এগিয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

অর্থনীতি ডেস্কঃ 

Manual3 Ad Code

বেশ কয়েক বছরের কঠোর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। একসময় পশ্চিমা বিশ্বের মনশ্চক্ষুতে দারিদ্র্য ও ক্ষুধার চিত্রই ভেসে উঠত। কিন্তু এখন এর দৃঢ় মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি একনিষ্ট উদ্যোগের প্রতীক হিসেবে পুরোপুরিই স্পষ্ট। হেনরি কিসিঞ্জার কর্তৃক আখ্যায়িত ‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ সেই দেশ সম্পর্কেই এখন প্রাক্কলন করা হচ্ছে ভবিষ্যতের ‘এশীয় বাঘ’ রূপে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দাতাদের অবসাদ ও সেকেলে কর প্রশাসনের সুবাদে রাজস্ব ঘাটতির দরুন প্রচুর চাপ সত্ত্বেও বেশ কয়েক বছর যাবত্ গড়ে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে মাথাপিছু আয়ের দ্রুত পরিবর্ধনই আজ অর্থনৈতিক বিশ্বের কাছে বড় বিস্ময়। অর্থনীতির চাকা প্রায় আগের মতোই সচল রেখে করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলা করার নিগূঢ় রহস্য জানতে প্রতিবেশী দেশগুলোও উদগ্রীব।

২০ হাজার বছর আগেও পূর্ব এশিয়ায় এসেছিল করোনা 

Manual7 Ad Code

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সব দেশের অর্থনীতিই আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে কমেছে মাথাপিছু আয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। আসলে এখানে মূল কৃতিত্বটা অন্য জায়গায় নিহিত—বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতা কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সাহায্য করেছে। ক্ষুদ্র দেশ, অখচ লোকসংখ্যা ১৬ কোটি ৮০ লাখ। এটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারার নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে যথাসময়ের অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ, সুদূরদর্শী নগদ উদ্দীপনা, রপ্তানি আয় ও দৃঢ় রেমিট্যান্স অন্তঃপ্রবাহ। বিশাল জনসংখ্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশ মডেল আজ বিশ্বের কাছে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত, যেটি তাকে সাহায্য করেছে এশীয় অঞ্চলে সবাইকে ছাপিয়ে যাওয়া নায়ক বানাতে। অতিমারির বিস্তার রোধে লকডাউনের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি যখন সংকুচিত হচ্ছিল, সে জায়গায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে—বাংলাদেশের উন্নয়নের সুফল সবাই সমানভাবে পাচ্ছে না। অবশ্য এক্ষেত্রে আমরা একা নই। একমাত্র আদিম যুগই ব্যতিক্রম, এছাড়া মানুষে মানুষে পার্থক্য সব যুগেই ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। স্তরায়ন, বৈষম্য বা অসমতা, যাই বলি না কেন, সারা বিশ্বেই বিদ্যমান। কিন্তু নতুন তথ্য হচ্ছে, অসমতার মাত্রা সম্পর্কে সবাই যা জানে, প্রকৃত মাত্রা তার চেয়ে অনেক বেশি। এককথায় যা ভয়াবহ। নতুন এক বিশ্লেষণে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। অসমতার সরকারি হিসাবে শুধু সেসব অর্থই বিবেচনায় আনা হয়, যার প্রতি কর আদায়কারীদের নজর পড়ে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার পর এসব তথ্য জানিয়েছেন পৃথিবীর তিন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যালেট স্টাডসেটার, নিলস জোহানসেন ও গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান। তাদের বিশাল কর্মযজ্ঞে পানামা ও সুইজারল্যান্ডের কাছে থাকা অত্যন্ত গোপনীয় দলিলের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। যেগুলো জনার পর বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই আর এর মাধ্যমে বৈশ্বিকভাবে কর ফাঁকির বিস্ময়কর সব তথ্য উঠে এসেছে, যার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সারা বিশ্বের বাঘা বাঘা সম্পদশালীরা।

করোনার অর্থনৈতিক ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ: এডিবি

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশের নামের পাশে এখন প্রায়ই ‘উন্নয়নের জাদু’ শব্দ দুটি জুড়ে দেওয়া হয়। সংগ্রাম ও সহনশীলতার কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ কেবলই ঊর্ধ্বমুখী। এর পাশাপাশি তেজোদ্দীপ্ত ওষুধ শিল্প ও অন্যান্য রকমারি ম্যানুফ্যাকচারিং খাতগুলো রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধির মডেলকে আলিঙ্গন করতে সাহায্য করেছে। সত্যি বলতে গেলে, এ দেশ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। উন্নয়নের যাত্রায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ দীর্ঘ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেই অনেক কিছুই আজ সম্ভব হচ্ছে। এক দশকের ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি চূড়ান্ত দারিদ্র্যের হারকে নামিয়ে আনতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এরই সঙ্গে বেড়েছে লোকজনের গড় আয়ু ও বয়স্ক শিক্ষার হার; আর কমেছে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code