে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল। এরপর একটি ব্যাচ চলার পর কোর্সটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারো ২০১০ সালে শুরু হয়। তখন এ কোর্সের পেছনে আমাদের চিন্তা ছিল যে, শুধুমাত্র বিএসএমএমইউতে এটা সীমাবদ্ধ থাকবে। যে কারণে কোর্সের কারিকুলাম সেভাবেই তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি এলো। সেখানে বলা হলো- বাংলাদেশে অন্যান্য মেডিকেল কলেজগুলোতে যত পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স আছে, সবগুলোই বিএসএমএমইউর সঙ্গে এফিলিয়েটেড (সংযুক্ত) থাকবে। কিন্তু মেডিকেল কলেজগুলোর সেই কোর্সগুলো ছিল নন রেসিডেন্সি। কিন্তু একটা ইউনিভার্সিটিতে রেসিডেন্সি এবং নন রেসিডেন্সি, দুই ধরনের কোর্সই থাকবে-এটা সে সময়ে আমাদের জন্য কঠিন ছিল। তাই পরবর্তীতে সবগুলোকেই মডিউল পরিবর্তন করে রেসিডেন্সিতে আনা হয়েছিল। এ কোর্সগুলো আনতে গিয়ে অনেক কিছু পরিবর্তন করা হয়।

ডা. রুহুল আমিন বলেন, সেই সময় আমাদের কোনো কারিকুলাম ছিল না। পরবর্তীতে কোর্স শুরু হয়ে যাওয়ার পর তাড়াহুড়া করে কারিকুলাম প্রস্তুত হয়। যে কারণে ওই কারিকুলামে স্বাভাবিকভাবেই অনেক ভুলভ্রান্তি ও সমস্যা আছে। এজন্য আমরা বলেছিলাম এর অধীনেই কোর্সগুলো চলতে থাকবে, তবে পর্যায়ক্রমে একটা সময়ে এটাকে আপগ্রেড করা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত আমরা এই কোর্স কারিকুলামটি আপগ্রেড করতে পারিনি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিএসএমএমইউয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম পুনর্মিলনী ২০২৩ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র সচিব এবং বিএসএমএমইউ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য জাকিয়া সুলতানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ’র ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।