সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর জীবনী: ইসলামে অবদান ও ত্যাগের গল্প

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: সাহাবিদের মধ্যে যাঁরা হাবশা ও মদিনায় দুই জায়গাতেই হিজরত করেছিলেন, তাঁদের বলা হয় ‘সাহিবুল হিজরাতাইন’। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন সাহিবুল হিজরাতাইনের একজন। হাবশা থেকে পরে তিনি ফিরে আসেন মক্কায়। তারপর হিজরত করেন মদিনায়।

Manual8 Ad Code

মদিনায় হিজরতের কিছুদিন পর তিনি এক আনসারি নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর একদিন তিনি রাসুল (সা.)–এর খিদমতে হাজির হলেন। তাঁর কাপড়ে হলুদের দাগ দেখে রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি বিয়ে করেছ?’

আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বললেন, ‘হ্যাঁ।’

Manual4 Ad Code

রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘বিয়েতে মোহর কত নির্ধারণ করেছ?’

তিনি বললেন, ‘কিছু সোনা।’

Manual8 Ad Code

রাসুল (সা.) বললেন, ‘একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালিমা করে নাও।’ (বুখারি)

রাসুল (সা.)–এর নির্দেশে তিনি ওয়ালিমার দায়িত্ব সেরে নেন।

ইসলামের জন্য অপরিসীম ত্যাগের জন্য যাঁরা পৃথিবীর জীবনেই জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেছেন, তাঁদের মধ্যে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) অন্যতম। যৌবনের শুরুতেই ইসলাম গ্রহণ করে তিনি ইসলাম প্রচারে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত হয়েছিলেন।

ইসলামের সূচনালগ্নে ইসলাম গ্রহণকারী প্রত্যেককেই অবিশ্বাসীদের চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) হাবশায় হিজরত করেন।

হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) রাসুল (সা.)–এর সঙ্গে সব যুদ্ধেই অংশ নিয়েছেন এবং সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। ইবনে হাজারের মতে, ওহুদ যুদ্ধে ইবনে আউফের শরীরের ৩১টি স্থানে আঘাত লেগেছিল।

ষষ্ঠ হিজরির শাবান মাসে রাসুল (সা.) মদিনা থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তরে দুমাতুল জান্দালে একটি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে আবদুর রহমান (রা.)–কে তার দায়িত্ব দেন। যাত্রার আগে রাসুল (সা.) নিজ হাতে আবদুর রহমানের মাথার পাগড়ি খুলে একটি কালো পাগড়ি তাঁর মাথায় বেঁধে দেন। তারপর তাঁকে যুদ্ধের নীতি সম্পর্কে কিছু উপদেশ দিয়ে বিদায় জানান।

রাসুল (সা.)–এর নবুয়তপ্রাপ্তির পর প্রথম পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করে যাঁরা ‘সাবেকিনে আওয়ালিন’–এর বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত হয়েছিলেন, আবদুর রহমান (রা.) তাঁদের মধ্যে একজন। দারুল আরকামে রাসুল (সা.)–এর প্রশিক্ষণে তিনি ছিলেন নিয়মিত অংশগ্রহণকারী।

Manual2 Ad Code

আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন কোরআন ও হাদিসে পরিপূর্ণ জ্ঞানী, পরামর্শদানে বিজ্ঞ, বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং ফতোয়ায় অভিজ্ঞ। প্রথম তিন খলিফার খিলাফতকালে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খলিফাদের পরামর্শ দিয়ে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code