রাজউককে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ১২:৫০, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

রাজউককে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে

editorbd
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪
রাজউককে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে

সম্পাদকীয়: বাসযোগ্যতার সব সূচকে প্রায় তলানির দিকে থাকা ঢাকা মহানগরীর আবাসনব্যবস্থাকে নিরাপদ করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যখন সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকার প্রয়োজন ছিল, তখন দেখা যাচ্ছে উলটো পথে হাঁটছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার খবরে প্রকাশ-রাজউকের আওতাধীন এলাকায় গড়ে ওঠা এক থেকে বহুতলবিশিষ্ট প্রায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ভবনের মধ্যে ৩ লাখ ১৭ হাজার অর্থাৎ ৬১দশমিক ৩২ শতাংশ ভবনেরই কোনো অনুমোদন নেই। জানা যায়, প্রতিবছর নির্মিত প্রায় ২০হাজার নতুন ভবনের মধ্যে অনুমোদিত থাকে ৯ হাজারের মতো। বাকি ১১হাজারের বেশি ভবন অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠে। পাশাপাশি ১৬ লাখের বেশি সেমিপাকা অবৈধ স্থাপনা তো রয়েছেই। রাজউকের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, নির্ধারিত জরিমানার মাধ্যমে এসব ভবনের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নির্মাণাধীন অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযানও শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, রাজধানীর দুর্যোগ ঝুঁকি বাড়ানো অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ভবনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারণ, অপরিকল্পিত ও অবৈধ এসব ভবন রাজধানীকে শুধু বসবাসের অযোগ্যই নয়, ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এসব ভবনে ভূমিকম্প, অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো সাধারণত উপেক্ষিত থাকে। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে এসব দুর্বল কাঠামোর ভবনগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। অগ্নিপ্রতিরোধব্যবস্থা না রাখায় ভবনগুলো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। রাজউকের প্রধান কাজ নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করা। রাজউকের যে সক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়ে এ দুটি কাজ যথাযথভাবে করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। কিন্তু রাজউক প্লট ও ফ্ল্যাট নির্মাণের মতো আবাসন
প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিক মনোযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা কাঙ্ক্ষিত নয়। বরং রাজউককে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে মনোযোগী হতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সদিচ্ছার অভাবে, নাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ
সুবিধা লাভের কারণে এভাবে নগরজুড়ে হাজার হাজার অবৈধ ভবন নির্মিত হয়েছে, তারও তদন্ত প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মোটকথা, অন্যায়ের শিকড় কোথায়, তা খুঁজে বের
করতে হবে। তা না হলে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধ হবে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।