মহাদেবপুরে করোনায় গরুহাটে ব্যাপক অনিয়ম : প্রতিরোধে প্রশাসনের অনিহা - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ১:৩১, ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

মহাদেবপুরে করোনায় গরুহাটে ব্যাপক অনিয়ম : প্রতিরোধে প্রশাসনের অনিহা

ADMIN, USA
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২১
মহাদেবপুরে করোনায় গরুহাটে ব্যাপক অনিয়ম : প্রতিরোধে প্রশাসনের অনিহা

 

আমিনুর রহমান খোকন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর মহাদেবপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা দেখালেও গরুছাগলের হাটে তাদের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই। ফলে এখানকার হাটগুলো এখন করোনাভাইরাস ছড়ানোর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। অবাধে হাটগুলো চালু থাকায় সরকারের ঘোষিত কঠোর লকডাউনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। প্রশাসন বলছেন, অর্থনীতিকে সচল রাখতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সময়ের জন্য হাটবাজার খুলে দেয়া হয়েছে। সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে হাটগুলো। শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলা সদরের গরু ও ছাগলের হাটে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য সময়ের মত খুব স্বাভাবিকভাবেই চলছে হাট। অসংখ্য ক্রেতা বিক্রেতায় পূর্ণ হাটের পুরো এলাকা। বেশীরভাগের মুখে মাস্ক নেই। গায়ে গা লাগিয়ে নির্বিঘেœ চলছে কেনাবেচা। হাটের কোথাও হাতধোয়ার জন্য পানি বা সাবান পাওয়া গেলনা। হাটুরেরা জানালেন, সকাল থেকে এখানে কেউ মাস্ক বিতরণের জন্যও আসেননি। স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য কেউ মাইকিংও করেননি। হাটের কোথাও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে কোন পোষ্টার, ব্যানার, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড কিছুই টাঙ্গানো হয়নি। এই দু:সময়েও হাটুরেরা হাটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ করলেন। প্রতিটি ছাগলের জন্য সর্বোচ্চ দেড়শ’ টাকা ও প্রতিটি গরুর জন্য সর্বোচ্চ চারশ’ টাকা খাজনা নেয়ার বিধান থাকলেও এখানে ছাগলের দাম অনুযায়ী দুশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা ও গরুর জন্য পাঁচশ’ পঞ্চাশ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদেরকে সে টাকার রশিদ দেয়া হচ্ছেনা। হাটের কোথাও টোল আদায়ের রেট টাঙ্গানো হয়নি। ফলে গ্রামের সাধারণ ক্রেতারা জানতেই পারছেন না তাদের কাছ থেকে বেশী টোল নেয়া হচ্ছে কিনা। উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবরামপুর গ্রামের আলেফ উদ্দিনের ছেলে আকাশ রহমান অভিযোগ করেন যে, তিনি খুব ছোট দুটি ছাগলের বাচ্চা কিনেছেন মাত্র তিন হাজার আটশ’ টাকায়। তার কাছ থেকে খাজনা নেয়া হয়েছে চারশ’ টাকা। তাকে যে রশিদ দেয়া হয়েছে তাতে ছাগলের দাম লেখা হলেও খাজনার পরিমাণের স্থানে কিছু লেখা হয়নি। এছাড়া রামচন্দ্রপুর গ্রামের মুকুল হোসেন, বাগডোব গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, পৈতা গ্রামের একাব্বর হোসেন, কৃষ্ণগোপালপুর গ্রামের সুমন, বিনোদপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম, দুলাল প্রমুখ জানান, তারা গরু কেনার পর প্রতিটির জন্য খাজনা নেয়া হয়েছে পাঁচশ’ পঞ্চাশ টাকা। কিন্তু রশিদে খাজনার পরিমাণ লেখা হয়নি। হাটেই সঙ্গীদের নিয়ে খাজনা আদায় করছিলেন ইজারাদার এমদাদুল হক। জানতে চাইলে তিনি বললেন, লকডাউনের মধ্যে গরুছাগলের হাট চলবে কিনা তা সাধারণের জানা ছিলনা। তাই ইউএনও তাকে মাইকিং করে হাটুরেদের ডেকে হাট লাগাতে বলেছেন। তবে হাটে স্বাধ্যবিধি মানা হচ্ছেনা কেন সে বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, করোনায় হাটে লোকজন কম আসায় নির্ধারিত হারে টোল আদায় করলে তাদের বিপুল অংকের টাকা লেকসান গুণতে হবে। উপজেলা হাটবাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলন জানান, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত হাটবাজারগুলো খোলা রাখতে বলা হয়েছে। তবে অবশ্যই প্রত্যেককে ছয়ফুট দূরে দূরে অবস্থান করতে হবে। বিষয়টি মানা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে দেয়া হয়েছে। মহাদেবপুর সদর হাটে এসব কিছুই মানা হচ্ছেনা জানালে তাঁর নির্দেশে তাৎক্ষণিক তদারকি কমিটির সদস্যরা হাট পরিদর্শন করেন।
কমিটির সদস্যরা বিকেল সোয়া তিনটায় হাটে গিয়ে অভিযোগগুলোর সত্যতা পেলেও ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কমিটির সভাপতি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী জানান, বিষয়টি তারা ইউএনওকে জানিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।