পাসপোর্ট নবায়নে দুর্নীতি রুখতে হবে - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ২:৪৯, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

পাসপোর্ট নবায়নে দুর্নীতি রুখতে হবে

newsup
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৩, ২০২২
পাসপোর্ট নবায়নে দুর্নীতি রুখতে হবে

সম্পাদকীয়: দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সেবা খাতগুলোর অন্যতম হলো পাসপোর্ট খাত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) খানা জরিপ ২০২১ অনুযায়ী, গত বছর দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে (৭০.৫ শতাংশ) ছিল এ খাত।

এ খাতের দুর্নীতি রোধে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা আমরা শুনেছি। সেসব পদক্ষেপ কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে অথবা আদৌ ফলপ্রসূ হয়েছে কিনা, সেই বিতর্কে না গিয়েও আমরা বলতে পারি, এ খাতে ঘুস বাণিজ্য ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ সংক্রান্ত নানা তথ্য। জানা গেছে, সরকার ই-পাসপোর্ট চালু করার পর সুযোগ সন্ধানীরা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) নবায়নের নামে রমরমা ঘুস বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রে তথ্যগত জটিলতার কারণে যারা ই-পাসপোর্ট করাতে পারছেন না, তারাই হচ্ছেন এর শিকার। ই-পাসপোর্ট এড়িয়ে মোটা অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে তারা নবায়ন করিয়ে নিচ্ছেন পুরোনো পাসপোর্ট। ক্ষেত্রবিশেষে এই ঘুসের পরিমাণ হয়ে থাকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব অপরাধী ও রোহিঙ্গা জাল-জালিয়াতি করে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই ভুয়া জন্মনিবন্ধন দিয়ে এমআরপি করিয়েছিল, তারাও এখন ঘুসের বিনিময়ে এমআরপি নবায়ন করিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া জানা গেছে, বিদেশে আত্মগোপনে থাকা প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরাও ঢাকা থেকে এমআরপি নবায়ন করিয়ে নিচ্ছেন।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেশের বিশেষ কয়েকটি পাসপোর্ট অফিসে এ ঘুস বাণিজ্যের রমরমা অবস্থার প্রমাণ মিলেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুমিল্লা, কুষ্টিয়া ও মুন্সীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস। বস্তুত পাসপোর্ট অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে দালালরা এ তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করি আমরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।