গাজার আরও দুটি হাসপাতাল ঘেরাও, খালি করতে বোমা ফেলছে আইডিএফ - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ২:০২, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

গাজার আরও দুটি হাসপাতাল ঘেরাও, খালি করতে বোমা ফেলছে আইডিএফ

newsup
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২৪
গাজার আরও দুটি হাসপাতাল ঘেরাও, খালি করতে বোমা ফেলছে আইডিএফ

নিউজ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আরও দুটি হাসপাতাল ঘেরাও করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আজ রোববার এ তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে, আইডিএফের অব্যাহত গুলি বর্ষণে হাসপাতালের ভেতর রোগী এবং চিকিৎসাকর্মীরা আটকা পড়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে খবরটি দিয়েছে।

অন্যদিকে আইডিএফের দাবি, গাজার প্রধান হাসপাতাল আল-শিফাতে চলমান সংঘর্ষে ৪৮০ জন যোদ্ধাকে বন্দী করেছে তারা। প্রায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে গাজার হাসপাতালগুলোতে। এসব হাসপাতালকে ঘাঁটি এবং অস্ত্রের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে হামাস। তবে হাসপাতালের কর্মী এবং চিকিৎসকেরা এই দাবি অস্বীকার করেছে।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, খান ইউনিসে তুমুল সংঘর্ষের মধ্যে আল-আমাল ও নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি ট্যাংক হুট করে প্রবেশের ফলে তাদের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সাঁজোয়া বাহিনী আল-আমাল হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে এবং এর আশপাশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

রেড ক্রিসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের সবগুলো দলই এই মুহূর্তে চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে এবং তারা সম্পূর্ণরূপে অচল। ইসরায়েলি সেনারা বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি ইসরায়েলি বাহিনী এখন আল আমাল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে কর্মী, রোগী এবং বাস্তুচ্যুত সবাইকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়ার দাবি করছে। অর্থাৎ, হাসপাতাল সম্পূর্ণ খালি করে দিতে বলছে তারা। হাসপাতালটি থেকে সবাইকে জোরপূর্বক তাড়াতে সেখানে বোমা নিক্ষেপ করছে ইসরায়েলি বাহিনী।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকা আল-শিফা হাসপাতাল থেকে কয়েক ডজন রোগী ও চিকিৎসাকর্মীকে আটক করেছে ইসরায়েল।

গত ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। হামাসের ওই হামলায় ইসরায়েলের ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় ৩২ হাজার ১০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৭২ হাজার ৪০০ জন।

গাজা উপত্যকা অবরোধ করে রাখায় দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে উত্তর গাজার কয়েক লাখ বাসিন্দা। ইসরায়েলের যুদ্ধে গাজার ৮৫ শতাংশ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া খাবার, ওষুধ ও খাওয়ার পানির তীব্র সংকটে ভুগছে গাজার বাসিন্দারা। জাতিসংঘ বলছে, উপত্যকার ৬০ শতাংশ অবকাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস হয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গত জানুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ এক রায়ে তেল আবিবকে গাজায় গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।