রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে এনবিআর - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, সকাল ৯:৫৫, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে এনবিআর

newsup
প্রকাশিত মে ১৮, ২০২৪
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে এনবিআর

ডেস্ক রিপোর্ট: সক্ষমতা না থাকলেও প্রতি বছরই বড় রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড -এনবিআরকে। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক নানা সংকটের প্রভাবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও প্রতিকুলতার মুখে। ডলার-সংকট ও বৈশ্বিক কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছুটা মন্দাভাব চলছে। ফলে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশ কম। বিশেষ করে আমদানি কড়াকড়ির কারণে শুল্ক খাতে বড় রাজস্ব ঘাটতি পড়েছে। সবশেষ এনবিআরের প্রকাশিত চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানা যায়, রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতার কারণে মূল লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা কমানোর পরও আরও প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। ফলে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারছে না (এনবিআর)। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার সাড়ে ৬৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া ঋণের শর্ত হিসেবে এবার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের শর্তও পূরণ করতে হবে এনবিআরকে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, রাজস্ব খাতে সংস্কারের পাশাপাশি প্রতি বছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫ শতাংশ হারে বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। এনবিআরের প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা দেখা গেছে, গত ৯ মাসে গড়ে ২৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এনবিআরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমদানি, ভ্যাট ও আয়কর- এই তিন খাতের মধ্যে কোনোটিই গত ৯ মাসে লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। এই তিন খাতের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আমদানি খাতে। এই খাতে ৯ মাসে ঘাটতি এই খাতে ৯ মাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারলে বিভিন্ন খাতে সরকারের খরচ কমাতে হয়। খরচ কমানোর অংশ হিসেবে বরাদ্দ কমানো হয় উন্নয়ন প্রকল্পে। কারণ, বেতন-ভাতা, ঋণের কিস্তি পরিশোধ, ভর্তুকি- এসব খাতে সরকারের খরচ কমানোর সুযোগ নেই। তবে এনবিআরের দেয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে কাস্টমসে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ, ভ্যাটে ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং আয়করে ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এনবিআর জানায়, মার্চে আমদানি শুল্ক থেকে ৩ হাজার ৫৬৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, মূল্য সংযোজন কর (আমদানি পর্যায়ে) ৩ হাজার ৯৮৩ কোটি ৩ লাখ, সম্পূরক শুল্ক (আমদানি পর্যায়ে) ১ হাজার ১৪২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আয় করা হয়। মার্চ মাসে রপ্তানি শুল্ক আয় হয়নি। মার্চে আবগারি শুল্ক ২০৪ কোটি ৭৮ লাখ, মূল্য সংযোজন কর (স্থানীয় পর্যায়ে) ৮ হাজার ১০২ কোটি ৭৭ লাখ, সম্পূরক শুল্ক (স্থানীয় পর্যায়ে) ৩ হাজার ৬৮৯ কোটি ৯১ লাখ ও অন্যান্য খাতে (স্থানীয় পর্যায়ে) ৯৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা আয় করা হয়। মার্চে টার্নওভার ট্যাক্স আদায় হয়নি। মার্চে আয়কর থেকে ১২ হাজার ৩৯৮ কোটি ৯ লাখ ও ভ্রমণ কর থেকে ১৯১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করা হয়। এদিকে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক থেকে ২৯ হাজার ৫৮৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা, মূল্য সংযোজন কর (আমদানি পর্যায়ে) ৩৬ হাজার ১০৮ কোটি ৪৯ লাখ, সম্পূরক শুল্ক (আমদানি পর্যায়ে) ৮ হাজার ৫৬৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা আয় করা হয়। মার্চ পর্যন্ত রপ্তানি শুল্ক আয় করা হয় মাত্র ৩ লাখ টাকা। এ নয় মাসে আবগারি শুল্ক ৪ হাজার কোটি ৫২ লাখ, মূল্য সংযোজন কর (স্থানীয় পর্যায়ে) ৬৮ হাজার ৪৭৭ কোটি ২৫ লাখ, সম্পূরক শুল্ক (স্থানীয় পর্যায়ে) ২৭ হাজার ৫৬৯ কোটি ১২ লাখ ও অন্যান্য খাতে (স্থানীয় পর্যায়ে) ৭৪৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আয় করা হয়। মার্চ পর্যন্ত টার্নওভার ট্যাক্স আয় হয়েছে মাত্র ৩৮ লাখ টাকা। মার্চ পর্যন্ত আয়কর থেকে ৮৩ হাজার ২৮৪ কোটি ৪২ লাখ ও ভ্রমণ কর থেকে ১ হাজার ৬১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করা হয়। এনবিআর বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কর আদায় বেড়েছে ১৫ শতাংশ। এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত পূরণে সহায়ক বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত আইএমএফ এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা কর-রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরে দিয়েছিল। তা পূরণ করে এক লাখ ৬২ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এনবিআরের রাজস্ব ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ে দুই লাখ ৭৬ হাজার ১৭০ কোটি টাকা কর-রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আইএমএফ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, কর বহির্ভূত রাজস্বের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এটি শর্ত পূরণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফের সাবেক অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, সংস্কার ছাড়াই ১৫ শতাংশ কর প্রবৃদ্ধি খারাপ নয়। তার মতে, কিন্তু এই হারে চলতে থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি দেখা দেবে। তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকটি খাতে বিদ্যমান কর ছাড়ের পরিমাণ কমিয়ে দিলে সরকার আগামী অর্থবছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারবে। করহার বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। বছরের পর বছর ধরে জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও হাতছাড়া হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের কারণে রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি কর আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।