মানবপাচার চক্রে জড়িত কিছু অস্বাধু পুলিশ - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, বিকাল ৩:৩৪, ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

মানবপাচার চক্রে জড়িত কিছু অস্বাধু পুলিশ

newsup
প্রকাশিত নভেম্বর ১, ২০২২
মানবপাচার চক্রে জড়িত কিছু অস্বাধু পুলিশ

বিশেষ প্রতিবেদন: সামিউল হোসেন সামি (২৬), সদ্য লেখাপড়া শেষ করা এক তরুণ। সাড়ে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে দালালের মাধ্যমে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশে উড়াল দেন তিনি। ভুয়া ভিসা নিয়ে কোনও ভোগান্তি ছাড়াই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পার হয়ে যান তিনি। কিন্তু তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে জাল ভিসায় ভ্রমণ বিষয়টি নজর আসলে আটকা পড়েন সামি। ফিরতি ফ্লাইটে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। প্রশ্ন হলো, তথ্য জালিয়াতি করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাড় হলো কীভাবে? বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধরা পড়েছে, এতে শাহজালালের ইমিগ্রেশন পুলিশের সদস্য জড়িত ছিল। পরে জড়িত পুলিশ সদস্যকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে।
গত ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি ইতালির উদ্দেশে টার্কিশ এয়ারলাইন্স টিকে-৭১৩ ফ্লাইটে দেশে ছাড়েন সামিউল হোসেন সামি। জানা গেছে, সেদিন ঢাকা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ফ্লাইট ছেড়ে গেলেও ইস্তাম্বুল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ফ্লাইট না ছাড়ায় পরিবর্তন হয়ে যায় ইমিগ্রেশন অফিসারদের শিফট। এতেই ভুয়া ভিসা নিয়ে ইতালি যেতে গিয়ে ধরা পড়েন সামি। পরে তাকে দেশে ফেরত পাঠায় কর্তৃপক্ষ।
লেখাপড়া শেষ করে বাবার ব্যবসা দেখাশুনা করতেন সামি। আর তার বড় ভাই আমেরিকা প্রবাসী। পরিবারের সম্মতিতে মাদারীপুরের স্থানীয় এক দালালের সঙ্গে ইতালি যাওয়ার জন্য সাড়ে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। এরমধ্যে ৪ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। আর বাকি টাকা ভিসা হওয়ার পরে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে একইভাবে ইউরোপে যাওয়ার সময় জাল ভিসার জন্য দেশে ফেরত পাঠানো হয় আরেক তরুণী রোদেলাকে। রোদেলা (ছদ্মনাম) পর্তুগাল যাওয়ার জন্য ২৮ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। বনানী এলাকার বিদেশে লোক পাঠানো এজেন্সির সঙ্গে। কিন্তু তারা রোদেলাকে জাল ভিসায় পর্তুগাল পাঠান।

ভুক্তভোগী বলেন, আমি ঢাকা ইমিগ্রেশন থেকে কোনও বাধা ছাড়াই পার হয়। পরে সেখানে যাত্রা বিরতির পরে ইমিগ্রেশন চেকে গেলে আমাকে জানানো হয় ভিসা জাল। একথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তারা আমাকে দেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে কয়েকদিন পরে ওই অফিসে গিয়ে দেখি বন্ধ। অফিসের নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও কোনও সাড়া পাইনি। এখন বিষয়টি পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) জানিয়েছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।