কাদির খান: পাকিস্তানে নায়ক, পশ্চিমাদের কাছে ভয়ঙ্কর মানুষ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago
Dr Abdul Qadeer Khan, Pakistan, Nuclear Scientist

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রধান কারিগর আবদুল কাদির খান মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি পাকিস্তানিদের কাছে আমৃত্যু নায়ক বনে গেছেন অনেক আগেই। তবে বিতর্কিত এই ব্যক্তি পশ্চিমাদের কাছে একজন ভয়ঙ্কর মানুষ। এমনটাই বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক পরিচালক জর্জ টেনেট।

 

তিনি বলেছেন, আবদুল কাদির খান অন্তত ওসামা বিন লাদেনের মতো বিপজ্জনক। তবে পাকিস্তানিদের কাছে পরম শ্রদ্ধার এই ব্যক্তির ঝুলিতে দেশটির সব বেসামরিক খেতাব রয়েছে। গতকাল রবিবার (১০ অক্টোবর) তিনি ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

Manual1 Ad Code

 

No description available.

Manual3 Ad Code

 

নিজ দেশের মানুষের কাছ থেকে সবসময় বীরের সম্মান পেয়েছেন আবদুল কাদির খান। তবুও সমালোচনা ও বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি। পশ্চিমাদের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশের কাছে পারমাণবিক প্রযুক্তি পাচার করতেন এই বিজ্ঞানী। বিশেষ করে ইরান, উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো জনাব খানের কাছ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি সহায়তা পেয়েছিল বলে অভিযোগ।

১৯৩৬ সালের ১ এপ্রিল ভারতের ভোপালে জন্ম কাদির খানের। পরে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে পাড়ি জমান। বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন তিনি। ১৯৬০ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে পাড়ি জমান ইউরোপে। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়াশোনা শেষে অ্যাংলো-ডাচ-জার্মান পারমাণবিক প্রকৌশল কনসোর্টিয়াম ইউরেনকোতে কাজ করেন। মূলত সেখান থেকেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়ার খুটিনাটি বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন পাকিস্তানি বিজ্ঞানী। সেখান থেকে একটি নকশাও চুরি করেন।

Manual6 Ad Code

 

No description available.

 

কীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে অস্ত্র বানানো যায়, তা গোপনে শিখে ফেলেন এবং দ্রুত নিজ দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৬ সালে আবদুল কাদির খানকে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করেন। ততদিনে প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। মূলত এ কারণেই পাকিস্তান পারমাণবিক বোমা তৈরির কাজে যুক্ত হয় বলে পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন এই বিজ্ঞানী।

বলেছেন, তিনি ও তার দল ১৯৭৮ সালে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হন এবং ১৯৮৪ সালে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেন। আর দীর্ঘ গবেষণা শেষে ১৯৯৮ সালে চূড়ান্ত সফলতা আসে।

 

 

No description available.

 

আশির দশকের শেষ দিকে ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি হস্তান্তর করার অভিযোগ ওঠে আবদুল কাদির খানের বিরুদ্ধে। সে সময় (২০০৪ সাল) এর পক্ষে প্রমাণ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ সরকারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) অভিযোগ জানায়।

Manual2 Ad Code

এর পরই ইসলামাবাদের বাড়িতে গৃহবন্দীর সাজা দেওয়া হয় আবদুল কাদির খানকে। তিনিও এই পাচারের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। ২০০৮ সালে গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি পাকিস্তানকে দুই বার রক্ষা করেছি। প্রথমবার, পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করার মাধ্যমে। আর দ্বিতীয়বার, পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি পাচারের দায় পুরোপুরি নিজের কাঁধে নিয়ে।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code