ভূমিকম্পের ঝুঁকি রোধে আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই – BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, বিকাল ৫:০০, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ



 

ভূমিকম্পের ঝুঁকি রোধে আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই

banglanewsus.com
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৬, ২০২৩
ভূমিকম্পের ঝুঁকি রোধে আগাম প্রস্তুতির বিকল্প নেই

Manual8 Ad Code

মাহফুজ আদনান : গত (২ ডিসেম্বর ২০২৩) শনিবার সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান। ঢাকা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬ । উৎপত্তিস্থল লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ। দেশ যে ভূমিকম্পের অতিঝুঁকিতে রয়েছে এ যেন তা-ই স্মরণ করিয়ে দিল। ছোটখাটো ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের আভাস দেয়। চলতি বছরে দেশব্যাপী এ পর্যন্ত ১২টি হালকা ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানার তথ্য রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট এতটাই ঝুঁকিতে রয়েছে যে, রিখটার স্কেলে ৭ কিংবা এর বেশি মাত্রায় ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারে এ তিন নগরীতে। ধসে পড়তে পারে বহু ভবন। এজন্য বড় দুর্যোগের আগেভাগেই তারা প্রস্তুতির তাগিদ দিয়েছেন।

Manual4 Ad Code

একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনবহুল রাজধানী ঢাকা। এখানে লক্ষাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়তে পারে। পুরান ঢাকার উদাহরণ টেনেই বলা যায়, মারাত্মক ভূমিকম্প হলে এসব ঘিঞ্জি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর কোনো সুযোগই থাকবে না। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম নগরীও পড়বে বড় ঝুঁকিতে। গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় ভূমিকম্প হওয়ার মতো দুটি উৎস রয়েছে।
এর একটি হচ্ছে ডাউকি ফল্ট, অন্যটি সাবডাকশন জোন।

Manual4 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

সাবডাকশন জোনটি উত্তরে সিলেট থেকে দক্ষিণে কক্সবাজার-টেকনাফ পর্যন্ত। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো এ সাবডাকশন জোন। এ জোনে ৮০০ থেকে হাজার বছরে কোনো বড় ভূমিকম্প হয়নি। এর দক্ষিণে টেকনাফ থেকে মিয়ানমার অংশে ১৭৬২ সালে ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। সেই ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন ডুবন্ত দ্বীপ তিন মিটার ওপরে উঠে আসে। তাছাড়া সীতাকুণ্ড পাহাড়ে কাদাবালুর উদ্গিরণ হয়।

Manual6 Ad Code

এ অবস্থায়, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি আগেই নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো এখনই ভূমিকম্প সহনীয় করতে হবে। ভূমিকম্প সহনীয় স্থাপনা তৈরি করতে হবে। বিল্ডিং কোড আপডেট করতে হবে এবং তা মেনে ভবন তৈরিতে মানুষকে বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গেও মানুষের পরিচয় থাকতে হবে।
তাদের আরও বেশি বেশি দুর্যোগ মোকাবিলার ট্রেনিং দিতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়াতে হবে। ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার আগাম সতর্কতামূলক সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

লেখক : মাহফুজ আদনান, সম্পাদক ও প্রকাশক, বাংলানিউজইউএসডটকম ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code