জাবি কি অপকর্মের অভয়ারণ্য? - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ১:০৪, ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

জাবি কি অপকর্মের অভয়ারণ্য?

editorbd
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪
জাবি কি অপকর্মের অভয়ারণ্য?

সম্পাদকীয়: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায়
দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনের ডাক
দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জনসমাদৃত
ক্যাম্পাসে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারে, এটি সত্যিই বিস্ময়কর।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা
অতীতেও ঘটেছে; কিন্তু অপরাধীদের শাস্তি হয়নি। শুধু এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নয়,
দেশের আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে নারীর ওপর পাশবিক অত্যাচারের ঘটনা।
দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় কতিপয় শিক্ষার্থীর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের
কতটা অধঃপতন হয়েছে, কতটা চারিত্রিকস্খলন ঘটেছে, এসব ঘটনায় তার আভাস
মেলে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের
ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ
ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসাবে সাবেক ও বর্তমান যে ছয় শিক্ষার্থীর নাম এসেছে, তাদের
তিনজনই ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। এটা সত্যিই লজ্জাজনক।

ইতঃপূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, নারী
নির্যাতনসহ নানা অপরাধে আলোচনায় এসেছে জাবি ছাত্রলীগ। কিন্তু অভিযুক্তদের
বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ কারণেই বেপরোয়া হয়ে
উঠেছে সংগঠনটির কতিপয় নেতাকর্মী। ফলে সর্বশেষ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেফতার
হলেও তাদের আদৌ শাস্তি হবে কিনা, সে বিষয়ে সন্দিহান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-
শিক্ষার্থীরা। দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ২০২০ সালে নারী ও শিশু
নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ডের
বিধান করা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের অপরাধে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই।
এর কারণ হতে পারে মামলার দুর্বল চার্জশিট, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং
বিচারহীনতার সংস্কৃতি। নির্যাতনের শিকার নারীরা অসহায় ও দরিদ্র বিধায় অপরাধীরা
ক্ষমতাবান হলে মামলার গতি মুখ থুবড়ে পড়ে। আমরা মনে করি, আইন শুধু কঠোর
হওয়াই যথেষ্ট নয়, এর প্রয়োগ যাতে নিশ্চিত হয় সে ব্যবস্থাও নেওয়া দরকার। এ
ব্যাপারে রাষ্ট্রকেই উদ্যোগী হতে হবে। দ্বিতীয়ত, যে প্রতিষ্ঠানে অপরাধ সংঘটিত
হয়, তার প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে হবে অপরাধীকে চিহ্নিত করে দ্রুত

আইনের আওতায় নিয়ে আসতে। এছাড়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা
নেওয়াও জরুরি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।