বেশি বিদ্যা ভয়ংকরী  - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, বিকাল ৪:২০, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

বেশি বিদ্যা ভয়ংকরী 

banglanewsus.com
প্রকাশিত আগস্ট ১০, ২০২২
বেশি বিদ্যা ভয়ংকরী 
মিনার রশিদ :: এদেশে প্রচলিত বাগধারাগুলির অনেকগুলোকেই মনে হচ্ছে নতুন করে লিখতে হবে। যেমন আগে আমরা বলতাম, অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। এখন থেকে বলতে হবে, বেশি বিদ্যা ভয়ংকরী! সেদিন যে ভঙ্গীতে বা যে স্পিডে ‘যৌবন আমার লাল টমেটো’, ‘বুকটা ফাইট্যা যায়’ সহ অনেক কালজয়ী গানের শিল্পী মমতাজ সংসদে একের পর এক হাদীস গ্রন্থের নাম বলে যাচ্ছিলেন তা শুনে মালুম হলো আমাদের মৌলবী, মওলানা, মুফতিগণ বুখারী, মুসলিম, তিরমিযীর কিছুই পড়েন নাই! যা কিছু পড়েছেন তা সব এই মমতাজ বেগমই পড়েছেন!
কাজেই অল্প বিদ্যা নয়- বলুন, বেশি বিদ্যা ভয়ংকরী! শুধু তাই নয়, সময়ে পাঁচ ক্লাস পাশ না দিলেও অসময়ে তিনি পিএইচডি আহরণ করে ফেলেছেন! কাজেই দাওরায়ে হাদিস বা ফাজিল-কামিল তো নস্যি! উনার কনফিডেন্স যে লেবেলে পৌঁছে গেছে তাতে মহাকাশ গবেষণা থেকে রাশিয়া সরে গেলে নাসার বিজ্ঞানীরা কী করবেন সেটাও বাতলে দিতে পারবেন!কিছুদিন আগে উনি হাই চেয়ারে বসে যে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন তা দুই পাশে বসে আমাদের চৌকশ অফিসারবৃন্দ অত্যন্ত তৃপ্তি ও মনোযোগের সাথে গিলছিলেন ।
আওয়ামী লীগের এই কনফিডেন্স বটম থেকে সেই টপ পর্যন্ত! গত চৌদ্দ বছর এরকম চৌদ্দ শ কথা বললেও একটার জন্যেও লজ্জিত হন নাই! এরকম ছোট খাট নেত্রীদের তো কথাই নেই, আওয়ামীলীগ সব সময় তাদের সর্বোচ্চ নেত্রীর শিক্ষা বা জ্ঞান-গরিমা নিয়ে গর্বে পা ফেলতে চায় না। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান উনাকে এরিস্টটল, সক্রেটিস হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন এবং সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় জানিয়েছিলেন, আমার নেত্রী ভুল করতে পারে না!
জিল্লুর রহমানের সেই এরিস্টটল, সক্রেটিস তামাম বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন! তার একজন সমালোচককে সমালোচনা করতে গিয়ে জানিয়েছেন আমাদের নাকি অকটেন এবং পেট্রোল আমদানি করার প্রয়োজন নেই। শুধু ডিজেল আমদানি করতে হয়। উনি জানিয়েছেন যে অকটেন এবং পেট্রোল আমাদের যে গ্যাস আছে সেখান থেকে বাই-প্রডাক্ট হিসাবে পাওয়া যায়! জিল্লুর রহমান যেহেতু ভুল বলতে পারেন না কাজেই সারা বিশ্ব যা জানে তা সব ভুল, ভুল আর ভুল!
অকটেন, পেট্রোল বা গ্যাসোলিন একই জিনিসের ভিন্ন নাম- এটি ভুল! পেট্রোল বা অকটেন পাওয়া যায় ক্রুড অয়েল পরিশোধনের বা রিফাইনিং এর মাধ্যমে- এটি একটি গাঁজাখুরি কথা। ক্রুড ওয়েল থেকে যে দশটি প্রডাক্ট পাওয়া যায় তাহলো- ১. পেট্রোল ২. ডিজেল ৩. জেট ফুয়েল ৪. কেরোসিন ৫. প্যারাফিন ৬. হেভি ফুয়েল ওয়েল ৭. এলপিজি (লিকুফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ৮. পেট্রোকেমিকেল ফিডস্টক ৯. সলভেন্ট ১০ . লুব্রিকেন্টস! এসব রাজাকারদের বানানো বেহুদা কথা।
আবার আমরা যে গ্যাস পাই (মিথেন, ইথেন) তা প্রকৃতি বা নেচার থেকে পাই বলে এটা ন্যাচারাল গ্যাস এবং কমপ্রেসড অবস্থায় রাখা হয় বলে সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) বলে। এগুলি চেতনাবিরোধী ফালতু কথা! কাজেই আমাদের প্রাপ্ত গ্যাস থেকে বাই- প্রডাক্ট হিসাবে পেট্রোল বা অকটেন তৈরি হয়- এটাই হলো খাঁটি কথা!
আমরা আসলেই বিপদে পড়ে গেছি! যা বলার তা তো জিল্লুর রহমান বলে গেছেন, গোলাম সারওয়ার হাওয়া দিয়ে গেছেন এবং বাকিটুকু এখন মোজা বাবুরা করছেন! বাদবাকিরা সবকিছু শুনে বিজ্ঞের মত মাথা ঝাঁকিয়ে বলেন, বিকল্প কী?
একটি পুরনো ইরানী প্রবাদ এদেরকে কত সুন্দরভাবেই না তুলে ধরেছে, Those who are ignorant of their own ignorance, will forever drawn in their exponential stupidity, and in the process harm themselves and those around them”. অর্থাৎ “যারা নিজেদের অজ্ঞতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে তারা চিরকালের তরে ক্রম বর্ধমান মূর্খতায় জড়িয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় এরা নিজেদের এবং চারপাশের লোকদের ক্ষতি করে।” জানি না, এই ক্ষতির শেষ কোথায়?
লেখক: মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, কলামিস্ট-বুদ্ধিজীবী
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।