প্রাণ-প্রাচুর্যের স্বর্গ গালাপাগোস - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ১:১৫, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

প্রাণ-প্রাচুর্যের স্বর্গ গালাপাগোস

newsup
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২৪
প্রাণ-প্রাচুর্যের স্বর্গ গালাপাগোস

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৮৩৫ সালে চার্লস ডারউইনের আগমনের পর থেকে
গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে। কারণ, এখানকার
বৈচিত্র্যময় বিরল প্রজাতির প্রাণীগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে
চার্লস ডারউইন প্রথমবারের মতো বিবর্তনের পক্ষে ধারণা পেতে শুরু
করেন। পরে এখান থেকে সংগৃহীত বেশকিছু আলামতের ওপর ভিত্তি করে
তিনি প্রাকৃতিক বিবর্তন তত্ত্ব সামনে নিয়ে আসেন। এই দ্বীপপুঞ্জের
জলে-স্থলে ছড়িয়ে রয়েছে বহু বিরল প্রজাতির প্রাণী। সুদীর্ঘকাল বিচ্ছিন্ন
থাকার কারণে এখানকার প্রাণীগুলো পুরো পৃথিবী থেকে আলাদা।
গালাপাগোসের দৈত্যাকার কচ্ছপ এখানকার প্রাণী-বৈচিত্র্যের মধ্যে
অন্যতম আকর্ষণ। এ কচ্ছপ থেকেই ‘গালাপাগোস’ নামটি এসেছে। তারা
প্রায় পাঁচ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। সে কারণে এদের বিশ্বের সবচেয়ে
বড় কচ্ছপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওজন ২২৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

অসাধারণ সুন্দর এই দ্বীপপুঞ্জে প্রতি বছর পর্যটকের ভিড় জমে। তবে
প্রতি বছর মাত্র ৭৯ হাজার পর্যটক এই গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণের
সুযোগ পান। গালাপাগোসে ঘুরে বেড়ানোর সময় যে কোনো প্রাণী থেকে
কমপক্ষে সাড়ে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। অনন্য সাধারণ
জীববৈচিত্র্যের কারণে ১৯৭৮ সালে গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জকে বিশ্ব
ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইউনেস্কো কর্তৃক মনোনীত
এটি সর্বপ্রথম বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
এই দ্বীপপুঞ্জ টার্টল দ্বীপপুঞ্জ বা কোলন আর্কিপেলাগো নামেও
পরিচিত। এ ছাড়া এই অঞ্চলটিকে আগে এনচ্যান্ট দ্বীপপুঞ্জ বলা হতো;
কারণ এর মাটিতে অবতরণ করা কঠিন ছিল। অসংখ্য স্রোত নৌ চলাচলকে
কঠিন করে তুলেছিল। তাই আগে উপকূলে যেতে সক্ষম হয়নি কেউ। এ
জায়গাগুলোর প্রথম আনুমানিক মানচিত্রটি জলদস্যু দ্বারা তৈরি হয়েছিল; এ

কারণেই দ্বীপগুলোর নাম জলদস্যুদের বা তাদের সাহায্যকারী লোকদের
সম্মানে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের অন্য নামকরণ করা হয়েছিল; কিন্তু
কিছু বাসিন্দা পুরোনো নামের ব্যবহার করা চালিয়ে যান। ১৫৩৫ সালের মার্চ
মাসে দ্বীপগুলো আবিষ্কারের পর চার্লস ডারউইন অন্বেষণ শুরু না করার
আগে কেউই এ অঞ্চলের বন্যজীবনের প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন না। এর
আগে দ্বীপপুঞ্জগুলো জলদস্যুদের আশ্রয়স্থল ছিল। যদিও তা স্পেনের
উপনিবেশ হিসেবে বিবেচিত হতো। ১৮৩২ সালে গালাপাগোস আনুষ্ঠানিকভাবে
ইকুয়েডরের অংশ হয়ে যায় এবং পুয়ের্তো বাকেরিজো মোরেনো প্রদেশের
রাজধানী হয়।

এই দ্বীপপুঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে ভূমিকম্প আর আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
থেকে। গালাপাগোসের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হলো অসাধারণ প্রাকৃতিক
সৌন্দর্য আর চমকপ্রদ বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্ত প্রাণী। শত শত ছোট-
বড় দ্বীপ এবং সমুদ্রের ওপরে জেগে থাকা বড় বড় পাথরের সমন্বয়ে
গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ গঠিত হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে গালাপাগোস
দ্বীপপুঞ্জ এমন এক জায়গায় অবস্থিত, যেখানে দুটি শক্তিশালী সামুদ্রিক
ঢেউ আছড়ে পড়ে। এদের একটি হলো অ্যান্টার্কটিকা থেকে আসা হামবোল্ড
কারেন্ট, আরেকটি হলো মধ্য আমেরিকা থেকে আসা পানামা কারেন্ট। এ দুই
ধরনের সামুদ্রিক স্রোত গালাপাগোসের জীববৈচিত্র্যের ওপর অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।