BengaliEnglishFrenchSpanish
মুন্ডা জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবন - BANGLANEWSUS.COM
  • ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ


 

মুন্ডা জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবন

banglanewsus.com
প্রকাশিত অক্টোবর ৫, ২০২২
মুন্ডা জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবন

ডেস্ক নিউজ: আদিবাসী উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ব্যাতি রেখে একটি দেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীকে কল্পনা করা যায় না বা পূর্ণতা পায় না। এর অর্থ এই যে- বিশ্বের প্রতিটি দেশের জন গোষ্ঠীতে আদিবাসী, উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
বাংলাদেশে মুন্ডাদের ৭টি গোষ্ঠীর উল্লেখ পাওয়া যায়। সেগুলো হলো-কম্পাট মুন্ডা, খাঙ্গার মুন্ডা, খাড়িয়া মুন্ডা, পাথর মুন্ডা, দেরগে মুন্ডা, সাঙ্কা মুন্ডা এবং মাঙ্কী মুন্ডা।
ভারতবর্ষে প্রধানত ১৩টি মুন্ডা গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ রয়েছে। সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস) দেওয়া তথ্যমতে- বর্তমানে শ্যামনগরে মুন্ডাদের ৪২০টি পরিবারের জনসংখ্যা ২ হাজার ৭৪০। এসব পরিবারের ৯৫ শতাংশ ভূমিহীন। অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও অভাবকে পুঁজি করে ভূমিদস্যুরা তাদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে চার শতাধিক পরিবারের মধ্যে তিনজন গ্রাম পুলিশ এবং ১৩ জন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। অন্য সদস্যরা দিন মজুরের কাজ করেন।
বাংলাদেশের খুলনা জেলার কয়রা ও ডুমুরিয়া উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা ও তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মুন্ডাদের বসতি বিন্যাসের এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর ম্যান গ্রোভ সুন্দরবন এলাকায়ও এদের আদি বসতির চিহ্ন মিলে।
ভাষা: শাদ্রী ভাষা ভুলতে বসেছে বর্তমান প্রজন্ম। প্রাথমিক পাঠ শেষে শিশুরা ঝরে যাচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে মুন্ডাদের পিছিয়ে পড়ার কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো- অপ্রতুল স্কুল ব্যবস্থা এবং তাদের নিজস্ব পারিবারিক ও ভাষাগত চর্চায় নিরুৎসাহ করা। তবে বর্তমানে মুন্ডারা বিভিন্ন এনজিও এবং সমাজ পতিদের মাধ্যমে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় মুন্ডারা তাদের দীর্ঘদিনের লালিত সংস্কৃতিচর্চাও করতে পারছে না। অস্ট্রো- এশীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং ভারতীয় আর্যভাষা থেকেও প্রাচীনতর। অসংখ্য মুন্ডা শব্দ বাংলা ভাষায়, বিশেষত আঞ্চলিক ভাষায় বিদ্যমান। বাংলা বাগভঙ্গির ওপর মুন্ডা ভাষার প্রভাব আছে। মধ্য প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় এক কোটি লোক মুন্ডা ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ হাজার। তিন-চার হাজার বছর পূর্বে মুন্ডারা পিজিন ভাষা হিসেবে পেশা ও জীবিকার প্রয়োজনে প্রথম মুন্ডা ভাষা ব্যবহার করে।
পেশা: বর্তমানে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কালিঞ্চি, ভেটখালী, তারানিপুর, সাপখালী, ধুমঘাট, মুন্সিগঞ্জ, কাশিপুর, কচুখালী এলাকায় নদীর তীরে সরকারি খাস জমিতে বাস করে আদিবাসী মুন্ডারা। আগে তাদের প্রধান জীবিকা ছিল সুন্দরবনের গাছ কাটা, নদীতে মাছ শিকার ও কৃষিকাজ। বর্তমানে তাদের অনেকেই আদি পেশা ছেড়ে ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।