ধান সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ১২:১৭, ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

ধান সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক

ADMIN, USA
প্রকাশিত আগস্ট ৩১, ২০২০
ধান সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক

মোঃ সোহাগ হোসেন, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) :
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আউশের বাম্পার ফলন দেখা কৃষকের মুখে হাসির ফোয়ারা। আর এ ধান কেটে ঘরে তুলতে নিরলস ব্যস্থ সময় সময় কাটাচ্ছে কৃষকরা। আশার থেকে বেশি ফলন পাওয়াতে আউশ চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। চলছে আউশ ধান কাটা ও মাড়াই করে ঘরে তোলার পালা। এবারের ফলন দেখে আউশ ধানের চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন অনেকে কৃষকই। কৃষকরা জানান,আউশের বাম্পার ফলন এবং স্থানীয় বাজারে আগের থেকে দ্বিগুন দামে বিক্রি করতে পারছেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আউশ ও আমন মৌসুমে ১০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে স্থানীয় জাতের আউশ ধান রোপন হয়েছে ১২০ হেক্টর জমিতে এবং উফশী আউশ ধান রোপণ হয়েছে ৭ হাজার ৫০ হেক্টরসহ ৭ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে।
আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার মেট্রেক টন ধান। উপজেলায় এবারে ইরি-২৭,৪৮,বাউ-৬৩,(আবদুল হাই) ও বিআর ৪২-৪৩ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এবারে চাষী পর্যায়ে বীজ উৎপাদনের জন্য সরকারি অর্থায়নে ২৪টি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। গত বারের আউশের ভালো ফলন দেখে এবারে আউশ চাষে কৃষকের আগ্রহ দেখা গেছে। ফলে গতবারের চেয়ে এবারে ২ হাজার ৯৫৯ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ ধান চাষ হয়েছে। এসব জাতের মধ্যে ব্রি ধান-৪৮ চাষে ব্যাপকভাবে সাড়া পেয়েছে কৃষকরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ আরো জানান,দীর্ঘদিন যাবত এ উপজেলার কৃষক আউশ মৌসুমে স্থানীয় জাতের বীজ আবাদ করতো।
এ জাতের আউশ ধানের ফলন খুবই কম হওয়ায় কৃষকরা আউশ ধান আবাদে দিনে দিনে আগ্রহ হারাছিল। উচ্চ ফলনশীর জাতের ধান চাষ করে চলিত মৌসুমে আউশের বম্পার ফলন হওয়ায় আউশ চাষে কৃষকরা আগামীতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হবে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। উপজেলার পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামরে কৃষক রাজ্জাক জানান, আমরা কম খরচে আউশ ধান আবাদ করে ভাল ফলন পেয়েছি, যা আশা করিনি। এ এলাকার জোয়ারের পানিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় তেমন ক্ষতি হয়নি। বছরে দুই ফসলী নিচু জমিতে তিন ফসলী চাষ করা যায়। তবে সবখানে আউশের চাষ করতে পারলে লাভবান বেশি হতো।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, এই উপজেলার কৃষকরা পূর্বে স্থানীয় আউশ ধানের আবাদ করত। এই বছর আমরা কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে উচ্চ ফলনশীল নতুন ব্রি.ধান-৪৮ আবাদ করার পরামর্শ দেই এবং বীজ, সার ও সেচ সহায়তা প্রদান করি। তাই আউশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি ভাবে ৩ হাজার ১০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়।
কৃষকরা আমাদের পরামর্শে উক্ত জাতের ধান চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। তাদের এ ফলন দেখে এবং তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় এলাকার অন্যান্য কৃষক আগাম বীজ পাওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে। দুই ফসলী জমিতে আরো বেশি ফলন উৎপাদন করা যায় সে ব্যাপারে চাষীদের ধারনা দেওয়া হচ্ছে কৃষি অফিস থেকে। এবারে স্থানীয় বাজারে আউশ ধানের দাম দ্বিগুন হওয়াতে আশা করছি এই বছরের তুলনায় আগামী বছর আরো বেশি জমিতে এ ধানের আবাদ হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।